বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৯

[ Top Tourist Spots Jammu Kashmir Tourism ]

SOME VALUABLE INFORMATIONS ABOUT J&K:-

             কাশ্মীরকে বলা হয় ভারতের ভূস্বর্গ। ভারতের সমস্ত ভ্রমণপিপাসুদের সবচেয়ে পছন্দের গন্তব্য ( Most Favourite Travel Destination ) এটি। শীতকালীন রাজধানী ( Winter Capital City ) জম্মু ( November - April ) এবং গ্রীষ্মকালীন রাজধানী ( Summer Capital ) শ্রীনগর ( May - October)। মোট আয়তন বা এলাকা ( Total Area in Square Kilometres ) হ'ল ২২২২৩৬ বর্গ কিলোমিটার। মোট লোকসংখ্যা ( Total Population ) ১২৫৪৮৯২৬ জন ( As Per 2011 Census )। প্রতি ১০০০ পুরুষ পিছু ৮৮৩ জন নারী ( Sex Ratio of Male and Female )। সাক্ষরতার হার ( Percentage of Literacy ) ৬৮.৭৪%। প্রধান ভাষা উর্দু ( Main Official Language is Urdu )। অন্যান্য ভাষাসমূহ হ'ল ( Other Languages are ) কাশ্মীরি, লাডাকি, ডোগরি, বালতি, পাঞ্জাবি, হিন্দী ও ইংরেজি। মাথাপিছু বাৎসরিক আয় ( Per Head / Per Capita Average Annual Income ) ৯৪৯৯২ টাকা।

WHEN SHOULD YOU GO THERE? / BEST TIME TO VISIT OR TRAVEL THIS STATE:-

          বেড়াবার উপযুক্ত সময় হ'ল মার্চের শেষ থেকে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত। তবে অতি মনোরম আবহাওয়া অনুসারে এপ্রিল, মে, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাস হ'ল ভ্রমণের সবচেয়ে সেরা সময়। মে ও জুনে সাধারণ সোয়েটার হলেই যথেষ্ট কিন্তু মরশুমের অন্যান্য সময় মাঝারি উলেন্ এবং শীতে ভারী উলেন্ পোশাকের সঙ্গে ওভারকোট দরকার।

AVERAGE WEATHER OR CLIMATE:-

              গড় বৃষ্টিপাত ( Average Rainfall ) ১০৭ সে. মি.। মাসে মাসে নৈসর্গিক শোভা বদলায়। এপ্রিল থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ১৩° থেকে ২৭° সেলসিয়াসের মধ্যে গড় তাপমাত্রা  ( Average Temperature ) ওঠানামা করে। কিন্তু, শীতে থাকে ০° থেকে ১২° সেলসিয়াসের মধ্যে। আর মাঝে মধ্যে তুষারপাতও ( Snowfall ) ঘটে। তখন ধ্বস্ নামে আর প্রচুর প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে।

→ এখানকার মোট ২২টি জেলাকে ( Total Number of Districts is 22 ) তিনটি বিভাগে ( Three Divisions ) ভাগ করা হয়েছে।

১) জম্মু বিভাগ ( Jammu Division ) - কাঠুয়া ( Kathua  ), জম্মু ( Jammu ), সম্বা ( Samba ), উধমপুর ( Udhampur ), রিয়াসি ( Reasi ), রাজৌরি ( Rajouri ), পুঞ্চ ( Poonch ), ডোডা ( Doda ), রামবান ( Ramban ), কিষ্টবার ( Kishtwar )।

২)  কাশ্মীর উপত্যকা ( Kashmir Valley Division ) - শ্রীনগর ( Srinagar ), অনন্তনাগ ( Anantanag ), কুলগাঁও ( Kulgam ), পুলওয়ামা ( Pulwama ), সোপিয়ান ( Shopian ), বাড়গাঁও ( Budgam ), গন্ডেরবাল ( Ganderbal ), বান্দিপোরা ( Bandipora ), বারামুলা ( Baramulla ), কুপওয়ারা ( Kupwara )।

৩)  লাদাখ ( Ladakh Region ) - কারগিল ( Kargil ), লেহ্ ( Leh )।

→ IN DETAIL CONTACT ADDRESSES AND FAX/PHONE NUMBERS OF YOUR NEAREST JAMMU AND KASHMIR TOURIST OFFICES. ( ভ্রমণের আগে কোন খোঁজ খবর নিতে যোগাযোগ করতে পারেন )।

[New Delhi - M8, Green Park Extension, ND-16. Ph. (011) 26183958.]
[Mumbai - 25 North Wing, World Trade Centre, Colaba. Tel - (022) 22189040, Fax - 22186172]
[Chennai - 2nd Floor, 36/36-A, North Usman Road. Ph./Fax - (044) 28340958/59]
[Kolkata - 12 Jawaharlal Nehru Road. Ph. - (033) 22285791]
[Jammu - Tel Ph. 91 191 2520409, Fax 2548358]
[Srinagar - Tel Ph. 91 194 2502279, Tel/Fax 2502281]
[Leh - Tel 91 1982 252297/252094, Tel/Fax 91 1982 252297]
[Ahmedabad - Airlines House, 1st Floor, Lal Darwaza, Tel/Fax - (079) 25503551]
[Hyderabad - Chandra Vihar Complex, 5th Floor, Left Wing, MJ Road. Tel/Fax - (040) 24734806]

→HELPLINE & EMERGENCY ENQUIRY / CONTACT TELEPHONE NUMBERS WHEN YOU ARE TRAVELLING IN JAMMU, KASHMIR, LEH AND LADAKH. [ জরুরি অবস্থায় সাহায্যের জন্য  ]

[ The Directorate of Tourism, Jammu Tourist Reception Centre, Vir Marg ( 2548172 ), Railway Station ( 2476078/09419133766 ), Airport ( 2431917 )]
[ J&K Tourism Development Corporation ( JKTDC ) Regional Office - 2579554, Airport Office - 2531433 ]
[ Jammu Tawai Rail Station General Enquiry - ( 2531085/131), Reservation - 2543836(PP) ]
[ Police - 100 ]

Official Website of Tourism Department of Jammu & Kashmir Govt. - https://www.jktourism.jk.gov.in

J & K Govt. Official Portal - https://www.jk.gov.in


ALL TOTAL LIST OF 14 VERY BIG, MOST POPULAR OR FAMOUS LOCAL FAIRS & MAJOR FESTIVALS:-

(i) Lohri / Makar Sankranti Fair, (ii) Sri Rama Navami, (iii) Tulip Fest, (iv) Baishakhi ( Baisakhi ), (v) Hemis, (vi) Eid Al Adha, (vii) Eid Ul Fitr, (viii) Shikara ( Shikhara ) Festival, (ix) Sindhu Darshan, (x) Gurez, (xi) Holi, (xii) Purmandal Mela, (xiii) Jhiri Mela, (xiv) Food & Craft Fair etc.

এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং রাজ্যের যেকোন জায়গায় যাওয়া আসা, থাকা খাওয়ার ব্যাপারে আগে থাকতে অনলাইন বুকিং-এর জন্য নীচের বিশ্বস্ত ওয়েবসাইটগুলির মধ্যে এক বা একাধিক ব্যবহার করতে পারেন। [ FOR ONLINE BOOKING OF FOODS / FLIGHTS, TRAIN / RAILWAY RESERVATION, HOUSES ON RENT/ FLATS RENTAL / LODGES / RESORTS / HOMESTAYS / TENTS / HOTELS ROOMS IN ANY PLACE WITH DISCOUNT, CHEAP AIR TICKETS, BUS BOOKING, CAR HIRE ]:-
1. https://www.trivago.in
2. https://www.goibibo.com
3. https://www.makemytrip.com
4. https://www.yatra.com
5. https://www.cleartrip.com
6. https://www.tripadvisor.in
7. https://www.ixigo.com
8. https://www.zomato.com

[ TOP PLACES TO VISIT OR MAJOR TOURIST ATTRACTIONS IN JAMMU AND KASHMIR, INDIA WITH PROPER TOUR PLAN ON MAIN TRAVEL DESTINATIONS AND OTHER NEAREST BEAUTIFUL SPOTS. ]

(ক)  জম্মু -             এই রাজ্যের শীতকালীন রাজধানী এবং শ্রীনগরের প্রবেশদ্বার বলা হয় Jammu City - কে। সমতল ও পাহাড় মিলিয়ে  রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং বড়ো  বানিজ্যকেন্দ্র। এখানে অনেক কিছু দেখার আছে। একে মন্দির ও দূর্গের  দেশও বলা হয়।  তাওয়াই ও চেনাব নদী ( Tawi and Chenab River ) শহরটিকে ঘিরে রেখেছে। প্রথমেই  বাহু দূর্গের ( Bahu Fort ) প্রসঙ্গে আসা যাক। শহর থেকে মাত্র ৪ কি. মি. দূরে তাওয়়াই নদীর বাম তীরে পাহাড়ের চূড়ায় ডোগরা রাজা বালুলোচনের তৈরি এটি। বাহু রাজাদের এই প্রাচীন দূূর্গে ঢোকার মুখে আকবরের তৈরি মসজিদ, দেবী মহালক্ষ্মীর মন্দির ( Mahalakshmi Mandir ) যাতে দেবী কালীরও মূর্তি রয়েছে। আর নীচে সুন্দর সাজানো বাগান  বাগ - ই - বাহু ( Bahu Fort Park Bag - E - Bahu ) আছে। সন্ধ্যায় এই বাগিচার সুন্দর লাইটিং আপনাকে মুগ্ধ করবেই। এর ঠিক উল্টো দিকে আছে মহারাজা হরি সিং এর মুবারক মান্ডি প্রাসাদ ( Mubarak Mandi Palace )। এই প্রাসাদ থেকে পুরো শহরটিকে খুব সুন্দর লাগে। শহরের উত্তরে রয়েছে রামনগর দূর্গ ( Ramnagar Fort ), গান্ধীভবনে ১৯৫৪ সালে স্থাপিত ডোগরা আর্ট মিউজিয়াম ( Dogra Art Museum ), ১৯০৭ সালে ফরাসি স্থাপত্যশৈলীতে গড়়া অমরমহল প্রাসাদ ( Amarmahal Palace )। শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বাসস্ট্যান্ডের বিপরীতে একটি টিলার উপরে আছে রঘুনাথজীর মন্দির ( RaghunathJi Temple )। পাথরের তৈরি রাম - লক্ষণ - সীতার  মূর্তি হলেন এখানকার আরাধ্য দেবতা। আর রয়েছে হাজার শিবলিঙ্গের রাম বীরেশ্বর মন্দির ( Ram Bireshwar Mandir ), রনবীর খাল ( Ranbir Canal ), রাজেন্দ্র উদ্যান ( Rajendra Park ), হরি সিং জেনানা পার্ক ( Hari Singh Jenana Park ) ইত্যাদি দ্রষ্টব্য। সবকটিই শহর ও শহরতলিতে স্থিত। যদি চান তো এখান থেকে ১৩২ কি. মি. পূর্বে হিমাচল প্রদেশের  সীমান্তের কাছে বাসোলীও ( Basoli, Near Himachal Pradesh Border ) ঘুুরে আসতে পারেন। বাসোলী বিখ্যাত চিত্রশিল্পের জন্য। পাঠানকোট ও জম্মু থেকে কটুয়া হয়ে বাস যাচ্ছে।

                   ঘুরে আসতে পারেন জম্মু থেকে সার্ভিস বাসে করে ৮০ কি.মি. পূর্বের মানসর হ্রদ ( Mansar Lake )। যাকে এই রাজ্যের মানস সরোবরও বলা হয়। পাহাড়, পাইন ও দেবদারু বনে ঘেরা ২ কি. মি. পরিসরের মানসর লেকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অতুলনীয়। এই লেকের পাড়েই আছে শেষনাগ ( Sheshnaag ), মানসরেশ্বর শিব ( Mansareshwar Shiva ), নৃসিংহদেব ( Nrisinghadev ), দূর্গা ( Durga ) প্রভৃতি দেবদেবীর মন্দির। এছাড়াও আছে ডিয়ার পার্ক ( Deer Park ), এর পান্না সবুজ জলে বোটিং অর্থাৎ নৌ বিহারের ব্যাবস্থা। থাকার জন্য আগে থাকতে যোগাযোগ করুন - J&KTDC - র Resort Mansar, Tel - 2543030; Tourist Hut and Cottage - Hotel Alpine, Kolkata Booking Tel - 22259639. মানসর থেকে বাসে ১৬ কিলোমিটার দূরে আরও এক সুন্দর প্রাকৃতিক হ্রদ সনাসরও ( Sanasar Lake ) বেড়াতে পারেন। এই হ্রদের মাঝে দ্বীপ আছে। থাকার জন্য J&KTDC - এর Resort Sanasar - এ আগে থাকতে বুকিং করে রাখবেন।

এখান থেকে কি কি কিনবেন ? What are The Things You Should Buy ( Marketing ) While Traveling Here?

                     Local Goods Marketing করতে চাইলে সিল্ক ও উলের পোশাক, এমব্রয়ডারি ( Embroidery ) করা ফেরান, উইলো ও ওয়ালনাট কাঠের আসবাবপত্র, আখরোট, বাদাম, নানান শুকনো ফল ( Dry Froots ) কিনতে পারেন Bahut Plaza, Residency Road - এর সরকারি আর্ট এম্পোরিয়াম ( Tel - 2542946 ) এবং জম্মুর বিভিন্ন দোকানপাট থেকে।

কোথায় থাকবেন? Where to Stay? Fooding & Lodging.

