মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৯

[ Visit God's Own Country Kerala-Malabar Tourism ]

SOME VALUABLE INFORMATIONS ABOUT KERALA:-

           প্রাচ্যের ভেনিস ( Venice of East ) বলা হয় কেরালাকে। কারণ, নদী, খাড়ি, জলপ্রপাত, লেগুন, ব্যাকওয়াটার ও সমুদ্র মিলিয়ে জলভাগের পরিমাণ অনেকটাই বেশি। প্রকৃতি দেবী ( Great Nature ) তাঁর অকৃপণ হাতে এই রাজ্যকে ঢেলে সাজিয়ে তুলেছেন। কেরলের প্রাকৃতিক সম্পদ অতুলনীয় ও সৌন্দর্য অপরূপ। প্রচুর গাছপালা, পাহাড়, চা-কফি-মশলা-রাবার বাগান-নীল কুরঞ্জি ফুল ( Neela Kurinji Flower ) নিয়েই " God's Nest in God's Own Country Kerala "। মালয়ালম ভাষা অনুসারে কেরালা শব্দটিকে বিভক্ত করলে অর্থ দাঁড়াবে নারকেলের দেশ ( The Country of Coconut )। এর পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র নিকটবর্তী বিশাল অঞ্চল জুড়ে নারিকেল গাছের আধিক্য চোখে পড়ার মতো। শুধু দক্ষিণ ভারতই ( South India ) নয় সমগ্র ভারতের নিরিখে এই রাজ্য হলো সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত ( Absolutely Polution Free State )। অনেকরকম মশলা, সুগন্ধি এবং ঔষধি গাছ মেলে এর বনাঞ্চলে। এর সামাজিক সংস্কৃতি, শিল্পকলাও প্রাচীন যুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিশ্ববন্দিত। প্রধান খাদ্য ( Main Food Habits) ভাত ও মাছ। শুধু খাদ্যরুচিতেই নয়, অনেককিছুতেই বাংলার সাথে যথেষ্ট মিল আছে। সারা বছর ধরে এখানে দেশ-বিদেশের বহু মানুষ আসেন ভ্রমণ ও রোগ নিরাময়ের উদ্দেশ্য নিয়ে। আয়ুর্বেদিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধির যন্ত্রনা থেকে মুক্তি দিতে কেরলের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। আ্যট একটি চরম আকর্ষণীয় ব্যাপার হলো এই রাজ্যের সী বিচ গুলিতে বিভিন্ন প্রকার হারবাল বডি ম্যাসেজের ( Full Herbal Body Massage ) বন্দোবস্ত। যা শরীরের পক্ষে অত্যন্ত আরামদায়ক ও উপকারী। মুন্নারসহ কেরলের বিভিন্ন সুন্দর সুন্দর স্থানে অনেক বিশ্বমানের স্কুল-কলেজ-হাসপাতাল আছে। যার উন্নতমানের পরিষেবা নেওয়ার জন্য আমরা বাংলার মানুষেরা অনেকেই বিগত কয়েক দশক ধরে, বলা যায় ১৯৭০ সালের পর থেকে কেরালাগামী হচ্ছি। এখানকার দৈনন্দিন খরচ-খরচাও ভারতের যে কোন রাজ্যের থেকে অনেকটাই কম।

         এর রাজধানীর ( Capital City ) নাম তিরুবনন্তপুরম / ত্রিবান্দ্রম ( Thiruvananthapuram )। এটি রাজ্যের স্বীকৃতি পায় ১৯৫৬ সালের ১লা নভেম্বর। মোট এলাকা ( Total Area ) বা আয়তন হলো ৩৮৮৬৩ বর্গকিলোমিটার অর্থাৎ ১৫০০৫ বর্গ মাইল। মোট জনসংখ্যা  ( Total Population ) ৩৩৩৮৮০০০। জনঘনত্ব ( Population Density ) অর্থাৎ প্রতি বর্গ কি.মি.তে বাস করেন ৮৬০ জন। প্রতি ১০০০ পুরুষ পিছু নারীর সংখ্যা ১০৮৪ জন ( Sex Ratio of Male and Female )। সাক্ষরতার ( Percentage of Literacy ) হার ৯৪%। প্রধান সরকারি ভাষা ( Main Official Language ) মালয়ালম। অন্যান্য ভাষাগুলি ( Other Languages ) হল ইংরেজি, তামিল। গড় আয় ( Per Capita / Per Head Annual Income ) ১৭৯৫২০ টাকা। এখানকার মানুষদের Keralite এবং Malayali বলা হয়। মোট ১৪টি জেলা ( Total Number of Districts is 14 ) আছে। যথা, কাসারাগড় ( Kasaragod ), কান্নুর ( Kannur ), ওয়ানাড ( Wayanad ), কোঝিকোড় ( Kozhikode ), মালাপ্পুরম ( Malappuram ), পালাক্কাড ( Palakkad ), ত্রিচুর ( Thrissur ), এর্নাকুলাম ( Ernakulam ), ইদুক্কি ( Idukki ), কোট্টায়ম ( Kottayam ), আলাপ্পুঝা ( Alappuzha ), পাথনামথিত্তা ( Pathanamthitta ), কোল্লম ( Kollam ), তিরুবনন্তপুরম ( Thiruvananthapuram )।