                      এখন আসছি থাকা খাওয়া প্রসঙ্গে। Where to Stay and Eat? শুধু রেলস্টেশন, বিমানবন্দর বা বাসস্ট্যান্ডই নয়, সমস্ত জম্মু জুড়ে ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন দামের ও মানের হোটেল, লজ থাকা ও খাওয়ার সুবিধা সমেত ( Hotels, Lodges With Fooding and Lodging Facilities )। তবে প্রথমে একটু দরদাম করে নেওয়া উচিত, তাহলে খরচ কিছুটা কমলেও কমতে পারে।   প্রচুর সংখ্যায় আছে, তাই আগে থেকে বুকিং ( Room Booking ) না করলেও চলবে। ৪০০ টাকা থেকে আরম্ভ করে বিভিন্ন দামের রুম পেয়ে যাবেন আপনার সামর্থ্য ও রুচি অনুযায়ী। তবে পিক্ সিজনে এখানে ঘরের অভাব কিছুটা দেখা যায়। তাই একটু সময় হাতে নিয়ে ওখানে পৌঁছে আগেভাগে ঘর বুকিং করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এই পেজের উপরের দিকে দেওয়া Trusted Website Link-এর মাধ্যমে বুকিং করতে পারেন।

কিভাবে যাবেন? How to Reach / Go Jammu?

                  মূল শহর থেকে মাত্র ৭ কি. মি. দূরে রেলস্টেশন ও বিমানবন্দর অবস্থিত। দিল্লি থেকে জম্মু হয়ে শ্রীনগর পর্যন্ত অনেকগুলো বিমান রোজ যাতায়াত। Time Schedule ও Rate হিসাব করে দিল্লি হয়ে বিমানে যেতে পারেন।
                  যদি বাইক, গাড়ি কিংবা বাসে করে যেতে চান তাহলে Delhi এবং চন্ডীগড় হয়ে সড়কপথে যেতে পারেন। Road Condition অত্যন্ত ভালো।

              আর রেলপথে ভারতের যেকোন প্রান্ত থেকে সহজেই এখানে পৌঁছনো যায়। যেমন, কলকাতার শিয়ালদহ স্টেশন থেকে আছে জম্মু তাওয়াই এক্সপ্রেস ( Jammu Tawai Express ) ও হাওড়া থেকে হিমগিরি ( Himgiri Express ) এছাড়াও পুজো ও গ্রীষ্মের ছুটিতে কলকাতা থেকে বিশেষ ট্রেনেরও ব্যাবস্থা আছে। পুনে থেকে রয়েছে ঝিলম এক্সপ্রেস ( Jhilam / Jhelum Express ) যা ভুসুয়াল - ভূপাল - আগ্রা - নিউ দিল্লি - আম্বালা হয়ে যাচ্ছে। মুম্বই সেন্ট্রাল থেকে মুম্বাই জম্মু স্বরাজ এক্সপ্রেস কোটা - নিউ দিল্লি হয়ে যায়। ইন্দোর থেকে আছে মালোয়া এক্সপ্রেস। চেন্নাই থেকে আন্দামান এক্সপ্রেস। ম্যাঙ্গালোর থেকে ছাড়ে নবযুগ এক্সপ্রেস। কন্যাকুমারী থেকে ছাড়ে হিমসাগর এক্সপ্রেস - এই রেলপথই হ'ল ভারতের দীর্ঘতম রেলপথ, যার দৈর্ঘ্য ৩৭২৬ কি. মি.। নিউ দিল্লি থেকে ছাড়ে শালিমার এক্স. ও জম্মু - রাজধানী এক্সপ্রেস। গুয়াহাটি থেকে নিউ জলপাইগুড়ি হয়ে যাচ্ছে লোহিত এক্স. ও অমরনাথ এক্সপ্রেস। হৃষিকেশ ও হরিদ্বার থেকে আছে হেমকুন্ত এক্সপ্রেস ( Hemkunt Express )। এছাড়াও ভারতের নানা প্রান্ত থেকে থেকে আরো বেশকিছু দূরপাল্লার ট্রেন রয়েছে।

[ Tourist Attractions Himachal Pradesh Tourism ]

SOME VALUABLE INFORMATIONS ABOUT H. P.:-

             হিমালয়ের কোলে ভারতের এক উল্লেখযোগ্য রাজ্য হ'ল হিমাচল প্রদেশ। শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্থাপত্য ও ভাস্কর্যে নিজস্ব স্বকীয়তার সাথে সাথে অতুলনীয় নৈসর্গিক শোভাতেও একেবারেই স্বতন্ত্র। ১৯৭১ সালের ২৫শে জানুয়ারি রাজ্যের মর্যাদা লাভ করে। প্রধান রাজধানী শহর ( Capital City in Summer ) হ'ল সিমলা ( Shimla )। কিন্তু, শীতকালে দ্বিতীয় রাজধানী রূপে ধরমশালা ( 2nd Capital City is Dharamshala in Winter ) থেকেও সরকারি কাজকর্ম পরিচালিত হয়। মোট এলাকা ( Total Area ) বা আয়তন হলো ৫৫৬৭৩ বর্গকিলোমিটার ( ২১৪৯৫ বর্গ মাইল )। মোট জনসংখ্যা ( Total Population ) হ'ল ৬৮৬৪৫৯৮ জন। জনঘনত্ব ( Population Density ) হ'ল প্রতি বর্গ কি.মি.তে ১২৩ জন ( প্রতি বর্গ মাইলে ৩২০ জন )। এখানে প্রতি ১০০০ পুরুষ পিছু ৯৭৪ জন নারী আছে ( Sex Ratio of Male and Female )। সাক্ষরতার হার ( Percentage of Literacy ) হ'ল ৮৩.৭৮%। প্রধান সরকারি ভাষা ( Main Official Language ) হ'ল হিন্দি। অন্যান্য ব্যবহৃত ভাষা ( Other Languages ) হ'ল সংস্কৃত, পাহাড়ি, পাঞ্জাবী ও ইংরেজি। মাথাপিছু বাৎসরিক আয় ( Per Head / Capita Yearly Income ) ১৭৯১৮৮ টাকা। পুরোপুরি পাহাড়ি রাজ্য।

WHEN SHOULD YOU GO THERE? / BEST TIME TO VISIT OR TRAVEL THIS STATE:-

              জুলাই-আগস্টের প্রবল বৃষ্টি ও পাহাড়ি ধ্বসের সময় বাদ দিয়ে এপ্রিল থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত হ'ল এখানে বেড়াতে আসবার উপযুক্ত সময় বা মরশুম। আবার নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এখানে শীতকাল। তখন সমগ্র হিমাচল প্রদেশই বরফে ঢাকা থাকে।

AVERAGE WEATHER OR CLIMATE:-

              গ্রীষ্মে তাপমাত্রা থাকে ১১° থেকে ৩২° সেলসিয়াস পর্যন্ত। শীতকালে এই রাজ্যের কম উচ্চতার জায়গাগুলিতে তাপমাত্রা ৫° থেকে ১৯° সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠা নামা করে। আর সিমলা, মানালি বা আরো উচুঁ জায়গাতে শীতে অনেক সময় ০° সেলসিয়াসেরও বেশ খানিকটা নীচে নেমে যায়। এই সময় সিমলার অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখতে পর্যটকেরা ভিড় করেন। শীতে যথেষ্ট গরম পোশাক এবং ওভারকোট দরকার। বসন্ত ও গ্রীষ্মে সাধারণ উলের পোশাকে কাজ চললেও শরৎকাল থেকেই ওভারকোট দরকার হয়ে পড়ে সিমলা ও মানালি পাহাড়ে।

Government Official Website -  https://himachal.nic.in/en-IN/  ,

Himachal Pradesh Tourism Development Corporation Official Website - https://himachaltourism.gov.in

             মোট জেলা আছে ১২ টি ( Total Number of District is 12 )। যথাক্রমে - বিলাসপুর ( Bilaspur ), চম্বা ( Chamba ), হামিরপুর ( Hamirpur ), কাংড়া ( Kangra ), কিন্নোর ( Kinnaur ), কুলু ( Kullu ), লাহৌল এবং স্পিতি ( Lahaul and Spiti ), মান্ডি ( Mandi ), সিমলা ( Shimla ), সিরমৌর ( Sirmaur ), সোলান ( Solan ), উনা ( Una )।

SOME REPUTED & RELIABLE HPTDC TRAVEL AGENTS / TOUR AGENCY IN KOLKATA WITH NAME, ADDRESS, TELEPHONE NUMBER, FAX OR E-MAIL ID:-

                কলকাতায় HPTDC ( Himachal Pradesh Tourism Development Corporation ) এর অনুমোদিত তিনটি ট্রাভেল এজেন্সির নাম উল্লেখ করা হলো - (ক) Himalchura Travels & Tours, P-263, CIT Road, Scheme IV - M, Kolkata - 10, Tel - 23633000 ; (খ) Diamond Tours & Travels, 30 Jadunath Dey Road, Kol - 12, Tel - 22259639 ; (গ) The Wheels, 171F, R. B. Avenue, Kol - 19, Tel - 24601886 .

ALL TOTAL LIST OF 28 VERY BIG, MOST POPULAR OR FAMOUS LOCAL FAIRS & MAJOR FESTIVALS:-

(i) Pori Festival Lahaul, (ii) Minjar Fair Chamba, (iii) Summer Fest Shimla, (iv) Halda, (v) Sazo, (vi) Lohri / Makar Sankranti, (vii) Himachal Winter Carnival, (viii) Losar, (ix) Doongri, (x) Ice Skating Carnival, (xi) International Himalayan Festival, (xii) Kullu Dussehra, (xiii) La Darcha Fair, (xiv) Shivratri Mela Mandi, (xv) Shoolini Mela Solan, (xvi) Mani Mahesh Chhari Yatra Chamba, (xvii) Renuka Fair Sirmaur, (xviii) Lavi Trade Fair Rampur, (xix) Vrajeshwari Mela Kangra, (xx) Jwalamukhi Fair, (xxi) Holi Sujanpur Tira, (xxii) Naina Devi Festival Bilaspur, (xxiii) Fulaich in Kinnaur Valley, (xxiv) Peeplo Fair, (xxv) Mairi Guruduwara Mela, (xxvi) Chintpurni Temple Fest, (xxvii) Fair in Kamakhya Temple, (xxviii) Annual Himachal Hill Festival etc.

এই রাজ্যের যেকোন জায়গায় যাওয়া আসা, থাকা খাওয়ার ব্যাপারে আগে থাকতে অনলাইন বুকিং-এর জন্য নীচের বিশ্বস্ত ওয়েবসাইটগুলির মধ্যে এক বা একাধিক ব্যবহার করতে পারেন। [ FOR ONLINE BOOKING OF FOODS / FLIGHTS, TRAIN / RAILWAY RESERVATION, HOUSES ON RENT/ FLATS RENTAL / LODGES / RESORTS / HOMESTAYS / TENTS / HOTELS ROOMS IN ANY PLACE WITH DISCOUNT, CHEAP AIR TICKETS, BUS BOOKING, CAR HIRE ]:-
1. https://www.trivago.in
2. https://www.goibibo.com
3. https://www.makemytrip.com
4. https://www.yatra.com
5. https://www.cleartrip.com
6. https://www.tripadvisor.in
7. https://www.ixigo.com
8. https://www.zomato.com

[ TOP PLACES TO VISIT OR MAJOR TOURIST ATTRACTIONS IN HIMACHAL PRADESH, INDIA WITH PROPER TOUR PLAN ON MAIN TRAVEL DESTINATIONS AND OTHER NEAREST BEAUTIFUL SPOTS. ]

(ক) সিমলা:-     যারা ঘুরতে ভালোবাসেন  তাঁরা Shimla - কে পাহাড়ের রানী বলেন। অত্যন্ত সুন্দর একটি পাহাড়ি শহর ( Hill Station )। শান্ত, নীল আকাশ, চারিদিকে সবুুজ, নির্মল অতি মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের এই শৈল আবার। খুবই স্বাস্থ্যকর এই জায়গা। এখান থেকে হিমালয়ের  তুষারশুভ্র অনেকগুলি শিখর দেখা যায়। সমতলের গ্রীষ্মকালীন দাবদাহ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এখানে বিকল্প রাজধানী গড়ে তোলেন। তারাই এর নাম দেন Jewel of The Crown অর্থাৎ মুকুুুটের রত্ন। এখনও বাড়িঘরে, রাস্তাঘাটে সেকালের ছোঁয়া লক্ষ্য করা যায়। সিমলা পাহাড়ে ফার, ওক, দেবদারু ও পাইন বনের সবুজের সমারোহ দেখা যায়। এখানকার আর এক আকর্ষণ নানা ধরনের নাম না জানা সুুন্দর সুুন্দর পাহাড়ি ফুুুলের প্রাচুর্য। সবসময় সুন্দর সুবাস বাতাসে জড়িয়ে রয়েছে। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বরফ পড়ে। বর্ষাকালের বৃৃৃষ্টিও সেরকম অসুবিধার সৃৃষ্টি করে না। তাই এখানে বছরের যেকোন সময়়ই নিশ্চিন্তে ঘুরতে আসতে পারেন। কালকা হয়ে যদি এখানে আসতে চান তাহলে অবশ্যই World Heritage তালিকাভুক্ত কালকা - সিমলা টয়ট্রেনে ( Kalka Shimla Toy Train ) করে আসুন। আসার পথের অসাধারণ নৈসর্গিক দৃশ্য কোনদিনই ভুুুুলতে পারবেন না।

               এই শহরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জমজমাট জায়গা হ'ল এর ম্যাল এরিয়া ( Shimla Mall Area)। এই স্থান থেকে দূরের বেশ কয়েকটি গিরিশিখরও দৃশ্যমান। দোকানপাট, বাজারহাট, হোটেল-রেস্তোরা, সরকারি-বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সি, রেলের বুকিং অফিস ইত্যাদি নিয়ে সেজে উঠেছে এই অভিজাত মল রোড ও তার চারপাশ। সন্ধ্যার পরে আলোক সজ্জায় আরও মোহময়ী হয়ে ওঠে টেলিগ্রাফ অফিস থেকে ক্যামবারমেরে রিজ ( Telegraph Office to Cambermere Ritz ) পর্যন্ত এই রাস্তা। আপনি চাইলে পায়ে হেঁটে অথবা ঘোড়ায় চড়ে ঘুরে বেড়াতে পারেন। এখানে যেকোন গাড়ি এবং বাইক চালানো পুরোপুরি নিষিদ্ধ। এর কাছের ম্যাল অন্তে নিও গথিক শৈলীতে তৈরি অ্যাঙ্গলিসিয়ান ক্রাইস্ট চার্চ (  Angolisian Christ Church ) অবশ্যই দেখে নেবেন। এই সুন্দর কারুকার্য করা চার্চটি উত্তর ভারতের দ্বিতীয় প্রাচীন চার্চ এটি। ম্যালের লাজপত রায় চক অর্থাৎ কিপলিংয়ের স্ক্যান্ডাল পয়েন্ট ( Scandal Point ) আর এক বিখ্যাত দর্শনীয় স্থান। এটি এই শৈল শহরের জিরো পয়েন্ট এবং ম্যালের উচ্চতম অংশ। এর ঢালেই আছে পর্যটকদের বিনোদন কেন্দ্র Ice Skating Rink এবং Roller Skating Rink, মনপ্রাণভরে আনন্দ করুন। ম্যাল ধরে চার্চ থেকে ঘন্টাখানেক নেমে ইনভেরাম পাহাড় চূড়ায় অবস্থিত সিমলার স্টেট মিউজিয়াম ( Shimla State Museum )। এখানে হিমাচলের বিভিন্ন মন্দির থেকে নিয়ে আসা কাঠ ও পাথরের পুরাতন ভাস্কর্য, মূর্তি, পোশাক-পরিচ্ছদ ও পাহাড়ি বাসোলী - কাঙড়া শৈলীর মিনিয়েচার পেইন্টিং আকর্ষণ বাড়িয়েছে মিউজিয়ামের। গান্ধী সংগ্রহশালায় গিয়ে ছবি ও কার্টুন সম্ভার দেখে নিতে ভুলবেন না। ঠিক কাছেই বানটনি পাহাড়ে গভর্নর জেনারেল লর্ড বেন্টিংকের বাসভবন এখন গ্রান্ড হোটেল হয়েছে। এই বানটনি পাহাড়েই আছে বিখ্যাত বাঙালি পীঠস্থান সিমলা কালীবাড়ি ( Shimla Kalibari )। এখানে থাকা ও খাওয়ার খুব ভালো বন্দোবস্ত আছে। ভরা মরশুম না হলে থাকার জায়গা পেয়ে যাবেন। পারলে নীচের এই ঠিকানায় যোগাযোগ করে একদিনের টাকা আগে পাঠিয়ে বুক করে যান। এখানে সবচেয়ে বেশি ৭ দিন থাকতে পারবেন। ঠিকানাঃ- The Secretary, Shimla Kalibari, Shimla, Himachal Pradesh. Tel - (0177) 2652964. খাওয়া - থাকায় বাঙালিয়ানার স্বাদ পাবেন। কালীমূর্তিটি জয়পুর থেকে আনা। ডানদিকে আছেন মঙ্গলচণ্ডী এবং বামদিকে শ্যামলা দেবী। এই শ্যামলা দেবীর নামেই এই শহরের নামকরণ হয়েছে। শহরের একমাত্র দূর্গাপূজাটিও হয় এই কালীবাড়িতে। এখানকার একটি সুন্দর ভিউ পয়েন্ট হ'ল জাকু হিলস ( Jakhoo Hills )। এখান থেকে সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত এবং গোটা সিমলা শহরের দৃশ্য সত্যিই ভোলার নয়। এই পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত হনুমান মন্দিরটিও ( Shri Hanuman Mandir, Jakhu Hills, Shimla ) খুব সুন্দর। পাশের Temple Park - টিও বেশ মনোরম। মন্দির চত্বরে প্রচুর হনুমান আছে। তাই সঙ্গের জিনিস ও খাদ্য একটু সাবধানে রাখবেন।

                  শহর থেকে ৪ কি. মি. দূরে অবস্থিত মনোরম পিকনিক স্পট গ্লেন ( Glen Picnic Spot )। দেবদারু, ওক, পাইন গাছে ঘেরা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে সরু পায়ে চলা পথ ধরে এখানে পৌঁছতে হয়। পথের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে স্রোতস্বিনী পাহাড়ি নদী। চলার পথে বন্য প্রাণীর দর্শন পাওয়া অসম্ভব নয়। গ্লেনের পূর্ব দিকে শহরের নীচের দিকে রয়েছে পাহাড় ও পাইন, দেবদারু গাছে ঘেরা জায়গা আনানদেল ( Annandale )। সন্ধ্যার সময় বিভিন্ন বিনোদনের পসরা বসে। রিভোলি বাস স্ট্যান্ডের ( Rivoli Bus Stand ) পাশে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসের মধ্যে আইস স্কেটিং-এর আসর বসে। বটানিক্যাল গার্ডেন ( Botanical Garden ), চিড়িয়াখানা ( Shimla Zoo ), নববাহার পুষ্প উদ্যান ( Navbahar Flower Garden ), ব্রাহ্মসমাজ মন্দির, শিল্পকলায় সমৃদ্ধ তিব্বতী মনাষ্ট্রি ( Tibetan Monastery ) দেখে নিতে ভুলবেন না।

                   সিমলা-কালকা রেলপথে সিমলার ঠিক আগের স্টেশন শহরতলীর সামার হিল ( Summer Hill Station ) স্টেশন। এই জায়গার আলাদা একটা ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে। এখানে আছে রাজকুমারী অমৃত কাউরের জর্জিয়ান শৈলীর Manorville বাড়ি। মহাত্মা গান্ধী এই বাড়িতেই জওহরলাল নেহেরু, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল, রাজেন্দ্র প্রসাদ, মৌলানা আজাদকে সাথে নিয়ে ১৯৪৫ সালের জুন মাসে তৎকালীন ভাইসরয়ের সঙ্গে ভারতের স্বাধীনতা সম্পর্কিত আলোচনায় বসেন। এই সামার হিল স্টেশনের কাছেই আছে বিখ্যাত চাদউইক জলপ্রপাত ( Chadwick Falls )। বর্ষাকালে এর সৌন্দর্য বহুগুণ বেড়ে যায়। তবে অনেকটা চড়াই বেয়ে জলপ্রপাতের কাছে পৌঁছনো যায়। শহর থেকে ৫ কি. মি. দূরে বয়লৌগঞ্জ থেকে মিনিট কুড়ির পাহাড়ি পথ পেরিয়ে রয়েছে অতি মনোরম প্রসপেক্ট পাহাড় ( Prospect Hill Picnic Spot )। এখানে আছে ৩০০ বছরের প্রাচীন দূর্গার ছোট মন্দির। দেবী দূর্গা কামনাদেবী রূপে পূজিতা হন। প্রচলিত আছে, দেবীর আশির্বাদে সকল কামনা পূরন হয়। মন্দির চত্বর থেকে দূরের প্রবহমান শতদ্রু নদীর দৃশ্য এককথায় অপরূপ। কালকামুখী সড়কপথে পড়বে তারাদেবীর মন্দির, সঙ্কটমোচন মন্দির।

               শহর থেকে পশ্চিমে রিজ শেষ হতে চিড়িয়াখানার কাছে অবজারভেটরি হিলের ( Observatory Hill ) মাথায় সুন্দর প্রকৃতির মাঝে লর্ড ডাফরিনের বসবাসের জন্য তৈরি হওয়া প্রাচীন প্রাসাদ দি রিট্রিট ( The Retreat )। মার্বেল পাথরের তৈরি প্রাসাদ। ছাদ বার্মা টিকের, কাঠের সিঁড়ি। এই রিট্রিট মহলেই ১৯৪৭ সালে সিমলা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পন্ডিত জওহরলাল নেহেরু ভারত ভাঙার মর্মান্তিক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে সম্মত হন। পরবর্তী সময়ে ভারত - পাকিস্তান শান্তিচুক্তিও সাক্ষরিত হয় এর কনফারেন্স রুমে। স্বাধীনতার পরে এটি রাষ্ট্রপতির গ্রীষ্মাবাস হয়। তারও পরে ১৯৫৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ডক্টর সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ ভারতের রাজনৈতিক স্মৃতি বিজড়িত এই ঐতিহাসিক ভবনটিকে Indian Institute of Advanced Studies - কে উৎসর্গ করেন। টিকিট কেটে দ্বিতীয় তলার মিউজিয়ামটি ( Museum ) দেখে নিতে পারেন। যদিও কয়েক বছর আগের এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বেশ কিছু ক্ষতি হয়ে যায়। এই ভবনের কাছেই আছে বিখ্যাত পক্ষী উদ্যান ( Himalayan Bird Park, Shimla )।

                 শহর থেকে ১৪ কি. মি. দূরে কুফরীর রাস্তায় রূপসী তীর্থন উপত্যকায় পাইন গাছে ছাওয়া ২২ হেক্টর ব্যাপী ছড়ানো ওয়াইল্ড ফ্লাওয়ার হল ( Wild Flower Hall ) দেখে নিন। বর্ষার পরে নানা সুন্দর পাহাড়ি ফুলের শোভা ও পাইন বনের পাখির কূজন স্থানটিকে স্বর্গের নন্দন কাননের সমতুল্য করে তোলে। প্যাকেজ ট্যুরে বা সাধারণ যাত্রীবাহী করে যেতে পারেন। তারপর এখান থেকে চলে যান ৪ কি. মি. দূরের দেবদারু বনে ছাওয়া সুন্দর ছবির মতো বিশ্ববিখ্যাত কুফরীতে। এর বিশ্বজোড়া সুখ্যাতি এর নৈসর্গিক সৌন্দর্যের জন্য। কুফরী ( Kufri ) থেকে কেদারনাথ, বদ্রীনাথ, পীরপাঞ্জাল, শিবালিক গিরিচূড়াশ্রেণী সুন্দরভাবে দেখা যায়। আগে শীতকালে স্কি খেলার আসর বসতো। এখন ফেব্রুয়ারির প্রথমে শীতকালীন ক্রীড়ার আসর বসে। এর ঠিক বিপরীতে হিমালয়ান নেচার পার্ক ( Himalayan Nature Park ) ও মিনি জু ( Mini Zoo ) বসেছে। টিকিট কেটে ঢুকতে হয়। ক্যামেরার জন্য আলাদা চার্জ দিতে হয়। বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত ছবি গুপী গাইন বাঘা বাইনের বরফের দৃশ্যটিও এইখানে তোলা হয়। ঘোড়া অথবা ইয়াকের পিঠে চড়ার বন্দোবস্ত আছে কুফরীতে। যারা ট্রেকিং-এ উৎসাহী তাঁরা ট্রেক করে মাহাসু চূড়ায় ( Mahasu Peak ) উঠতে পারেন। Package Tour বা যাত্রীবাসে  এখানে ঘুরে আসতে পারেন। যারা এখানে থেকে যেতে চান তাঁদের জন্য সকাল ও রাতের খাবারসহ থাকার সুবন্দোবস্ত আছে নিম্নলিখিত জায়গাগুলিতে - (1) Kufri Holiday Resort, (2) Hotel Snow Shelter, (3) Hotel Himachal Holidays, (4) Kufri Holiday Inn ( Main Bazar, Tel - (0177) 2648007, (5) Hotel Kufri Pacific, (6) Kufri Chail Road - এ Toshali Royal View ( Mobile - 9937011805 ), (7) Shilon Resorts.

           এরপরের গন্তব্য হতে পারে ৭ কি. মি. দূরের হিন্দুস্তান - টিবেট রোডে অবস্থিত ফাগু ( Next Destination is Fagu )। এরও খ্যাতি অপরূপ নৈসর্গিক শোভার জন্য। আলু চাষের গবেষণাগার রয়েছে ফাগুতে। প্যাকেজ ট্যুরে ঘুরে আসা যায়। এখানে থাকার জন্য আছে (1) Hotel Star Resort, (2) Hotel The Apple Blossom of HPTDC, Fagu ( 01784 - 239469 )

                  সিমলা থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে আর একটি সুন্দর জায়গার নাম মাসোব্রা ( Moshobra )।  পাইন, ওক, দেবদারু ও আপেল বাগানে ঘেরা মাসোব্রার সুখ্যাতি পিকনিক স্পট হিসেবে। পাহাড় চূড়ায় মহাকালী, শিব ও ভীমকালীর মন্দির অধিষ্ঠিত। এখান থেকে মাত্র ২ কি. মি. দূরের সিপুরে ( Sipur ) জুন মাসের সিপি উৎসবের যথেষ্ট খ্যাতি আছে। থাকার জন্য ভালো হোটেল আছে Mashobra - তে। যেমন, (১) Wildflower Hall, (২) Koti Resorts, (৩) Hotel Sadrisha, (৪) Whistling Pines Resort ( Mobile No. - 9816048041 ).