Government Official Portal -
https://www.kerala.gov.in

Tourism Website -
http://www.keralatourism.gov.in

AVERAGE WEATHER OR CLIMATE. WHEN SHOULD YOU GO THERE? / BEST TIME TO VISIT OR TRAVEL THIS STATE:-

               বছরভর বেড়ানো গেলেও অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সময়ই ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। এই মাসগুলোতে আবহাওয়া থাকে অত্যন্ত মনোরম। বৃষ্টিপাত প্রায় হয় না বললেই চলে। এখানে শীত বা গ্রীষ্ম কোনটারই সেরকম আধিক্য নেই। গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা থাকে ২৪ থেকে ৩৩°, বর্ষাকালে ২২ - ২৮° এবং শীতকালে ২২ থেকে ৩২° সেলসিয়াসের মধ্যে। দুই দিকে সমুদ্র থাকার জন্য এখানকার বাতাসে আদ্রতা অত্যন্ত বেশি। বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত অত্যাধিক বেশি হয়।

ALL TOTAL LIST OF 37 VERY BIG, MOST POPULAR OR FAMOUS LOCAL FAIRS & MAJOR FESTIVALS:-

(i) Onam, (ii) Kerala Boat Festival, (iii) Temple Festivals, (iv) Theyyam Utsav, (v) Vishu Festival, (vi) Attukaal Pongal, (vii) Christmas, (viii) Easter, (ix) Kodungalloor Bharani, (x) Mandala Pooja, (xi) Chembai Sangeetholsavam Guruvayoor, (xii) Payippad Jalotsavam, (xiii) Makaravillakku Sabrimala Festival, (xiv) Kerala Village Mela, (xv) Aluva Temple Sivarathri Fair & Festival, (xvi) Chandana Kudam Mahotsavam, (xvii) Nishagandhi Dance and Music Festival, (xviii) Kalpathi Chariot Fest, (xix) Adoor Gajamela, (xx) Ramadan, (xxi) Bakri Eid, (xxii) Muharram, (xxiii) Miladi Sharif, (xxiv) Maha Shivratri, (xxv) Diwali / Deepavali, (xxvi) Thrissur Pooram, (xxvii) Attukaal Pongala at Attukal Temple Thiruvananthapuram, (xxviii) Vrishchikotsavam at Sree Poornathrayeesa Temple, (xxix) Utsavams Padmanabhaswamy Temple Trivandrum, (xxx) Ashtami Vaikom Temple Kodungallor Bharani, (xxxi) Chettikulangara Kumbha Bharani Mavelikkara, (xxxii) Maradu and Padanilam Parabrahma Mandir Mavelikkara, (xxxiii) Ponkalamaholsavam Anikkattilammakshethram Mallappally, (xxxiv) Thiruvabharana Ghoshayathra Valiyakoickal Temple Pandalam, (xxxv) Vela Nenmara Vallanghy, (xxxvi) Kalpathy Patholsavam, (xxxvii) Kalpathi Palakkad.

এই রাজ্যের যেকোন জায়গায় যাওয়া আসা, থাকা খাওয়ার ব্যাপারে আগে থাকতে অনলাইন বুকিং-এর জন্য নীচের বিশ্বস্ত ওয়েবসাইটগুলির মধ্যে এক বা একাধিক ব্যবহার করতে পারেন। [ FOR ONLINE BOOKING OF FOODS / FLIGHTS, TRAIN / RAILWAY RESERVATION, HOUSES ON RENT/ FLATS RENTAL / LODGES / RESORTS / HOMESTAYS / TENTS / HOTELS ROOMS IN ANY PLACE WITH DISCOUNT, CHEAP AIR TICKETS, BUS BOOKING, CAR HIRE ]:-
1. https://www.trivago.in
2. https://www.goibibo.com
3. https://www.makemytrip.com
4. https://www.yatra.com
5. https://www.cleartrip.com
6. https://www.tripadvisor.in
7. https://www.ixigo.com
8. https://www.zomato.com

কেরালার সাতটি প্রধান ও অতি জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী উৎসব। 7 Major and Most Popular Traditional Festivals in Kerala:-

                   বৃহৎ শিল্পে সেরকম উন্নত না হলেও কৃষি, জনস্বাস্থ্য ও সার্বিক শিক্ষায় যথেষ্ট উন্নত এই রাজ্য। এখানকার অধিবাসীরা যথেষ্ট ধর্মপ্রাণ। তাই প্রত্যেকটি গ্রামেই মন্দির, মসজিদ, গীর্জা দেখা যায়। এনারা সবসময়েই আনন্দে মিলেমিশে থাকতে ভালোবাসেন। সেকারণেই সারা বছরই রাজ্যজুড়ে কোন না কোন উৎসব লেগেই রয়েছে। নাচেগানেও যথেষ্ট সমৃদ্ধ। অনেক প্রাচীনকাল থেকে উত্তর কেরলে আদিবাসী নৃত্যকলা থেয়াম, কলারিপায়াট্টু (Tribal Dance Theyyam, Kalaripayattu) প্রচলিত রয়েছে। অন্যান্য প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা নৃত্যশৈলীর মধ্যে রয়েছে রামায়ণ, মহাভারত ও বিভিন্ন পৌরাণিক আখ্যানের উপর নির্ভরশীল কথাকলি (Kathakali), মহিলাশিল্পীদের মোহিনীঅট্টম (Mohiniattam), তুল্লাল (Tullal), ৯ মিটার উঁচু মুখোশে সজ্জিত সংস্কৃত নাটক কুটিয়াট্টাম নৃত্য (Kutiyattam Dance) আপন গুণমানে সারা বিশ্বে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। কর্ণাটকি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতেরও (Karnataki Classical Music) বিশ্বের দরবারে যথেষ্ট কদর রয়েছে।