                 এখান থেকে আরোও ৩ কি. মি. দূরে ওক, পাইনের গভীর বনে আছে Craignanor Amusement Park বিনোদন কেন্দ্র। HPTDC, Shimla Municipality এবং Himachal Roapways - এর যৌথ উদ্যোগে ২০ একর জমির উপর গড়ে ওঠা এই পার্কের ভিতর দিয়ে বয়ে চলেছে ধৌলাধার ( Dhauladhar )। এছাড়া আছে মেরি গো রাউন্ড, জায়ান্ট হুইল, ম্যাজিক শো, ডগ শো ইত্যাদি। পার্কে ইয়াক চড়ার ব্যাবস্থা আছে। টিকিট কেটে এই চত্বরে ঢুকতে হয়। সিমলা শহর থেকে ঘনঘন মিনিবাস যাচ্ছে এই উদ্যানে। থাকার জন্য HPTDC - এর Holiday Home এবং কিছু Private Hotel আছে এর পাশে।

                       আর এক ট্যুরিস্ট প্যারাডাইস হ'ল নলদেরা ( Naldera )। এই জায়গার রূপে মুগ্ধ হয়ে লর্ড কার্জন তাঁর মেয়ের নাম নলদেরা রাখেন। নাইন হোল গলফ কোর্সের জন্য এখানকার বিশ্বজোড়া খ্যাতি আছে। থাকার জন্য Naldehra-তে কয়েকটি উত্তম মানের হোটেল আছে। যেমন, Hotel Golf Glade ( 0177 - 2747739/809 ), Hotel Rock Haven, Mahamaya Palace, The Chalets Naldehra ইত্যাদি। HPTDC প্যাকেজ ট্যুরে এক দিনেই নলদেরা ও তত্তপানি ঘুরে নিতে পারেন। সিমলা মান্ডি হাইওয়েতে তত্তপানি ( Tattapani / Tatapani ) অবস্থিত। বয়ে চলেছে শতদ্রু নদী। গাঢ় নীল আকাশ, চারিদিকে পাহাড়, ঘন সবুজ বনানী, রূপালী বালিয়াড়ি নিয়ে অপরূপ সুন্দর এই স্থান। রঙবেরঙের নুড়িপাথর সমৃদ্ধ এই বালিয়াড়ি। গন্ধক জলের উষ্ণ প্রস্রবণের জন্য তত্তপানি ( Tattapani / Tatapani ) বিখ্যাত। থাকা খাওয়ার বেশ কয়েকটি হোটেল আছে এখানে।

কিভাবে যাবেন? How to Reach / Go Here? 

                  কালকা ও আম্বালার মাধ্যমে সমগ্র ভারতের সাথে সিমলার রেলপথে যোগাযোগ রয়েছে। উত্তর ভারতের বিভিন্ন শহরের সাথে বাসেও যোগাযোগ আছে। রেল স্টেশনের পাশেই আছে বাস স্ট্যান্ড। এখানকার কুলি থেকে একটু সাবধানে থাকবেন। এঁরা প্রায়শই কথার খেলাপ করে থাকেন। তাই প্রথমেই দরদাম করে নেবেন। নাহলে বিপদে পড়তে পারেন। 

এখান থেকে কি কি জিনিস কিনবেন? What are The Things You Should Buy ( Marketing ) While Traveling There?

                  ম্যাল থেকে সরু গলিপথে নেমে গেলেই বিখ্যাত বাজার এলাকা অর্থাৎ Shimla Bazaar / Market চত্বর। এই রাজ্যে তৈরি হওয়া নানান জিনিস যেমন, ওয়াকিং স্টিক, কিন্নরী মাফলার, কুলু টুপি, শাল, পশমজাত নানা দ্রব্য কিনে নিয়ে যেতে পারেন স্মৃতি হিসেবে।

কোথায় থাকবেন? Where to Stay? Fooding & Lodging.

                  এই শহরে খাওয়া ও থাকার জন্য প্রচুর হোটেল, লজ, রেস্টুরেন্ট পেয়ে যাবেন। পৌঁছে ব্যবস্থা করতে পারেন। তবে, আগে থেকে এই পেজের উপরের দিকে দেওয়া Trusted Website Link-এর মাধ্যমে বুকিং করে যাওয়া উচিৎ হবে। কারণ, বছরের সব সময়ই পর্যটকের ভিড় লেগেই রয়েছে। 

[ Wonderful Places to Tour Punjab Tourism ]

PAST HISTORY & SOME VALUABLE INFORMATIONS ABOUT PUNJAB:-

               পাঞ্জাব শব্দটির উৎপত্তি দুটি ফার্সি শব্দ থেকে। Panj বা পাঞ্জ্ মানে পাঁচ এবং Aab বা আব্ অর্থ হ'ল জল। এখানকার আদি বাসিন্দাদের বলা হয় পাঞ্জাবি। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে পাঞ্জাবিদের নাম স্বর্ণাক্ষরে চিরকাল লেখা থাকবে। এই রাজ্যের প্রধান ধর্ম শিখ। যার প্রবর্তক হলেন গুরু নানক। স্বতন্ত্র রাজ্যের স্বীকৃতি পায় ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে। ৫ সংখ্যাটি পাঞ্জাবিদের কাছে অতি পবিত্র। সেই অনুযায়ী Five Kakkars হ'ল পুরুষদের অবশ্যই ধারণযোগ্য । এগুলি হল Kesh ( কেশ বা চুল ), Kanga ( কাঠ বা হাড়ের চিরুনি ), Kachchha ( কাচ্ছা বা পাগড়ি ), Kara ( স্টিলের কঙ্গন বা বালা ), Kirpan ( কৃপাণ বা অস্ত্র )। পুরুষদের পোশাক লুঙ্গি ও পাঞ্জাবি। মেয়েদের পোশাক শালোয়ার কামিজ, ব্যাগি ট্রাউজার্স এবং ওড়নি বা দুপাট্টা।

             রাজধানী চন্ডীগড় ( Capital City is Chandigarh )। সবচেয়ে বড়ো শহর লুধিয়ানা (  Largest City is Ludhiana )। মোট আয়তন ( Tatal Area ) ৫০৩৬২ বর্গ কি. মি. ( ১৯৪৪৫ বর্গ মাইল )। মোট জনসংখ্যা ২৭৭০৪২৩৪ ( Total Population as Per 2011 Census )। প্রতি ১০০০ পুরুষে নারীর সংখ্যা ৮৯৩ জন ( Men and Women Sex Ratio )। সাক্ষরতার হার ( Percentage of Literacy ) ৭৬.৬৮%। প্রধান ভাষা পাঞ্জাবি ( Main Language is Punjabi )। মাথাপিছু গড় বাৎসরিক রোজগার ( Per Head / Per Capita Average Yearly Income ) ১৫৪৬০০ টাকা। প্রধান জনপ্রিয় লোকনৃত্য ( Folk Dance ) হলো ভাংরা ( Bhangra ) এবং গিদ্ধা ( Giddha )। Symbolic Bird বা পাখি বাজ ( Baaz বা Hawk )। কৃষি ও শিল্পে সারা দেশে এই রাজ্যের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা আছে। এখানকার ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেরও কোন তুলনা হয় না। বেশিরভাগ এলাকা সমতল হলেও উত্তর-পূর্ব দিকে রয়েছে শিবালিক পাহাড়।

WHEN SHOULD YOU GO THERE? / BEST TIME TO VISIT OR TRAVEL THIS STATE:-

                   সারা বছরই ভ্রমণ করা যায় এই রাজ্যে। তবে,  যদি জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বর্ষাকালের সময় এবং গ্রীষ্মকালের প্রচন্ড গরম বাদ দিয়ে ভ্রমণ করতে চান তাহলে অক্টোবরের শুরু থেকে মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ অবধি সময়সীমাই সবচেয়ে সেরা বা উপযুক্ত।

AVERAGE WEATHER OR CLIMATE:-

                ঠান্ডা ও গরম দুইয়েরই প্রাবল্য রয়েছে এখানে। মে-জুন মাসে দিনে তাপমাত্রা ৫০° সেলসিয়াসেও উঠে যায়। আবার নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে ০° সেলসিয়াসের উপর-নীচে তাপমাত্রা ওঠানামা করে। জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে এখানে বর্ষাকাল।

Government of Punjab, India Official Website - http://www.punjab.gov.in

Punjab Tourism Official Web Portal - http://www.punjabtourism.gov.in

              মোট জেলার সংখ্যা ( Total Number of Districts is 22 ) ২২ টি। এগুলি হল - (1) অমৃতসর ( Amritsar ), (2) বার্নালা ( Barnala), (3) ভাটিন্ডা ( Bathinda ), (4) ফরিদকোট ( Faridkot ), (5) ফতেগড় সাহিব ( Fatehgarh Sahib ), (6) ফিরোজপুর ( Firozpur ), (7) ফাজিলকা ( Fazilka ), (8) গুরদাসপুর ( Gurdaspur ), (9) হোসিয়ারপুর ( Hoshiarpur ), (10) জলন্ধর ( Jalandhar ), (11) কাপুরথালা ( Kapurthala ), (12) লুধিয়ানা ( Ludhiana ), (13) মনসা ( Mansa ), (14) মোগা ( Moga ), (15) শ্রী মুক্তসার সাহিব ( Sri Muktsar Sahib ), (16) পাঠানকোট ( Pathankot ), (17) পাটিয়ালা ( Patiala ), (18) রূপনগর ( Rupnagar ), (19) সাহিবজাদা অজিত সিং নগর ( Sahibzada Ajit Singh Nagar ), (20) সাঙ্গরুর ( Sangrur ), (21) শহিদ ভগৎ সিং নগর ( Shahid Bhagat Singh Nagar ), (22) তারণ তারণ ( Taran Taran )।

ALL TOTAL LIST OF 40 VERY BIG, MOST POPULAR OR FAMOUS LOCAL FAIRS & MAJOR FESTIVALS:-

(I) Buddha Jayanti, (ii) Christmas, (iii) Holi, (iv) Lohri / Makar Sankranti, (v) Maghi Purnima, (vi) Basant Kite Festival, (vii) Vaisakhi, (viii) Teeyan, (ix) Diwali, (x) Dussehra, (xi) Rama Navami, (xii) Bandi Chhor Divas, ( xiii) Rakhi ( Raksha Bandhan ), (xiv) Eid-Ul-Adha, (xv) Eid-Ul-Fitr, (xvi) Eid-e-Milad-Un-Nabi, (xvii) Muharram, (xviii) Mela Chiragan, (xix) Rath Yatra Nabha, (xx) Hola Mohalla, (xxi) Baba Bakala, (xxii) Baisakhi National Fair, (xxiii) Birthday of Guru Nanak Dev Sahib, (xxiv) Dera Baba Nanak Gurdaspur, (xxv) Gurudwara Fatehgarh Sahib Jor Mela, (xxvi) Gurudwara Nanaksar Jagraon, (xxvii) Gurudwara Thumb Sahib of Maghi Kartarpur, (xxviii) Guru Gobind Singh Jayanti, (xxix) Guru Gobind Singh's Birthday, (xxx) Harballabh Sangeet Sammelan, (xxxi) Ludhiana Jarag Mela, (xxxii) Martyr's Day, (xxxiii) Prof. Mohan Singh Mela Ludhiana, (xxxiv) Mukatsar Maghi Fair ( Sri Muktsar Sahib ), (xxxv) Rauza Sharif of Sirhind Fatehgarh Sahib, (xxxvi) Rose Festival in Chandigarh, (xxxvii) Kila Raipur Sports Festival, (xxxviii) Guru Ramdas Jayanti, (xxxix) Sri Guru Granth Sahib, (xxxx) Baba Sodal Mela etc.

এই রাজ্যের যেকোন জায়গায় যাওয়া আসা, থাকা খাওয়ার ব্যাপারে আগে থাকতে অনলাইন বুকিং-এর জন্য নীচের বিশ্বস্ত ওয়েবসাইটগুলির মধ্যে এক বা একাধিক ব্যবহার করতে পারেন। [ FOR ONLINE BOOKING OF FOODS / FLIGHTS, TRAIN / RAILWAY RESERVATION, HOUSES ON RENT/ FLATS RENTAL / LODGES / RESORTS / HOMESTAYS / TENTS / HOTELS ROOMS IN ANY PLACE WITH DISCOUNT, CHEAP AIR TICKETS, BUS BOOKING, CAR HIRE ]:-
1. https://www.trivago.in
2. https://www.goibibo.com
3. https://www.makemytrip.com
4. https://www.yatra.com
5. https://www.cleartrip.com
6. https://www.tripadvisor.in
7. https://www.ixigo.com
8. https://www.zomato.com


[ TOP PLACES TO VISIT OR MAJOR TOURIST ATTRACTIONS IN PUNJAB, INDIA WITH PROPER TOUR PLAN ON MAIN TRAVEL DESTINATIONS AND OTHER NEAREST BEAUTIFUL SPOTS. ]

(ক) চন্ডীগড় -       এটি একটি  কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং পাঞ্জাব ও হরিয়ানা দুই রাজ্যের রাজধানী। অনেকগুলি সেক্টরে ভাগ করা এই শহর। প্রতিটি সেক্টরের মধ্যে বাস, অটো, রিকশা, ট্যাক্সির মাধ্যমে যোগাযোগ আছে। এখানকার দর্শনীয় স্থানগুলির মধ্যে যেগুলি প্রধান সেগুলি হলো সেক্রেটারিয়েট ভবন, উচ্চ ন্যায়ালয় বা মহাকরণ, বিধানসভা, স্টেট লাইব্রেরি, সুপার বাজার, শুকনা লেক, শান্তিকুঞ্জ, মুুুুনলাইট গার্ডেন, বোগেনভিলা গার্ডেন, রাজেন্দ্র পার্ক, মিউজিয়াম, বিশ্ববিদ্যালয়, রোজ গার্ডেন,  লিনিয়ার বা লেজার পার্ক, শহীদ স্মারক, জিওমেট্রিক হল, টাওয়ার অব্ শ্যাডো ইত্যাদি। খুবই সুন্দর, পরিষ্কার ও সাজানো গোছানো শহর হওয়ার কারণে UNESCO - এর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সিটির শিরোপা পেয়েছে।  সিটি সেন্টার বা  সেক্টর ১৭ হ'ল মূল প্রানকেন্দ্র। এখানে আছে জেলা সদর, ISBT Bus Terminus, শপিং সেন্টার, প্যারেড গ্রাউন্ড, ব্যাঙ্ক, জেলা আদালত প্রভৃতি। এই শহর দিনের থেকে রাতে আরও বেশি সুন্দর লাগে। বিভিন্ন রঙের  আলোয় আলোকিত রাস্তা, বাড়ি, ফোয়ারা ও পার্কগুলি শহরের সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে।

                      চণ্ডীগড়ের রক গার্ডেন ( Rock Garden of Chandigarh ) পর্যটন মানচিত্রে এক অনন্য স্থান করে নিয়েছে। ১০ হেক্টর জমির উপরে সেক্টর ১ - এ শহরের উত্তরে শুকনা লেকের পাশে এই অদ্ভুত সুন্দর যাদুপুরী গড়ে তোলা হয়েছে। এর স্রষ্টা হলেন PWD Road Inspector  নেক চাঁদ। শহরের জঞ্জাল, নদী নালা থেকে পাওয়া বিভিন্ন জিনিসের সাথে শিবালিক পাহাড়ের রঙীন নুড়িপাথর দিয়ে সাজিয়ে এই Fantasy of a Lost Kingdom গড়ে তোলা হয়েছে। মুক্তাঙ্গন থিয়েটার ও মিউজিয়াম, কৃত্রিম জলপ্রপাত, দরবার হল, প্যাভিলিয়ন রয়েছে এই Rock Garden - এ। বাইরে থেকে সেরকম আকর্ষণীয় না হলেও টিকিট কেটে ভিতরে ঢুকলে তারিফ তো করবেনই এমনকি সহজে বেরোতেও চাইবেন না। এর ঠিক পাশেই রয়েছে কৃত্রিম হ্রদ শুকনা লেক ( Sukhna Lake )। ৩ কি. মি. দৈর্ঘ্যের এই Sukhna Lake - এ শহরের স্থায়ী বাসিন্দারা এবং পর্যটকেরা সকাল ও সন্ধ্যা বেলায় হাঁটতে আসেন। শীতকালে দেশান্তর থেকে আসা পরিযায়ী পাখিরা ( Immigrated Birds ) এই হ্রদের আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে তোলে। বিভিন্ন বিনোদনেরও যেমন, বোটিং, রোয়িং, স্কেলিং, সেইলিং ও ওয়াটার স্কিয়িং এর ব্যাবস্থা আছে এখানে। এগুলো সোমবার বন্ধ থাকে।

                শহরের উত্তর-পূর্বে আছে দুধসাদা চন্ডীদেবীর মন্দির ( Chandidevi Temple )। শুকনা লেক থেকেই এই মন্দিরের চূড়া দেখা যায়। এই চন্ডী মাতার মন্দিরের ( Chandi Mata Mandir, Chandigarh ) নামেই এই শহরের নামকরণ হয়েছে। শহর থেকে এই মন্দির পর্যন্ত বাস সার্ভিস চালু আছে।

                     আর এক আকর্ষণীয় দ্রষ্টব্য হলো পাঞ্জাব ও হরিয়ানা উভয় প্রদেশের সেক্রেটারিয়েট ( Secretariat ), হাইকোর্ট ( High Court ) এবং লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি ( Legislative Assembly ) বিল্ডিং ত্রয়ী। চিরাচরিত ধারার বদলে নানান আঙ্গিকে তৈরি করা এই তিন স্থাপত্য শহরের গর্ব। শুধু এই তিনটিই নয় এখানকার প্রতিটি স্থাপত্যেই আছে অভিনবত্বের ছোঁয়া। তেমনি Geometric Hill, Tower of Shadow - তেও আছে নতুনত্বের ছোঁয়া।

                এরপরে চলে আসুন লে করবুসিয়েরের সৃষ্ট মিউজিয়াম ও আর্ট গ্যালারি ( Museum and Art Gallery, Le Corbusier )।  সেক্টর নম্বর ১০ - এ পাশাপাশি অবস্থান এদের। মোগল - কাংড়া - রাজস্থানি মিনিয়েচার ছবি, মর্ডান আর্টের প্যানেল চিত্রের বিশাল সংগ্রহ এই গ্যালারিকে এক অন্য মাত্রা দিয়েছে। এর সাথে উপরিপাওনা হিসেবে রয়েছে অবনীন্দ্রনাথ, রোয়রিকের ছবি, স্বদেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ শিখ ক্যানভাস ছবিগুলো। পাশের মিউজিয়ামও ( Natural History Museum, Chandigarh ) দেখার মতো। এখানে প্রাচীন যুগের অনেক ঐতিহাসিক সংগ্রহ রয়েছে। নানান ফসিল, গান্ধার যুগ থেকে পরবর্তী সময়ের অনেক রকম ভাস্কর্য, টেরাকোটা দেখে নিতে পারেন। সেক্টর ১০-এই আছে ইভোলিউশন অব লাইফ মিউজিয়াম ( Evolution of Life Museum )। এখানে সিন্ধু সভ্যতার সময় থেকে আরম্ভ করে এই সময় পর্যন্ত নানান জিনিস রয়েছে। তেমনই, ১৭ সেক্টরের সেন্ট্রাল লাইব্রেরি ভবনের ন্যাশনাল পোর্ট্রেট গ্যালারি ( National Portrait Gallery in Central Library Building ) ও সেক্টর ২৩ - এর বালভবনে ২৫ টি দেশের পুতুলের সংগ্রহ নিয়ে গড়ে ওঠা ইন্টারন্যাশনাল ডলস মিউজিয়ামও ( International Dalls Museum ) দেখে নিতে ভুলবেন না। রবিবার বাদে অন্যান্য দিন খোলা থাকে।

                    সেক্টর ১৪ - এ অবস্থিত পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় ( Punjab University ) ভবনও কম আকর্ষণীয় নয়। উঁচু নীচু পাহাড়ি এলাকা ও Building Area - র চৌহদ্দির মধ্যেকার অনেকগুলো পার্ক ও জলাশয় সমৃদ্ধ সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ এই বিল্ডিং চত্বরকে আরো রমণীয় করে তুলেছে। এখানকার গান্ধী ভবনের শোভা ক্যামেরাবন্দি করে নিতে ভুলবেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন আর্টস মিউজিয়াম, লাইব্রেরী ভবন ও গোলাকার স্টুডেন্টস ভবন সত্যিই অভিনব। ঘুরতে ঘুরতে যদি খিদে পায় তাহলে স্টুডেন্টস ভবনের উপরতলার সস্তা ক্যান্টিনে স্বল্পমূল্যের সুস্বাদু খাবারে আপনিও উদরপূর্তি করতে পারেন।

                    সেক্টর ১৬ - এ ২৭ একর জমির উপর গড়ে তোলা এশিয়ার বৃহত্তম গোলাপ বাগান জাকির গোলাপবাগে ( Zakir Rose Garden, Chandigarh ) এসে দেখে নিন বিভিন্ন আকার ও বিভিন্ন রঙের গোলাপ ১৬০০ থেকে ২০০০ রকমের ৫০০০০ গাছে ফুঁটে আছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি খোলা থাকে। এই বাগানের গায়েই রয়েছে স্টেডিয়াম। কাছে আছে ওষধি বৃক্ষের বাগান শান্তিকুঞ্জ ( Shantikunj )। সেক্টর ১০ - এ রয়েছে ফিটনেস ট্রেল ( Fitness Trail ), যেখানে ফুলবাগানের মধ্যে প্রাতভ্রমনের সাথে শারীরিক কসরত করেন আবালবৃদ্ধবনিতা সকলে। সেক্টর ৩-এ ২০ একরের বোগেনভিলা বাগিচায় ( Bougainvillea Park ) ১০০ - এর বেশি রকমের বোগেনভিলা ফুল দেখুন। এছাড়াও সেক্টর ২৩ এর চিলড্রেনস ট্রাফিক পার্ক ( Children's Traffic Park ), সেক্টর ৩৬ এর সুগন্ধি পার্ক ( Garden of Fragrance ), সেক্টর ১ -এ আছে রাজেন্দ্রপার্ক স্মৃতি উপবন ( Rajindra Memorial Park ), আর আছে শহর থেকে ১৫ কি.মি. দূরের জিরাকপুরে বিখ্যাত ছাটবীর জ্যুলজিক্যাল গার্ডেন ( M.C. Zoological Park, Chhat Bir Zoo, Zirakpur )। আশাকরি, আপনার চন্ডীগড় ভ্রমণ সুখের হবে।

Which is The Best Time to Visit?

                   চন্ডীগড় বেড়াতে যাবার সেরা সময় বসন্তকাল। গাছেদের নতুন কচি সবুজ পাতা ও রঙীন ফুলেরা শহরের আকাশ-বাতাসকে এক অনির্বচনীয় মাধুর্যে ভরিয়ে তোলে। ক্যাসিয়া ফুলের সৌন্দর্যের কোন তুলনা হয় না। চুক্তিতে অটো বা ট্যাক্সি নিয়ে একদিনেই পুরো শহর দেখে নেওয়া যায়।

এই শহরে ঘুরতে আসলে ( When You are at Chandigarh ) কতকগুলি অতি প্রয়োজনীয় ঠিকানা ( Address ) ও ফোন নম্বর ( Telephone Number ) অবশ্যই সঙ্গে রাখবেন:-

(1) Chandigarh Transport Undertaking ( CTU ) - 2700006,
(2) Haryana Roadways - 2704014,
(3) Himachal Roadways - 2668943,
(4) Punjab Roadways - 2704023,
(5) Pepsu Roadways ( PRTC ) - 2704128,
(6) Train Reservation Enquiry - 2653131,
(7) City Reservation Centre, Sector 17 - 2708573,
(8) Train Arrival or Departure - 131/132/2641651,
(9) Indian Airlines Reservation, Sec 34 - 2624943,
(10) Chandigarh Industrial & Tourism Development Corporation ( CITCO ), Sec 17-B - 2703839,
(11) Punjab Tourism Dev. Corp. ( PTDC ), Sec 8-c - 2699140,
(12) Haryana Tourism Corp. ( HTC ), Sec 17-B - 2704886,
(13) Himachal Pradesh Tourist Information Centre ( ISBT ) - 2708569,
(14) Uttar Pradesh Tourist Reception Centre ( ISBT ) - 2707649,
(15) Foreigners Regional Registration Office - 2741100 / Ext. 2259,
(16) CITCO's Tours & Travel Wing ( ISBT Room 84 ) - 2703839.

CITCO - এর প্যাকেজ ট্যুরে মাত্র ৫০ টাকায় একদিনে পুরো শহর ঘুরে দেখতে পারেন। তাছাড়া, চন্ডীগড়, পাঞ্জাব ও উত্তর ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের ট্যাক্সিও এদের কাছ থেকে ভাড়ায় পাওয়া যায়। যোগাযোগের ঠিকানা - Tour & Travel Wing, ISBT, Room No. 84, Sector 17, Chandigarh. Tel - 4644484.

CITCO - র সদর কার্যালয় - SCO, 121 - 122, Sec - 17B, Chandigarh - 160017. Telephone - 2704761/2704356/4644430.

কলকাতায় এদের মার্কেটিং এজেন্ট - Diamond Tours & Travels, 30 Jadunath Dey Road, Kol - 700012, Dial - 22259639; Himalchura Travels & Tours, P-263, CIT, Scheme-4/M, Kol - 700010, Tel - 23708004.

কিভাবে যাবেন? How to Reach / Go?

                   রেলপথে ভারতের যেকোন প্রান্ত থেকে দিল্লি হয়ে এই শহরে পৌঁছনো যায়। বিমানপথে যেকোন প্রথম শ্রেণীর শহর থেকে সরাসরি অথবা দিল্লি হয়ে যাওয়া যায়। এছাড়া, উত্তর ভারতের বিভিন্ন শহরের সাথে সড়কপথে বাসেও যেতে পারেন।

কোথায় থাকবেন? Where to Stay? Fooding & Lodging.

                     এখানে থাকা খাওয়ার জন্য প্রচুর হোটেল ও রেস্টুরেন্ট রয়েছে। আপনি এখানে পৌঁছে বেছে নিতে পারেন। অথবা, এই পেজের উপরের দিকে দেওয়া Trusted Website Link-এর মাধ্যমে বুকিং করতে পারেন আগে থেকে। 

[ Famous Tourist Spots New Delhi Tourism ]

PAST HISTORY & SOME VALUABLE INFORMATIONS ABOUT DELHI:-

→     প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দিল্লি ভারতের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রায় তিন হাজার বছরের পুরাতন এই স্থান। মহাভারতের সময়ে এর নাম ছিল ইন্দ্রপ্রস্থ। ১০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের কিংবদন্তি রাজা দিল্লুর ( Dillu ) নাম থেকে অথবা প্রাচীন নগরী দিল্লিকা ( Dhillika ) থেকে রূপান্তরিত হয়ে প্রথমে Dilli এবং পরে Delhi নামকরণ হয়। প্রথমে ছিল নগরী, তারপর হলো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ( Union Territory ), আর বর্তমানে এটি ভারতের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য।

        এর রাজধানী নিউ দিল্লি ( Capital City is New Delhi )। এই রাজ্যের আয়তন ( Total Area ) হ'ল ১৪৮৪ বর্গ কি. মি. ( ৫৭৩ বর্গ মাইল )। মোট জনসংখ্যা ( Total Population ) ১৬৭৫৩২৩৩ জন। প্রতি ১০০০ পুরুষে নারীর সংখ্যা মাত্র ৮৬৬ জন ( Sex Ratio of Male and Female )। প্রতি বর্গ কিলোমিটার জনঘনত্ব ( Density of Population ) ১১২৯৭ জন। সাক্ষরতার হার ( Percentage of Literacy ) ৮৬.২১%। প্রধান ভাষা হিন্দি ( Main Official Language is Hindi )। এছাড়া, ( Other Languages ) পাঞ্জাবি, উর্দু এবং ইংরেজি ভাষারও বেশ ভালো চল আছে। মাথাপিছু বার্ষিক আয় ( Per Capita / Head Yearly Average Income ) ৩৬৫৫৩০ টাকা।

WHEN SHOULD YOU GO THERE? / BEST TIME TO VISIT OR TRAVEL THIS STATE. AVERAGE WEATHER OR CLIMATE.