(১) Elephant March - প্রতি বছর জানুয়ারি মাসের ৯ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে এই উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়। ১০১ টি দাঁতাল হাতিকে ঝলমলে সাজে সাজিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। আর তা দেখতে দেশ-বিদেশের পর্যটকেরা আসেন থ্রিসুরে ( Thrissur )। প্রতিটি হাতির মাথায় থাকে ছাতা। পর্যটকেরা চাইলে পিঠে চড়ার সুযোগ পেতে পারে। এর সূচনা থ্রিসুরে হলেও তিরুবনন্তপুরম বা ত্রিবান্দ্রমেও যথেষ্ট জনপ্রিয় এই বাৎসরিক উৎসব এলিফ্যান্ট মার্চ।

(২) Thrissur Puram - এপ্রিল ও মে মাস নাগাদ থ্রিসুরের আর এক জনপ্রিয় উৎসব পুরম। ঝলমলে সাজে সজ্জিত হয়ে দুই সারিতে ৩০ টি করে হাতি মিছিল করে চলতে থাকে। হাতির পিঠে ৩ জন করে পুরোহিত হাতে রঙীন বাহারি ছাতা নিয়ে বসে থাকেন। হাতির প্রতিযোগিতা ও মিছিল দেখতে কাছে এবং দূরের অনেক জায়গা থেকে মানুষ আসেন পুরম উৎসবে অংশগ্রহণ করতে। এই সময়ে নাচে, গানে, বাজনায় মেতে ওঠে Thrissur. রাতে আতশবাজিও পোড়ানো হয়।

(৩) Boat Races - প্রতি বছর আগস্ট মাসের দ্বিতীয় শনিবার আলাপুঝার পম্পা নদীতে ( Pampa River in Alappuzha ) ১০০ দাঁড়বিশিষ্ট সুসজ্জিত নৌকার দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় যা অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি খেলা। নেহেরু ট্রফি জেতার এই রেসে ছাড়া সাপ হুডে নিয়ে শতাধিক একশো দাঁড়ের নৌকা এই লোমহর্ষক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর হাতে এই Boat Race Competition-এর শুভ সূচনা হয়। পুরস্কারটিও নেহেরুজির দান।

(৪) Kochi Carnival - ডিসেম্বর মাসের ২৫ থেকে ৩১ তারিখ পর্যন্ত এক সপ্তাহব্যাপী নাচ-গান-বাজনার নববর্ষ উৎসব অর্থাৎ কোচি কার্নিভাল সাড়ম্বরে পালিত হয় Kochi শহরে।

(৫) Nishagandhi Dance Festival - প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসের ২১ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত ৭ দিন তিরুবনন্তপুরমের নিশাগান্ধী মুক্ত মঞ্চে ( Nishagandhi Open Theatre, Thiruvananthapuram ) ধ্রুপদী নাচের আসর বসে। ভারতনাট্যম, কত্থক, ওড়িশি, মোহিনীঅট্টম প্রভৃতি নৃত্যকলা প্রদর্শিত হয় এই নৃত্য উৎসবে। বিশ্বের নৃত্যপ্রেমীদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়। দেশ-বিদেশের প্রচুর দর্শকও আসেন এই উৎসবে যোগদান করতে। অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত প্রতি শনিবার নিশাগান্ধী থিয়েটারে কেরালা রাজ্য পর্যটন দপ্তর দ্বারা আয়োজিত All India Dance Festival-এর আকর্ষণও অনবদ্য।

(৬) Food Festival - খাদ্যরসিকদের কাছে সুপরিচিত এই খাদ্যোৎসবটি প্রতি বছরে এপ্রিল মাসের ৫ থেকে ১১ তারিখের মধ্যে তিরুবনন্তপুরমে অনুষ্ঠিত হয়। খাদ্যরসিকেরা কেরলীয় এবং অন্যান্য ভারতীয় সুস্বাদু খাবারের স্বাদ গ্রহণ করতে পারেন এই উৎসব প্রাঙ্গণে এসে।

(৭) Onam - এপ্রিল মাসের বৈশাখী নববর্ষে ধান বোনার উৎসবকে বলে বিশু, আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে ৭ দিন ধরে ধান কাটার উৎসবকে বলে ওনাম। এই ওনামই হলো কেরালার জাতীয় উৎসব। ওনাম উৎসবের সময় পর্যটন সপ্তাহ পালন করা হচ্ছে। এই সময়ে ব্যাকওয়াটারে নৌকা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