          অক্টোবর, নভেম্বর, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাস এখানে ঘুরতে আসার উপযুক্ত সময়। এই সময়ে শীতও একটু বেশি থাকে। সমগ্র রাজ্যে শীতকালের ব্যাপ্তিও বেশি। শীত থাকে নভেম্বরের শেষ থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। এই সময়ে তাপমাত্রা ( Temperature ) থাকে ৭° থেকে ২৩° সেলসিয়াসের মধ্যে। তবে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে ৩° থেকে ৪° সেলসিয়াসেও নেমে যায়। সাথে থাকে কনকনে হাওয়া। তাই যথেষ্ট পরিমাণে গরম পোশাক সঙ্গে রাখা দরকার। আবার গরমকালেও গরম পড়ে অস্বাভাবিক রকমের। দিনে ৪১° থেকে ৪৫° সেলসিয়াসের মধ্যে তাপমাত্রা থাকে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বর্ষাকাল। সমগ্র দিল্লি জুড়ে প্রচুর ঐতিহাসিক ও আধুনিক দর্শনীয় স্থান আছে। সব কিছু ঠিকঠাক ভাবে দেখতে-জানতে ( Explore ) গেলে ১০ থেকে ১৫ দিনের সময় নিয়ে ঘুরতে আসা উচিত।

Delhi Government Official Website Portal - https://www.delhi.gov.in

Delhi State Tourism Department Website - http://www.delhitourism.gov.in

 →       দয়া করে এই রাজ্যের জেলা, জেলা সদর, সাব ডিভিসন এবং তহশিল এলাকাগুলিকে বন্ধনীতে দেওয়া নাম্বার অনুযায়ী সাজিয়ে পড়ে নিন।

Districts - New Delhi (1), North Delhi (2), North West Delhi (3), West Delhi (4), South West Delhi (5), South Delhi (6), South East Delhi (7), Central Delhi (8), North East Delhi (9), Shahdara (10), East Delhi (11).

Headquarters - Connaught Place (1), Alipur (2), Kanjhawala (3), Rajouri Garden (4), Dwarka (5), Saket (6), Defence Colony (7), Daryaganj (8), Nand Nagri (9), Shahdara (10), Preet Vihar (11).

Sub Division or Tehsils - [ Chanakyapuri, Delhi Cantonment, Vasant Vihar](1), [ Model Town, Narela, Alipur ](2), [ Rohini, Kanjhawala, Saraswati Vihar ](3), [ Patel Nagar, Punjabi Bagh, Rajouri Garden ](4), [ Dwarka, Najafgarh, Kapashera ](5), [ Saket, Mauz Khas, Mehrauli ](6), [ Defence Colony, Kalkaji, Sarita Vihar ](7), [ Kotwali, Civil Lines, Karol Bagh ](8), [ Seelampur, Yamuna Vihar, Karawal Nagar ](9), [ Shahdara, Seemapuri, Vivek Vihar ](10), [ Gandhi Nagar, Preet Vihar, Mayur Vihar ](11).

ALL TOTAL LIST OF 20 VERY BIG, MOST POPULAR OR FAMOUS LOCAL FAIRS & MAJOR FESTIVALS:-

(i) Lohri Festival, (ii) Republic Day Parade, (iii) Army Day, (iv) Kite Flying Fest, (v) Maha Shivratri, (vi) Diwali, (vii) International Trade Fare, (viii) Mango Festival, (ix) Independence Day, (x) Qutub Festival, (xi) Dussehra, (xii) Guru Purab ( Guru Nanak Jayanti, (xiii) Phool Walon Ki Sair, (xiv) Urs Al Hazrat Nizamuddin Aulia's Shrine, (xv) Baisakhi Festival, (xvi) Basant Panchami, (xvii) Beating The Retreat Ceremony, (xviii) Delhi Book Fair, (xix) The Delhi Flower Show, (xx) Garden Tourism Festival.

এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং ভারতের রাজধানী শহরের যেকোন জায়গায় যাওয়া আসা, থাকা খাওয়ার ব্যাপারে আগে থাকতে অনলাইন বুকিং-এর জন্য নীচের বিশ্বস্ত ওয়েবসাইটগুলির মধ্যে এক বা একাধিক ব্যবহার করতে পারেন। [ FOR ONLINE BOOKING OF FOODS / FLIGHTS, TRAIN / RAILWAY RESERVATION, HOUSES ON RENT/ FLATS RENTAL / LODGES / RESORTS / HOMESTAYS / TENTS / HOTELS ROOMS IN ANY PLACE WITH DISCOUNT, CHEAP AIR TICKETS, BUS BOOKING, CAR HIRE ]:-
1. https://www.trivago.in
2. https://www.goibibo.com
3. https://www.makemytrip.com
4. https://www.yatra.com
5. https://www.cleartrip.com
6. https://www.tripadvisor.in
7. https://www.ixigo.com
8. https://www.zomato.com

[ TOP PLACES TO VISIT OR MAJOR TOURIST ATTRACTIONS IN DELHI & NEW DELHI, INDIA WITH PROPER TOUR PLAN ON MAIN TRAVEL DESTINATIONS AND OTHER NEAREST BEAUTIFUL SPOTS. ]

                সমস্ত দিল্লি ও নিউ দিল্লি শহর জুড়ে প্রচুর দর্শনীয় স্থান আছে। ভারতের রাজধানী শহর এটি। প্রচুর ঐতিহাসিক নিদর্শন আছে অনেক পুরাতন এই শহরে। সমস্ত ঠিকমতো দেখতে গেলে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় লাগবে। প্রথমেই আসছি বারখাম্বা রোডের FICCI -এর বিল্ডিং -এ স্থিত ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের ( Natural History Museum ) কথায়। এখানে ফসিল, স্টাফড জীবজন্তু, বিশালাকার ডাইনোসর ও নানা ধরনের পাখি রয়েছে। ডিসকভারি ঘরটিও আশ্চর্যজনক জিনিসে ভরা। এখানে ফিল্ম শোয়েরও ব্যাবস্থা রয়েছে। ইন্ডিয়া গেটের কাছে ড: জাকির হোসেন মার্গে জয়পুর হাউসে ন্যাশনাল গ্যালারি অব মডার্ন আর্ট ( National Gallery of Modern Art, Tel - 23382835 ) যে কোন দিন সকাল ১০ টার পর টিকিট কেটে দেখে নিন। এখানে রবীন্দ্রনাথ, অবনীন্দ্রনাথ, নন্দলাল বসু, যামিনী রায়, অমৃতা শেরগিল সহ বিভিন্ন বিশ্ববিখ্যাত শিল্পীর ছবির বিশাল ভান্ডার রয়েছে। আর্ট রেফারেন্স লাইব্রেরির ( Art Reference Library ) বই ও পত্রপত্রিকার বৈচিত্রপূর্ণ বিশাল সংগ্রহ যে কোন শিল্প-সাহিত্যরসিককে মুগ্ধ করবেই। এরপর আসছি ন্যাশনাল রেল মিউজিয়ামের ( National Rail Museum, Chanakyapuri ) প্রসঙ্গে। চাণক্যপুরীর ভূটান হাউসের ঠিক পিছনে এই মিউজিয়ামের অবস্থান। সপ্তাহের সোমবার ও সরকারি ছুটির দিন বাদে বাচ্চাদের সঙ্গে নিয়ে টিকিট কেটে দেখে আসুন। ১০ একর জায়গা জুড়ে এই সংগ্রহশালায় অনেকগুলি লোকোমোটিভ ও ক্যারেজের সংগ্রহই শুধু নয়, বরোদা মহারাজার সেলুন কার, সোনা ও হাতির দাঁত বাঁধানো কাঠের তৈরি মহীশূর মহারাজার ক্যারেজ, প্রিন্স অব ওয়েলসের কেবিন, গান্ধীজীর চিতাভস্মবাহিত বগি, আছে ১৮৫৫ সালে তৈরি বিশ্বের প্রাচীনতম বাষ্পীয় ইঞ্জিন ফেয়ারি কুইন। টয় ট্রেনেও চড়ে নিতে পারেন। স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে কিছু জিনিসও কিনে নিতে পারেন। এখানে রেস্তোরাঁ ও লাইব্রেরিও আছে।

             জোরবাগে তিব্বত হাউসে আছে টিবেট মিউজিয়াম ( Tibet Museum, Tibet House )। সোমবার থেকে শুক্রবার অবধি খোলা থাকে। এখানে চীনের তিব্বত দখলের পর লাসা থেকে ভারতে চলে আসা দলাই লামার সঙ্গে আনা হাতে তৈরি তিব্বতীয় সুন্দর জিনিসের সংগ্রহ। এখান থেকে কেনাকাটা করতেও পারেন। পালাম মার্গে আছে এয়ারফোর্স মিউজিয়াম ( Air Force Museum, Palam, New Delhi )। এটি মঙ্গলবার ছাড়া রোজ খোলা থাকে। ফিলাটেলিক মিউজিয়াম ( National Philatelic Museum, Dak Bhaban, Sardar Patel Chowk, Sansad Marg, New Delhi ) আছে সংসদ মার্গের ডাক ও তার ভবনে। ১৮৫৪ সালে প্রকাশিত প্রথম ডাকটিকিট ও বিভিন্ন সময়ের ভারতীয় ডাকটিকিটের স্মারক, ফার্স্ট ডে কভার দেখতে ও কিনতে পারেন। শনিবার ও রবিবার ছাড়া রোজ খোলা থাকে।

                      সন্ধ্যাবেলায় ইংরেজি ও হিন্দি ধারাভাষ্যে মোঘল যুগ থেকে ভারতের স্বাধীনতাপ্রাপ্তি পর্যন্ত ঘটনাক্রম দেখুন Son-et Lumiere লালকেল্লায়। সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য ও টিকিট পেয়ে যাবেন ITDC, L Block, Rajib Chowk, Tel - 23412336 থেকে। পারলে লালকেল্লার সামনের চাঁদনি চক, পার্লামেন্ট স্ট্রিট ও কনট সার্কাস পায়ে হেঁটে দেখে নিন। আধুনিক স্থাপত্যের নিদর্শন হয়ে গড়ে উঠেছে চাণক্যপুরী। এই এলাকার বৈচিত্র্যেভরা গঠনশৈলী পর্যটকদের রীতিমতো আকর্ষণ করে। শাহজাহান কন্যা জাহানারা বেগমের হাতে গড়া ইতিহাস প্রসিদ্ধ চাঁদনি চক ( Chandni Chowk ) বর্তমানে দিল্লি শহরের অন্যতম বিশেষ বানিজ্যিক এলাকা। লালকেল্লার কাছেই রয়েছে প্রাচীন দিগম্বর জৈন মন্দির ( Shri Digambar Jain Temple, Opposite Red Fort )। সুুুন্দর  কারুকার্য করা এই মন্দিরে ২৩ তম জৈন তীর্থঙ্কর স্বামী পার্শ্বনাথের মূর্তি পূজিত হয়। জুুুতোব্যাগসহ সমস্ত চামড়াজাত জিনিস জমা রেখে এখানে প্রবেশ করতে হয়। এই মন্দিরে একটি পক্ষী হাসপাতাল আছে। দিনরাত পাখিদের সেবা চিকিৎসা চলছে এই হাসপাতালে। কাছেই রয়়েছে শিশগঞ্জ গুরুদ্বারা ( Gurudwara Sis Ganj Sahib ji, Chandni Chowk Road, New Delhi )। গুরু তেগবাহাদুরের স্মারকস্বরূপ এই অনন্য শিখতীর্থ। চাঁদনি চকের কাছে কোতোয়ালী পুলিশ স্টেশন পেরিয়েই আছে সুনেরি মসজিদ ( Sunehri Masjid / Mosque, Nishad Raj Marg, Lal Qila, Old Delhi )। এই মসজিদের ছাদ থেকে নাদির শাহ সৈন্য পরিচালনা করতেন। চাঁদনির এক প্রান্তে রয়েনছে শাহজাহানের হাতে তৈরি ফতেপুরি মসজিদ ( Fatehpuri Masjid / Mosque )। ডানহাতের চার্চ মিশন রোড সোজা দিল্লি জংশন স্টেশন অবধি গিয়েছে। নতুন দিল্লির প্রধান ডাকঘরের কাছে বাবা খড়ক সিং মার্গে পবিত্র বাংলা সাহিব গুরুদ্বারা ( Sri Bangla Sahib Gurudwara, Connaught Place, New Delhi )। প্রচলিত আছে যে, এর জলাশয়ের অমৃতসমান জলে নানা রোগব্যাধির উপশম হয়। লঙ্গরখানার প্রসাদেরও যথেষ্ট সুখ্যাতি আছে। মোঘল দরবারের সাথে ১০ম গুরু গোবিন্দ সিংহর ঐতিহাসিক সাক্ষাতের নিদর্শনরূপে যমুনা পুলিনে হুমায়ুন সমাধির নিকটের দমদমা সাহিব গুরুদ্বারা ( Gurudwara Damdama Sahib, Nizamuddin East, New Delhi )। রিং রোডে মহারানী বাগ কলোনির বিপরীতে গুরুদ্বারা বালা সাহিব ( Gurudwara Bala Sahib )। এছাড়া, কাশ্মীরি গেটে ব্রিটিশের ক্যান্টনমেন্ট ( British Cantonment, Kashmiri Gate ) নগরী, সেন্ট জেমস চার্চ ( St. James Church ), মিউটিনি মেমোরিয়াল ( Mutiny Memorial ), কুদসিয়া গার্ডেন ( Qudsia Bagh, Railway Colony, New Delhi ) ইত্যাদি পর্যটন স্থলগুলি সত্যি দেখার মতো।                                    