TOP PLACES TO VISIT OR MAJOR TOURIST ATTRACTIONS IN KERALA WITH PROPER TOUR PLAN ON MAIN TRAVEL DESTINATIONS AND OTHER NEAREST BEAUTIFUL SPOTS:-

Trivandrum / Thiruvananthapuram - ১৭৫০ খ্রিস্টাব্দে ত্রিবাঙ্কুর রাজ্যের রাজধানী পদ্মনাভপুরম থেকে স্থানান্তরিত হয়ে আসে বর্তমানের কেরালা রাজ্যের রাজধানী তিরুবনন্তপুরমে। পরে ব্রিটিশদের উচ্চারণের গুণে এর নাম হয় ত্রিবান্দ্রম। স্বাধীনতার পরে আবার আগের নামেই চলে আসে এই পবিত্র অনন্তনাগের শহরটি। সহ্যাদ্রি পর্বতের সাত পাহাড়ের মনোরম প্রকৃতির মাঝে এই সুন্দর শহরটি গড়ে উঠেছে। একে Pleasure Garden of South India-ও বলা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের টাকায় এই নগরীর রূপ আরও খোলতাই হয়েছে। সরু আঁকাবাঁকা গলিতে লাল টালি ছাওয়া অতীতের প্যাগোডাশৈলীর বাড়িঘর যেমন রয়েছে তেমনি বড়ো রাস্তার আশেপাশে আধুনিক স্থাপত্যের বড়ো বড়ো বিল্ডিংও আছে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ফুলের বাগান ও সাজানো সবুজ পার্কগুলি এই বিশাল শহরের সৌন্দর্যবর্ধনে সাহায্য করেছে। এখনও পর্যন্ত গগনচুম্বী অনেক উঁচু বাড়ির যথেষ্ট অভাব রয়েছে। পরতে পরতে প্রমাণ হয় এটি হেরিটেজ শহর। তবে, বাইরের পর্যটকদের কাছে এর মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হলো কাছের কোভালাম সমুদ্র সৈকত ( Kovalam Sea Beach )। Kerala Tourism Development Corporation-র কনডাকটেড ট্যুরে অথবা চুক্তিতে ট্যাক্সি বা অটো ভাড়া করে কোভালাম সহ শহরের প্রধান দ্রষ্টব্যস্থলগুলি ১ বা ২ দিনে ঘুরে নিতে পারেন।

রেল স্টেশন থেকে ৭ থেকে ১০ মিনিটের হাঁটাপথে মহাত্মা গান্ধী রোডের দক্ষিণ-পশ্চিমে ইস্ট ফোর্ট বাসস্ট্যান্ডের উল্টোদিকে শ্রীপদ্মনাভস্বামী মন্দির ( Sree Padmanabhaswamy Temple, West Nada, East Fort, Pazhavangadi, Thiruvananthapuram, Kerala - 695023 ) অবস্থিত। ত্রিবাঙ্কুর রাজ্যের গৃহদেবতা হলেন এই পদ্মনাভস্বামী অর্থাৎ বিষ্ণু। শোনা যায় যে, ঋষি বিল্বমঙ্গলম বিষ্ণুর দর্শনে বেরিয়ে দেখেন একটি গাছ ভেঙে পড়ে অনন্তনাগের উপরে অনন্তশয়নে থাকা বিষ্ণু দেবতার মূর্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে। মাথার উপরে ছাতার মতো ফণা তুলে অনন্তনাগ বিরাজ করছে আর পায়ের কাছে রয়েছেন লক্ষ্মী দেবী যার মস্তকে ধরিত্রী দেবী। এই দেবালয়ে দেবতার পূর্ণাঙ্গরূপ তিনটি দরজা দিয়ে দেখতে হয়। আবার, অর্চনা টিকিট কেটে প্লাটফর্ম থেকেও দেব দর্শন করে নিতে পারেন। ১৭৩৩ খ্রিস্টাব্দে মন্দিরের ব্যাপক সংস্কার করা হয়। অতুলনীয় দ্রাবিড়ীয় শৈলীর ভাস্কর্য মন্ডিত প্যাগোডাধর্মী ৩০ মিটার উঁচু গোপুরমটি পর্যটকদের মোহিত করে। গোপুরমের উপর থেকে পুরো শহরকেই পাখির নজরে দেখে নেওয়া যায়। সিংহদুয়ার দিয়ে প্রবেশ করে সোনায় মোড়া সেগুন কাঠের মিনার দেখতে পাবেন। সুন্দর ভাস্কর্য মন্ডিত গ্রানাইট পাথরের ৩৬৮ টি থামের উপরে মূল মন্ডপ কুলশেখর ( Kulashekhara Mandapa ) অবস্থিত। ২৮ টি মনোলিথ স্তম্ভ রয়েছে মন্দিরের আসল অংশে। প্রতিটি স্তম্ভে আছে অসংখ্য ছোট ছোট স্তম্ভ। এগুলোর একটিতে কান পেতে পাশেরটিতে আঘাত করলে মৃদঙ্গের শব্দ শোনা যায়। মন্দিরের পাশেই আছে পদ্মতীর্থম সরোবর। মার্চ-এপ্রিল ও অক্টোবর-নভেম্বর মাসগুলোতে দশ দিন ব্যাপী উৎসব পালিত হয়। দেবতার মূর্তি নিয়ে জমকালো মিছিল চলে সমুদ্র সৈকতে। এই বর্ণাঢ্য মিছিলে ধুমধাম করে বাজি পোড়ানো, লোকনৃত্য প্রদর্শিত হয় ও কিছু হাতিও থাকে। এই মন্দিরে প্রবেশের ব্যাপারে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। কেবলমাত্র হিন্দুধর্মাবলম্বীরাই এখানে প্রবেশ করতে পারেন। প্রবেশদ্বারে ভাড়ায় পাওয়া ধুতি লুঙ্গির মতো করে পরে পুরুষদের প্রবেশ করতে হয়।

মন্দিরের নিকটে রয়েছে CVN Kalari Sangam - যেখানে সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে বেলা আটটা পর্যন্ত শরীর গঠনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এখানকার আর এক আকর্ষণ হলো আয়ুর্বেদিক ম্যাসাজ ( Herbal Full Body Massage )। আপনি চাইলে ম্যাসাজ করাতে অথবা আয়ুর্বেদিক ডাক্তারের পরামর্শও নিতে পারেন যদি শারীরিক অসুস্থতা থাকে বা শরীর সুস্থ রাখতে চান। এনাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট লিঙ্ক - ( http://www.cvnkalari.in )

আবার মন্দির অতিক্রম করে ওয়েস্ট ফোর্টে ( Margi Theatre, West Fort ) মার্গি থিয়েটার অর্থাৎ কথাকলি নৃত্য শিক্ষার স্কুল ঘুরে আসুন। কথাকলি নৃত্যশৈলী সম্পর্কে অজানা অনেক তথ্য জানতে পারবেন।

দক্ষিণ-পূর্বে Kuthira Malika Palace-টি অবস্থিত। ত্রিবাঙ্কুরের রাজা ১৭৫০ খ্রিস্টাব্দে পদ্মনাভপুরম থেকে এখানে এসে এই প্রাসাদটি নির্মাণ করেন। সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার রয়েছে। প্রাসাদ চত্বরে একটি মিউজিয়াম তৈরি করা হয়েছে। যার নাম Sri Swathi Thirunal Museum. কেরলীয় কারুকার্যের সেগুন কাঠের তৈরি অশ্বরূপী ১২২ টি কাঠের স্তম্ভ, লাল টালির ছাদের প্রাসাদে খোদাই করা কাঠের ঝালরের মাধ্যমে বাতাস এনে ঘর ঠান্ডা রাখার প্রক্রিয়া, অতীতের আসবাবপত্র, বেলজিয়াম ঝাড়বাতি, বেলজিয়াম কাট গ্লাস, হাতির দাঁতের চেয়ার, ডাচদের দেওয়া ক্রিস্টাল সিংহাসন, নানারকম ছবির সংগ্রহ, অনেক ধরনের বাদ্যযন্ত্র ছাড়াও আরও অনেক কিছু দর্শনীয় বস্তু রয়েছে। সোমবার ছাড়া যেকোন দিন সামান্য দামের টিকিট কেটে মিউজিয়ামটি দেখে নেবেন।

উত্তরে শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবজারভেটরি পাহাড়ে ৮০ একর জায়গা জুড়ে রয়েছে Park View অর্থাৎ চিড়িয়াখানা ও বটানিক্যাল গার্ডেন ( Thiruvananthapuram Zoo and Botanical Garden, Observatory Hill )। এই বিশাল চত্বরে এসে উপরি পাওনা হিসেবে পাবেন আর্ট মিউজিয়াম, শ্রীচিত্রা আর্ট গ্যালারি ( Sri Chitra Art Gallery ), ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম ( Natural History Museum ), শ্রীচিত্রা এনক্লেভ ( Sreechithra Enclave ), কে. সি. পানিক্কর গ্যালারি ( K. C. Panikkar Gallery ), শিশু উদ্যান ( Children's Park ), পাঠাগার ( Brothers Reading Room Library ) ইত্যাদি। এখানে অনেক রকম মাছ, পশুপাখি, জীবজন্তু দেখতে পাবেন। পুরো চত্বর জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অনেকগুলি টয়লেট ও খাবারের স্টল ( Public Toilet and Food Stall )। কাজেই অনেকক্ষণ ধরে নিশ্চিন্তে ঘুরে ঘুরে সবকিছু দেখে নিতে পারবেন। নিরাপত্তার জন্য রয়েছে একটি পুলিশ স্টেশন ( Museum Police Station )। নিরাপত্তাহীনতার কোন কারণ দেখলে এই থানায় যোগাযোগ করে পুলিশের সাহায্য নিয়ে নেবেন।

নারী নির্যাতন ও কন্যাসন্তানের প্রতি অবহেলাসহ ইত্যাদি মেয়েদের প্রতি বিভিন্ন অমানবিক প্রথার প্রতিবাদী লর্ড চার্লস নেপিয়ারের সম্মানার্থে বটানিক্যাল গার্ডেনের পাশে ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে তৈরি হয়েছে নেপিয়ার মিউজিয়ামটি ( Napier Museum )। ইন্দো-সেরাসেনিক স্থাপত্যশৈলীর প্রাসাদোপম বাড়িটিতে রয়েছে অনেকগুলি সুন্দর রঙীন চিত্রিত মিনার, রঙীন কাঁচের জানালা, কাঠের সিলিং, ধনুকাকৃতি খিলান, টালির ছাদ ইত্যাদি সবকিছুতেই দেখা যায় অভিনবত্বের ছোঁয়া। নানাবিধ অলঙ্কার, বাদ্যযন্ত্র, হস্তশিল্প, আট থেকে আঠারো শতকের মধ্যবর্তী সময়ের ব্রোঞ্জমূর্তির সংগ্রহ, সপ্তম শতকের চোল স্থাপত্য, জৈন ও বৌদ্ধ ভাস্কর্যও প্রদর্শিত হয়েছে। কথাকলি নৃত্যশিল্পীদের মডেলের সাথে নায়ার যৌথ পরিবারের সদস্যদের মডেল মূর্তি, ৩০০ বছরেরও বেশি সময়ের পুরোনো মন্দির রথ ( Temple Car ) ইত্যাদি হলো প্রধান প্রধান দ্রষ্টব্য। সোমবার বন্ধ থাকে।

মিউজিয়াম ও জু চত্বরেই রয়েছে চিত্রালয়ম বা Sree Chitra Art Gallery ছবি সংগ্রহশালা। এটি ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয়। এখানে রবি ভার্মা ও মাইকেল রোয়েরিক ছাড়াও অনেক বিখ্যাত শিল্পীর মডার্ন আর্টের বিশাল সম্ভার রয়েছে। এর পাশাপাশি রাজপুত, মোগল, তাঞ্জোর, বালি, তিব্বতীয়, চীনা ও জাপানি ছবিগুলিও বিশেষ প্রশংসার দাবি রাখে। এই Chitralayam-টিও সোমবার বাদে সপ্তাহের অন্যান্য দিন খোলা থাকে।

অবজারভেটরি হিলস বা ৫০ একর ব্যাপ্ত জু সাফারির সর্বোত্তম আকর্ষণ হলো তিরুবনন্তপুরম সমুদ্র সৈকত থেকে সংগ্রহ করা জলজ উদ্ভিদ ও জলজ প্রাণী দিয়ে সাজানো অ্যাকোয়ারিয়াম ( Aquarium, Trivandrum Zoo )। সামুদ্রিক মাছের বৈচিত্র্য উল্লেখ করার মতো। এখানে অনেক দুষ্প্রাপ্য সামুদ্রিক প্রাণীও প্রদর্শিত হয়েছে। এই অ্যাকোয়ারিয়ামটিকে সমগ্র এশিয়া মহাদেশের মধ্যে সর্বাধুনিক ও বৃহত্তম বলে আখ্যা দেওয়া হয়। এই শহরে ঘুরতে আসলে অবশ্যই এটি দেখবেন। সোমবার ছাড়া প্রতিদিন এটি খোলা পাবেন।

এই নগরীর আর এক দ্রষ্টব্যস্থল হলো এয়ারপোর্ট লাগোয়া শানগুমুঘাম সৈকত ( Shangumugham Sea Beach )। এখানকার বেশ কয়েকটি আকর্ষণের মধ্যে অন্যতম সেরাটি হলো অপরূপ সূর্যাস্ত দর্শন। ট্যুরিস্টদের বিনোদনের নানা বন্দোবস্ত রয়েছে। যেমন, ইনডোর রিক্রিয়েশন ক্লাব, চিলড্রেন্স ট্রাফিক ট্রেনিং পার্ক, স্টার শেপড রেস্টুরেন্ট, স্কেটিং রিং ইত্যাদি। কানাই কুনহিরমন এর সৃষ্ট দুটি ভাস্কর্য - রূপসী মৎস্যকন্যা ও ৩৫ মিটার দীর্ঘ শামুক দিয়ে তৈরি করা নগ্ন সুন্দরী মহিলা মূর্তি এই জায়গার সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। কাছেই রয়েছে ভেলি বিচ ও ভেলি ট্যুরিস্ট ভিলেজ ( Veli Sea Beach and Veli Lake Tourist Village )। দুটিই খুব সুন্দর জায়গা। এই ভেলি ব্যাকওয়াটার উপহ্রদে আছে বোটিং-এর ব্যাবস্থা। ১৮ একর ব্যাপী মনোরম সাজানো সবুজ বিশাল বাগানে টয় ট্রেন চলছে। বাগিচার মাঝে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা Kanai Kunhiraman - এর নানা সুন্দর সুন্দর ভাস্কর্য Veli Village Park-এর আকর্ষণ আরো বাড়িয়ে তুলেছে। KTDC-র ভাসমান রেস্তোরাঁ ( Floating Restaurant ) ছাড়াও অন্য রেস্তোরাঁ, আইসক্রিম পার্লার, ছোট খাবারের স্টল বিদ্যমান। সকাল ৮ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত Veli Amusement Park-টি খোলা থাকে। থাকারও সুবন্দোবস্ত রয়েছে। যেমন, সরকারি যুব আবাস ( Government Youth Hostel ), Lake Side Heritage Cottage, Veli Star Resort.

মাসকট হোটেলের কাছে আছে সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি মিউজিয়াম এন্ড প্রিয়দর্শিনী প্ল্যানেটরিয়াম ( Kerala State Science & Technology Museum & Priyadarsini Planetarium, Near KTDC Mascot Hotel )। থাইকড এলাকায় আছে চাচা নেহেরু চিলড্রেন্স মিউজিয়াম (  Chacha Nehru Children's Museum, Thycaud )। এখানে এলে নানারূপ মুখোশ, দুই হাজার পুতুল ও দেশ-বিদেশের পোশাকের বৈচিত্র্যপূর্ণ সম্ভার দেখতে পাবেন। বাচ্চাদের খুবই ভালো লাগবে।

শহরে অতীত দিনের দূর্গ, আইনসভা ভবন, মহাকরণ, রবীন্দ্র শতবার্ষিকী নাট্যশালা, বিশ্ববিদ্যালয় ভবনও আধুনিক সৌধ হিসাবে কম আকর্ষণীয় নয়। কাছের সমুদ্রোপকূলে জেলেদের গ্রাম থুম্বায় ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ISRO-র Thumba Equatorial Rocket Launching Station (TERLS) স্থাপিত হয়েছে ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে। এই থুম্বায় Vikram Sarabhai Space Centre ও Space Museum রয়েছে। যদিও ভিতরে ঢুকে দেখতে পারবেন না। বাইরের রাস্তা থেকে দেখে নিতে হবে।

শহর থেকে ১১ কি.মি.র মধ্যে রয়েছে আক্কুলাম ট্যুরিস্ট ভিলেজ ( Akkulam Tourist Village )। লেকের জলে বোটিং হয়। চিলড্রেন্স পার্কও আছে। সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। কারমালা নদীর তীরে Aruvikara Picnic Spot and Water Falls দর্শন করবেন। এটি খুব আকর্ষণীয় ট্যুরিস্ট স্পট।

কৌড়ীয়ার গার্ডেনসে ত্রিবাঙ্কুর রাজ পরিবারের ১৫০-এরও বেশি ঘর বিশিষ্ট অনুপম স্থাপত্যের কৌড়ীয়ার প্রাসাদটি ( Kowdiar Palace, Estate of Travancore Royal Family ) অবশ্যই দেখে নেবেন। মহারাজার প্রাইভেট সেক্রেটারির অনুমতি সাপেক্ষে পুরো প্রাসাদ ঘুরে দেখা যায়।

তিরুবনন্তপুরমের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ৫৮ কি. মি. দূরত্বে অতীতের ত্রিবাঙ্কুর রাজ্যের রাজধানী পদ্মনাভপুুুুুরম ( Padmanabhapuram ) আর একটি ঐতিহাসিক ভ্রমণস্থল। ১৯৫৬ সালে রাজ্য পুনর্গঠনের কারণে এটি তামিলনাড়ু রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। এখান থেকে কন্যাকুমারীর দূরত্ব মাত্র ৩৩ কিলোমিটার। প্রধান আকর্ষণ হলো কাঠ ও পাথর দিয়ে তৈরি করা প্যাগোডাধর্মী অশ্বজীনরূপী প্রাচীন ত্রিবাঙ্কুর রাজ্যের প্রাসাদ কমপ্লেক্স ( Padmanabhapuram Palace  Complex )। প্রায় ৬ একরের কমপ্লেক্সে মোট ১৪ টি প্রাসাদ আছে। ভি. আই. পি. মিটিং হল পুমুঘামের সিলিং তৈরি হয়েছে মেহগনি কাঠ দিয়ে ৯০ টি পদ্মফুলের আকারে। এই অংশের মেঝে, জানালা সবই বৈচিত্র্যময়। কালো পাথরের মতো দেখতে মেঝে তৈরি হয়েছে নারকেলের মালার ছাই, চুুন ও ডিমের খোলার মিশ্রণে। এছাড়া, কোষাগার, জেনানা মহল, নাচ ঘর, মন্ত্রনালয় ইত্যাদি প্রতিটি অংশই শ্রেষ্ঠত্বের দাবি রাখে। দুই ডাইনিং হলে প্রতিদিন ২০০০ ব্রাহ্মণকে রাজা নিজের হাতে খাবার পরিবেশন করতেন।

প্রাসাদ সংলগ্ন রামস্বামী মন্দিরে ৪৫ টি প্যানেলে রয়েছে রামায়ণের আখ্যান। ১৮ শতকের দেওয়াল চিত্রও দেখার মতো। ৯০ রকমের ফুলের নকশা কাটা ঠাকুরঘরে দেবতা বিষ্ণু প্রতিষ্ঠিত। তাঁর শয্যাটি নির্মিত হয়েছে সেগুন কাঠে। মন্দিরের নীচের ঘরে মহারাজার শয়নকক্ষ। ৬৭ রকমের ভেষজ কাঠ দিয়ে তৈরি মহারাজার পালঙ্কটি কারুকার্য খচিত ও নানা মূর্তি শোভিত। একইসাথে লাগোয়া প্রত্নতত্ত্ব মিউজিয়ামটিও ( Archeological Museum ) দেখে নেওয়া উচিৎ হবে। সোমবার বন্ধ। অন্যান্য দিন সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৫ টা অবধি খোলা থাকে। এই স্থান দর্শন করে ১৩ কি. মি. দূরের নাগেরকয়েল ( Nagercoil ) এবং ১৯ কি. মি. দূরত্বের শুচীন্দ্রমও ( Suchindram ) ঘুরে নিতে পারেন বাসে, গাড়িতে করে অথবা কনডাকটেড ট্যুর প্যাকেজে।

কনডাকটেড ট্যুর ( Conducted Your ) - শহরের দক্ষিণ-পূর্বে রেল স্টেশন অবস্থিত। আর তার ঠিক উল্টো দিকে রয়েছে দূরপাল্লার বাস টার্মিনাল। এর ঠিক এর পাশেই আছে KTDC-এর সদর দপ্তর। এদের মাধ্যমে হোটেল বুকিং, গাড়ি ভাড়া ও প্যাকেজ ট্যুরে এই শহর সহ কেরালার প্রধান দ্রষ্টব্য স্থানগুলি ঘুরে নিতে পারেন। সর্বশেষ তথ্যের জন্য ও ভ্রমণ সংক্রান্ত যেকোন সাহায্য পেতে উল্লেখিত ঠিকানায় যোগাযোগ করুন ( Office Contact Address ) -
For Latest Informations ( KTDC, Tourist Reception Centre, Subramaniam, Station Road, Thampanoor, Thiruvananthapuram - 695001, Tel. No. - 2330031 ).

For Hotel Booking ( KTDC, Central Reservations, Mascot Square, Thiruvananthapuram - 33, Phone No. - 2316736/2725213 - Extn. 609, Fax - 2721254.

এখানে বেড়াতে আসলে Park View Road-এ স্থিত Tourist Information Centre-এর ব্যবস্থাপনায় কথাকলি নাচের আসরও দেখে নিতে পারেন।

জনপ্রিয় খাবারের সেরা জায়গা ( Best Places For Popular Foods ) - কেরালার নিরামিষ ও আমিষ খাদ্যে প্রচুর বৈচিত্র্য রয়েছে। তবে, এখানে আমিষের চেয়ে নিরামিষের দাপট বেশি দেখা যায়। এই শহরের হোটেলগুলোর খাবারের মেনুতে নারকেল, মশলা ও তেঁতুলের প্রয়োগ বেশি করা হয়। আমিষ মেনুগুলিতে বিফ্ ও সি ফুডের প্রাধান্য বেশি। নিরামিষ খাবারের জন্য রয়েছে রেল স্টেশনের কাছে আরাধনা রেস্টুরেন্ট। কাছের খাইবার রেস্তোরাঁয় মেলে চীনা ও কন্টিনেন্টাল ডিশ। সেক্রেটারিয়েটের কাছে আছে হোটেল উডল্যান্ডস। বাসস্ট্যান্ডের বামদিকে আছে ইন্ডিয়ান কফি হাউস। সেক্রেটারিয়েটের বিপরীতের অতুলজ্যোতি ( যারা জাম্বো দোসার জন্য বিখ্যাত ) ও আনন্দ ভবন হোটেলে নিরামিষ খাবার পাওয়া যায়। পঙ্কজ হোটেলের শ্রীরাম সুইট স্টল এর সুনাম রয়েছে দক্ষিণ ভারতীয় নিরামিষ খাবারের জন্য। মহাত্মা গান্ধী রোডের আজাদ ও সীলন রেস্টুরেন্টে আমিষ খাবারের স্বাদ নিতে পারেন। স্টেশন রোডের কাছের চিকেন কর্নার বিখ্যাত চিকেন খাবারের জন্য। KTDC রেস্টুরেন্ট ও বিয়ার পার্লার Sabala-র অসংখ্য শাখা খুলে রেখেছে রাজ্য জুড়ে। এই শহরের Veli, Museum ও Statue Junction-এ সাবালার শাখা রয়েছে। আর স্বল্পমূল্যের খাবারের জন্য যেতে পারেন হোটেল চৈতরামে।

কিভাবে যাবেন? How to Reach / Go?

                    ভারতের প্রধান কয়টি শহর থেকে ট্রেনে বা এরোপ্লেনে করে সরাসরি এই শহরে আসতে পারবেন অন্যান্য বড়ো বা মাঝারি শহর থেকে সরাসরি বা ভায়া আসতে হবে। সরকপথে সমগ্র কেরালা তথা ভারতের যেকোন জায়গা থেকে এখানে গাড়ি বা বাইকে করে আসা যাবে। পাশের রাজ্যগুলির সাথে যথেষ্ট ভালো বাস পরিষেবা রয়েছে।

কোথায় থাকবেন? Where to Stay?

               রেল স্টেশন, দূরপাল্লার বাসস্ট্যান্ডের আশেপাশের অঞ্চলে এবং সমুদ্র সৈকতের কাছাকাছি বিভিন্ন বাজেটের প্রচুর হোটেল, রিসর্ট রয়েছে। এখানে পৌঁছে সরাসরি বা অনলাইনে ঘর বুকিং করতে পারেন। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Please, Don't Spam.

মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