কুতুব মিনার ( Qutub Minar ) -  কুতুব উদ্দিন আইবকের ভারত বিজয়ের স্মারক সৌধরূপে গড়ে তোলা হয় এই ৭২.৫ মি. উঁচু এই বিজয়স্তম্ভ। শেষ হিন্দু রাজা পৃথ্বীরাজের বিধ্বস্ত দূর্গ কিলা রায় পিথোরাতেই গড়ে ওঠে এই মিনার। ৩৬৭ ধাপের ঘোরানো সিঁড়ি উঠেছে সামান্য হেলে থাকা কুতুবে। গোড়া থেকে ক্রমশঃ সরু হয়ে উঠে গেছে। কোরানের আয়াত ফুঁটিয়ে তোলা হয়েছে। পাঁচ তলার এই স্থাপত্যটি ১৯৯৩ সালে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ শিরোপায় ভূষিত হয়। লাল বেলেপাথরের প্রথম তলাটি নির্মিত হয় কুতুবউদ্দিন আইবকের হাতে। লাল বেলেপাথরের ২য় ও ৩য় তলা দুটি তৈরি হয়েছে ইলতুৎমিসের সময়ে। বেলেপাথর ও সাধারণ পাথরে ৪র্থ ও ৫ম নির্মাণ করা হয় ফিরোজ শাহ তুঘলকের আমলে। ১৮০৩ সালের ভূমিকম্পে ৫ম তলার গম্বুজটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে ১৮২৯-এ নতুন করে গম্বুজটি তোলেন ব্রিটিশ মেজর রবার্ট স্মিথ। পরে গম্বুজটিকে নীচে নামিয়ে পাশের বাগানে রাখা হয়। নীচের কম্পিউটার কিয়স্ক ও জায়ান্ট টেলিভিশনের পর্দায় কুতুব মিনারের উপর থেকে চারপাশ দেখার স্বাদ পাওয়া যায়। লোটাস টেম্পল, ছত্তারপুর টেম্পল, আলাই মিনার ধরা পড়ে উপরের ক্যামেরায়। ১৯৮১ সালে একটি প্রানঘাতী মর্মান্তিক দূর্ঘটনার পরে বেশ কিছু বছর স্তম্ভের শীর্ষে ওঠার দরজা বন্ধ ছিল। ২০০৩ সালে আবার তা জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। সম্প্রতি সন্ধ্যাবেলায় আলোকসজ্জারও ব্যাবস্থা করা হয়েছে। এই এলাকায় প্রবেশ করতে গেলে যৎসামান্য টাকার টিকিট কেটে ঢুকতে হয়। এর ঠিক পাশেই রয়েছে ৪র্থ শতকের রাজা চন্দ্রভার্মার তৈরি লৌহমিনার ( Iron Pillar )। বহুশত বছর পরেও এই পিলারে কোন মরচেই ধরেনি। সম্ভবত বিষ্ণুপাদ পাহাড়ের বিষ্ণু মন্দিরে বিক্রমাদিত্য চন্দ্রগুপ্ত দ্বারা স্থাপিত বিষ্ণুধ্বজ এটি। প্রচলিত আছে, কেউ পিছন ফিরে দুই হাত দিয়ে মিনারটি পুরো জড়িয়ে ধরতে পারলে তিনি রাজা হবেনই। আপনি যদি রাজা হতে চান তাহলে আপনিও গিয়ে একইরকম ভাবে জড়িয়ে ধরুন। যদি সত্যি রাজা হয়ে যান তাহলে বুঝবেন রটনাটি মিথ্যে নয়।

                   Qutub Minar- এর উত্তর পশ্চিম লাগোয়া এলাকায় আছে কুওয়াত উল ইসলাম মসজিদ ( Quwwat ul Islam Mosque / Masjid ) যেটা কুতুব আইবকের হাতে ১১৯৩ থেকে ১১৯৮ সালের মধ্যে হজরত মহম্মদের মদিনার বাড়ির নকল করে গড়ে উঠেছে। ভাস্কর্যযুক্ত ধনুকের আকারের খিলানে অলঙ্কৃত ১৬ মিটার উঁচু প্রার্থনা হল, ইন্দো-ইসলামিক ধারায় খোদাই করা বেলেপাথরের পর্দা, হাতে লেখা কোরানের আয়াত ও পদ্মে অলঙ্কৃত মক্কামুখী আকর্ষণীয় কুওয়াত। কারুকার্যকরা শতাধিক থাম আনা হয়েছে ২৭ টি হিন্দু ও জৈন মন্দির থেকে। পূবদিকের ঢোকার দরজায় উল্লেখও করা আছে সেকথা। কুতুবউদ্দিনের জামাই শামসুদ্দিন ইলতুৎমিস ও আল্লাহর দূত আলাউদ্দিন খিলজির সময়ে দুই বার এই মসজিদের আকার ও আয়তন বাড়ে।

                    ১৩১১ খ্রিস্টাব্দে কুতুব মিনারের দক্ষিণ পূর্বে আলাউদ্দিনের সময় তৈরি হওয়া আলাই দরওয়াজা ( Alai Darwaza ) অর্থাৎ আলাই মিনারের সুন্দর প্রবেশদ্বারটিও এককথায় অনবদ্য। পুরো স্থাপত্যটিই তৈরি হয়েছে জাফরি ও লাল বেলেপাথর দিয়ে। এটি দিয়ে প্রবেশ করেই পৌঁছে যাবেন আলাউদ্দিনের অসম্পূর্ণ স্বপ্ন আলাই মিনার ( Alai Minar )। এর উচ্চতা ২৭ মিটার। আলাউদ্দিনের মনের বাসনা ছিল যুদ্ধ জয়ের স্মারক হিসেবে এই আলাই মিনারটি কুতুবের চেয়েও বেশি উঁচু করবেন। কিন্তু, মৃত্যু ও উপযুক্ত উত্তরসূরির অভাবে এই স্বপ্ন একতলাতেই আটকে যায়। এই চত্বরেই ইলতুৎমিস ও আলাউদ্দিনের সমাধি ( Tombs of Iltutamish and Allauddin ) রয়েছে।

                      মেহেরৌলি গ্রামে আকবরের পালিত ভাই আদম খানের আটহাতি সুন্দর সমাধিস্থল বা ভুলভুলাইয়া ( Tomb of Adam Khan or Bhool Bhulaiya, Mehrauli, New Delhi ) সত্যিই তারিফ করার মতো। শোনা যায়, সেইসময়ে লালকেল্লার সাথে Bhool Bhulaiya - র সুরঙ্গপথে যোগাযোগ ছিল। মেহেরৌলির মোগল বাগিচাটিও ( Mughal Gardens ) অতি মনোরম। এই অঞ্চলের আর এক আকর্ষণ ইলতুৎমিসের নির্মিত আউলিয়া মসজিদ ( Auliya/Aulia Masjid )। এছাড়া আছে জামালি কামালি মসজিদ ( Jamali Kamali Mosque ), শেষ মোঘল সম্রাটের জাফরমহল প্রাসাদ ( Zafar Mahal Palace )। কুতুবের ৫ কি. মি. পশ্চিমে অবস্থিত ভারতের প্রাচীনতম কবর মামুদের সমাধিসৌধ। ১২২৯ সালে হিন্দু ও মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর সমন্বয়ে তৈরি এটি। ইলতুৎমিসের ছেলে মামুদ। আর রয়েছে খিরকী মসজিদ ও বেগমপুরী দরগাহ। এত সুন্দর সুন্দর ঐতিহাসিক নিদর্শন থাকা সত্ত্বেও সরকারি উদাসীনতায় মেহেরৌলি আজ পুরোপুরি অবহেলিত।

তুঘলকাবাদ দুর্গ ( Tughlakabad Fort on Mehrauli  to Badarpur Road, Delhi ) - কনট প্লেস থেকে ১৫ কি. মি. দূরে মেহেরৌলি বদরপুর রোডের উপর তুঘলকাবাদে গিয়াসুদ্দিনের গড়া তারই বংশের নামে নামাঙ্কিত এই ঐতিহাসিক দূর্গটি অবস্থিত। মঙ্গোলীয় আক্রমণের ভয়ে ভীত হয়ে তিনি ১০ থেকে ১৫ মিটার উঁচু ১৩ টি প্রবেশদ্বার যুক্ত এই দূর্গ তথা রাজধানীটি গড়েন। ৬.৫ কি. মি. পরিধির এই সুবিশাল, মজবুত, অনবদ্য গঠনশৈলীর এই স্থাপত্যটি অবশ্য ১৫ বছর পরেই পরিত্যক্ত হয়। সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ঐতিহাসিকরা জলাভাবকেই তুলে ধরেন। গিয়াসুদ্দিনের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র মহম্মদ বিন তুঘলক এই স্থানের ঠিক ১ কি. মি. দূরে একটি পাহাড়ি টিলার উপরে আদিলাবাদ দূর্গ ( Adilabad Fort ) নির্মাণ করেন। ৫ বছর পরে মহম্মদ বিন তুঘলক এখান থেকে তাঁর রাজ্যপাট দাক্ষিণাত্যের দেবগিরিতে স্থানান্তর করেন। কথিত আছে, গিয়াসুদ্দিনের ধর্মগুরু শেখ নিজামুদ্দিনের অভিশাপে তুঘলক বংশই ধ্বংস হয়। বর্তমানে তুঘলকাবাদ ও আদিলাবাদ দুটি জায়গায় ভুতুড়ে শহরে পরিণত হয়েছে। দূর্গের দক্ষিণ দরজার কৃত্রিম জলাশয়ের মধ্যিখানের গম্বুজের উপরে অবস্থিত গিয়াসুদ্দিন, বেগম সাহিবা ও তাঁদের পুত্র মহম্মদ বিন তুঘলকের সুন্দর সমাধি  ( Tombs of Ghiyasuddin, Begum Sahiba, Muhammad Bin Tughlaq ) দেখলে আপনি অবশ্যই কল্পনায় তুঘলকি আমলে হারিয়ে যাবেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই দুটি দূর্গ খোলা থাকে। নামমাত্র প্রবেশমূল্যের বিনিময়ে ঢুকতে পারবেন। দিল্লির যন্তরমন্তর থেকে বদরপুরের বাসে অথবা মেহেরৌলি পৌঁছে তারপর এখান থেকে বিভিন্ন বাসে Tughlaqabad এবং Adilabad - এ পৌঁছতে পারবেন।

স্বামীনারায়ণ অক্ষরধাম ( Swaminarayan Akshardham ) -  নিউ দিল্লি স্টেশন থেকে NH -24 ধরে ১০ কি. মি. দূরের নয়ডা মোড়ে পৌঁছলেই পৌঁছে যাবেন দিল্লি ভ্রমণের এই নতুন আকর্ষণীয় গন্তব্যে। যমুনা নদীর তীরে প্রায় ১০০ একর জায়গা জুড়ে গড়ে উঠেছে ভগবান স্বামী নারায়ণের এই সুন্দর মন্দিরটি। এটি ১৪১ ফুট উঁচু, ৩১৬ ফুট চওড়া, ৩৫৬ ফুট লম্বা এই অনিন্দ্যসুন্দর স্থাপত্যটি। ৯ টি গম্বুজ ও ২০ টি চূড়া যুক্ত গোলাপি পাথরে তৈরি এই মন্দিরে সব মিলিয়ে ২০ হাজারেরও বেশি অপরূপ ভাস্কর্য মূর্তি আছে। দশটি কারুকার্যময় প্রবেশ পথ, মন্ডপ, প্রদর্শনকক্ষ, স্বামী নারায়ণের পায়ের ছাপ, মিউজিক্যাল ফোয়ারা, বাগান, জায়েন্ট স্ক্রিন থিয়েটার, বোট রাইডিং সহ নানা আয়োজন রয়েছে। সোমবার ছাড়া অন্যান্য দিন জনসাধারণের জন্য সবকিছু উন্মুক্ত থাকে। তবে সবকিছু দেখতে হয় টিকিট কেটে। আরও বিস্তারিত জানতে - Swaminarayan Akshardham, Akshardham Setu, NH - 24, Noida - 110092, Tel - 22016688/22026688. - এই ঠিকানায় যোগাযোগ করুন।

সূরজ কুন্ড ( Surajkund ) - কুতুব মিনার থেকে মাত্র ১১ কি. মি. দূরে দিল্লি-আগ্রা রোডে হরিয়ানা রাজ্যের ফরিদাবাদ জেলায় সূরজ কুন্ড অবস্থিত। কথিত আছে, দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির জলাভাব মেটাতে ১১ শতকে টোমররাজ সূরজপল এই কুন্ডটি খনন করান। এতে জল না থাকলেও পাশের সূর্য দেবতার মন্দিরটি এখনও রয়েছে। কিছুটা দক্ষিণে সিধা কুন্ড আছে। এখান থেকে ২ কি. মি. দূরে পশ্চিমে আছে অনঙ্গপুর বাঁধ ( Anangpur Dam )। বনে বনে ফুল ফুঁটে ওঠায় মে জুন মাসে চারিদিকের পরিবেশ মনোরম হয়ে ওঠে। প্রতি বছর ১লা থেকে ১৫ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে এখানে বিশাল মেলা বসে। থাকার জন্য এই স্থানে এবং কাছের ফরিদাবাদ শহরে হোটেল পেয়ে যাবেন। Surajkund থেকে ২২ কি. মি. দূরে আছে আরাবল্লী গল্ফ কোর্স। এখানে থাকার জন্য রয়েছে (1) Aravalli Golf Course, Tel - (0129) 2414810.

লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির ( Sri Laxmi Narayan Mandir or Birla Temple ) - কনট সার্কাসের পশ্চিমে ১৯৩৮ সালে রাজা বলদেও বিড়লা এই মন্দিরটি নির্মাণ করেন। এটি বিড়লা মন্দির নামেও একইরকমভাবে বিখ্যাত। এখানকার পূজিত দেবদেবীরা হলেন লক্ষ্মী, নারায়ণ, দূর্গা ও শিব। মন্দির মার্গের এই পবিত্র স্থাপত্যের কারুকার্যও বেশ সুন্দর। এর সমস্ত দেওয়ালে পৌরাণিক আখ্যান চিত্রিত রয়েছে। সর্বধর্ম সমন্বয়ও লক্ষ্য করা যায় লাল গৈরিকরঙা ও শ্বেত পাথরের তৈরি এই মন্দিরে। বৌদ্ধ ও শিখ ফ্রেস্কো, চীনা বুদ্ধিস্ট বেলও জায়গা পেয়েছে এখানে। এই চত্বরের ধর্মশালায় থাকার ব্যবস্থাও আছে। এর পূর্বদিকে বাবা খড়ক সিং মার্গে জয়পুরের মহারাজা জয় সিংহের দ্বারা ১৭২৪ সালে নির্মিত হনুমান মন্দিরটিও ( Hanuman Temple ) দেখার মতো।

কালীবাড়ি ( Kali Bari Temple, Mandir Marg, New Delhi ) - বিড়লা মন্দিরের ঠিক পাশে এই বাঙালি কালীবাড়ি মন্দিরটির এক আলাদা ঐতিহ্য ও গুরুত্ব আছে দিল্লিবাসীর কাছে। এই স্থানের আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্য লোকের মুখে মুখে। এই পবিত্রস্থানে একটি গেস্ট হাউস আছে। আপনি চাইলে এখানে দুই এক দিন থাকতে পারেন।

বাহাই মন্দির ( Bahai Mandir / Lotus Temple ) - এই মন্দিরটি মূলতঃ বাহাই ধর্মাবলম্বীদের। মানুষে মানুষে হানাহানি রুখতে এবং একজাতি একপ্রাণ এই মূলমন্ত্রকে বাস্তব রূপ দিতে সুদূর পারস্য দেশে বাহাউল্লাহ নামের এক মহান ধর্মপ্রচারক এই বাহাই ধর্মের প্রবর্তন করেন। ইনি ভারতে ধর্ম প্রচার করতে আসেন ১৮৭২ সালে। ১৯৮৬ সাল নাগাদ কালকাজির বাহাপুরে হিন্দুদের কালকা দেবীর মন্দিরের পাশে এই অনিন্দ্যসুন্দর না ফোঁটা পদ্মের আকারের মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। অনেকে একে লোটাস মন্দির বলে। সুন্দর সাজানো বাগানের মধ্যের ৯টি জলাশয়ের ফোয়ারার মাঝ দিয়ে ৯টি স্বর্গীয় পথ গেছে মূল প্রার্থনা সভায়। ৭০ মি. ব্যাসের হলে ১৩০০ ভক্তের বসার ব্যবস্থা আছে। ধর্মমত নির্বিশেষে সকলের প্রবেশের অধিকার আছে। সোমবার বন্ধ থাকে। কনট প্লেস থেকে বাস যাচ্ছে এখানে। মন্দিরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটটি হ'ল - http://www.bahaihouseofworship.in/

ইন্ডিয়া গেট (India Gate) - জনপথ রোডের কাছে ব্রিটিশের পক্ষে মিত্রশক্তির হয়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং আফগান যুদ্ধে নিহত ব্রিটিশ ও ভারতীয় সেনাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে তৈরি ৪২ মিটার উঁচু এই ইন্ডিয়া গেট বা ভারত তোরণ। ১৩৫১৬ জন সেনার নাম খোদিত রয়েছে ওয়ার মেমোরিয়ালে। পাশের খালে বোটিং-এর ব্যবস্থা আছে। রাতের বেলায় আলোকসজ্জায় তোরণটিকে আরও সুন্দর দেখায়। ইন্ডিয়া গেটের নীচে রয়েছে ১৯৭১-এ ভারত-পাক যুদ্ধে নিহত ভারতীয় জওয়ানদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ৪ টি শাশ্বত শিখা অমর জওয়ান জ্যোতি ( Amar Jawan Jyoti )। এই চত্বরের চারপাশেই রয়েছে সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিং, পার্লামেন্ট ভবন, রাষ্ট্রপতি ভবন, হায়দ্রাবাদ হাউস, বরোদা হাউস, ন্যাশনাল আর্কাইভ, জাতীয় মিউজিয়াম ইত্যাদি।

রাষ্ট্রপতি ভবন ( Rashtrapati Bhawan / President's Estate ) - ইন্ডিয়া গেটের বিপরীতে রায়সিনা পাহাড়তলিতে ৩৩০ একর জমির উপর ৩৪০ ঘর, ৩৫ লবির ৪ তলার এই বিল্ডিংটি গঠিত। কৃত্রিম পাহাড়, বাগান, ঝর্ণা, জলাশয়, মোগল উদ্যানে সজ্জিত হয়ে এই অতি বিশেষ ভবনটি মনোরম দর্শনীয় স্থান হয়েছে। ১৯২১ থেকে ১৯২৯ সালের মধ্যে Sir Edwin Lutyens -এর নকশায় ব্রিটিশ ভাইসরয় Lord Hardinge এর বাসভবনরূপে মোগল ও পাশ্চাত্য ধারার স্থাপত্যশৈলীর মিশ্রণ ঘটিয়ে এই ইমারতটি নির্মাণ করা হয়। H হরফের মতো তামা দিয়ে তৈরি আকাশি রঙের মূল গম্বুজটি সাঁচীর বৌদ্ধ স্তূপের আকারের, অলিন্দ হয়েছে হিন্দু মন্দিরের আদলে। রঙবেরঙের পাথর দিয়ে তৈরি দরবার হল, অশোক হল সবসময় মহামান্য রাষ্ট্রপতির নানা অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকে। মূল ফটকের পূর্বদিকে জয়পুর মহারাজার দেওয়া ১৪৫ মিটার উঁচু আকাশছোঁয়া জয়পুর থাম আছে। জাতীয় উৎসবের দিনগুলোতে পুরো ভবনচত্বরটি সুন্দর আলোকসজ্জায় সেজে ওঠে। শীতে ফুলের বাহার দেখার মতো। বিভিন্ন ফলের সংগ্রহও উল্লেখ করার মতো। উড়ে বেড়ানো রঙবেরঙের প্রজাপতি বাগানের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বাগিচা রক্ষনাবেক্ষনে নিযুক্ত আছেন ৪১৮ জন মালি। উটকো পাখি তাড়ানোর জন্য আরো ৫০ জন সদা ব্যস্ত থাকেন। দেখার অনুমতি মেলে কেবলমাত্র রাষ্ট্রপতির মিলিটারি সেক্রেটারির কাছ থেকে। আর বিদেশীরা এই অনুমতি পাবেন Government of India Tourist Office থেকে। সব তথ্য ঠিক থাকলে যেকোন পর্যটকই এই অনুমতি পেতে পারেন। ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ এই একমাস সোমবার ছাড়া প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সমস্ত জনসাধারণ এখানে ঢুকতে পারেন। বছরের অন্যান্য সময়ে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষেধ। রাজপথ থেকে যেটুকু দেখা যায় সেটুকু দেখেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে।

সংসদ ভবন ( Parliament House / Parliament of India ) - রাষ্ট্রপতি ভবনের উত্তর-পূর্বে সংসদ মার্গে অর্থাৎ Parliament Street - এ ব্রিটেনের সংসদ ভবনের অনুকরণে চক্রাকার এই সরকারি এই বিশাল ইমারতটি গঠিত হয়। ব্রিটিশের গড়া এই ১৭১মি. ব্যাসের বিল্ডিং-এ কাউন্সিল অব স্টেটস বা রাজ্যসভা এবং অ্যাসেম্বলি বা পিপলস হাউস অথবা লোকসভার সমস্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এখান থেকে। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, সাউথ আফ্রিকা এবং কানাডা সরকারের দান করা ৪টি ডমিনিয়ন কলামস বা থাম এই জায়গাটির মর্য্যাদা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতি শনিবার ১০.৩০টায় রাষ্ট্রপতি ভবন ও সংসদ ভবনের মাঝে জওয়ান প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। সত্যিই দেখার মতো একটি অনুষ্ঠান।

যন্তর মন্তর ( Jantar Mantar, Sansad Marg, New Delhi ) - এই প্রাচীন মানমন্দির বা অতীতের পঞ্জিকাটি তৈরি করান জয়পুরের মহারাজা সওয়াই দ্বিতীয় জয় সিং। এটি ১৭২৪ সালে সূর্য, চন্দ্র, গ্রহ, নক্ষত্রের গতিবিধি বোঝা এবং  সময় পরিমাপ করার জন্য।  বিশাল আকৃতির প্রিন্স ডায়ালটি এক কথায় অনবদ্য। মানমন্দির হিসেবে জয়পুরের পরেই এর স্থান। সকাল ৯ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। কাছেই আছে একই সময়ে তৈরি ভৈরব মন্দির।

জাতীয় মিউজিয়াম বা জাদুঘর ( National Museum, Janpath Road ) - জনপথ রোডের উপর আর একটি দ্রষ্টব্য স্থান হলো জাতীয় মিউজিয়াম অর্থাৎ জাদুঘর। ১৯৫৫ সালে জাতীয় জওহরলাল নেহেরু এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ১৯৬৫ সাল থেকে এই সংগ্রহশালার প্রদর্শন চালু হয়। মহেঞ্জোদরো, হরপ্পা, লোথাল, কালিবঙ্গান সহ অতীত সময়ের বিভিন্ন ঐতিহাসিক সংগ্রহ জায়গা পেয়েছে এই মিউজিয়ামে। ব্রাহ্মণিকাল, জৈন ও বৌদ্ধ স্থাপত্যের নমুনা আছে এখানে। ম্যুরাল ও মিনিয়েচার জাতীয় রঙীন চিত্রকলার Collection রয়েছে। মোগল, রাজপুত, ডেকান ও পাহাড়িশৈলীর ছবির সম্ভার দেখার মতো। গীতগোবিন্দ, সুন্দর অলঙ্কৃত মহাভারত, সোনালী হরফের ভগবৎ গীতা, অষ্টকোণী ছোট কোরান, বাবরের হাতে লেখা বাবরনামার পান্ডুলিপি, জাহাঙ্গীরের হাতে লেখা দিনপঞ্জী, তিন শতকেরও বেশি রকমের বাদ্যযন্ত্র, নানা উপজাতি পোশাক, অ্যান্টিক সামগ্রী মিউজিয়ামের সম্পদ। এখানকার নতুন সংযোজন হলো প্রাচীনযুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত অলঙ্কারের ক্রম পরিবর্তনের গ্যালারি। প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত এই জাতীয় জাদুঘরটি খোলা থাকে।

নেহেরু মিউজিয়াম ( Nehru Memorial Museum & Library, Teen Murti Bhavan & Marg ) - রাষ্ট্রপতি ভবনের দক্ষিণে তিনমূর্তি রোডে ১৯৪৮ সালে ব্রিটিশ কমান্ডার ইন চিফের বাসভবন ১৯৫৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে পরিণত হয়। সেই থেকে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর বাসস্থান হয় এই তিনমূর্তি ভবন। ১৯৬৪ তে তাঁর মৃত্যুর পর এখানে নেহরু মেমোরিয়াল মিউজিয়াম স্থাপিত হয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনের ব্যবহৃত এবং প্রধানমন্ত্রীরূপে দেশ বিদেশ থেকে পাওয়া উপহারের সংগ্রহ প্রদর্শিত হয় এখানে। তাঁর কর্মজীবনের আলোকচিত্রের ( Photography ) বিশাল সম্ভারও কম উল্লেখযোগ্য নয়। একটি লাইব্রেরিও আছে। সোমবার বাদে প্রত্যেকদিন সকাল ১০ টা থেকে ৫ টা অবধি জনসাধারণের জন্য খোলা থাকে। এই চত্বরের গোলাপ বাগানটিও খুব সুন্দর। এই বাগানে পাথরে খোদাই করা আছে ১৯৪৭ সালের ১৪ - ১৫ আগস্টের মধ্যরাতের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ জহরজ্যোতি।

ইন্দিরা স্মারক মিউজিয়াম ( Indira Gandhi Memorial Museum, 1, Safdarjung Road, Near Delhi Gymkhana Club, New Delhi ) -  ১ নম্বর সফদরজং রোডের বাড়িতে ১৯৮৫ সালের ২৭শে মে ইন্দিরা গান্ধীর স্মৃতিতে একটি সংগ্রহশালা গড়ে তোলা হয়েছে। ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দের ৩১শে অক্টোবর এক দেহরক্ষীর গুলিতে তিনি শহীদের মৃত্যুবরণ করেন। সেই নির্দিষ্ট জায়গাটিকে কাচের একটি বড়ো পাত্র দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগের মুহুর্তে বাগানের যে রাস্তা দিয়ে হেঁটে এসেছিলেন, সেই পথে চেক প্রজাতন্ত্র সরকারের পাঠানো শ্রদ্ধাঞ্জলি স্বরূপ ইস্পাতের পাতে স্ফটিক দিয়ে গড়া এক বিশাল বড়ো কৃত্রিম জলপ্রবাহ স্থাপিত আছে। মোট ৩ টি ঘর জুড়ে রয়েছে তাঁর জীবদ্দশার নানা আলোকচিত্রের সাথে ওঁনার ব্যবহৃত জিনিসের প্রদর্শনী। এমনকি রক্তাক্ত বস্ত্রখানিও রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করে প্রদর্শিত হয়েছে। আর দেখতে পারবেন পড়ার ঘর, খাবার ঘর, দেওয়ানি আম ও দেওয়ানি খাসসহ সমস্ত অন্দরমহল। সোমবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

ফিরোজ শাহ কোটলা ( Feroz Shah Kotla Fort, Balmiki Basti, Vikram Nagar, New Delhi ) - যারা খেলাধুলা করে বা ভালোবাসেন তাঁদের কাছে যমুনা ভেলোড্রোম এবং ইন্দ্রপ্রস্থ স্টেডিয়াম অত্যন্ত পরিচিত নাম। স্টেডিয়াম ও মথুরা রোডের মাঝে দিল্লি গেটের দক্ষিণে বাহাদুর শাহ জাফর মার্গে ১৩৫৪ সালে আলাউদ্দিনের সিরি নগরী অর্থাৎ আজকের হজ খাসে অর্ধশত বছর পরে ৫ম নগরী গড়ে তোলেন ফিরোজ শাহ তুঘলক। রিং রোড আছে ফিরোজ শাহ কোটলা ঘেঁষে। অতীতের সিরি নগরী নাম বদলে হয় ফিরোজাবাদ ( Firozabad )। গড়ে ওঠে ফিরোজ শাহ কোটলা নামের একটি দূর্গ। নতুন রাজধানীর আকর্ষণ বাড়াতে ১৩ মি. উঁচু মনোলিথিক বেলেপাথরের অশোক স্থম্ভটি ( Ashokan Pillar ) যমুনা নদীতে ভাসিয়ে আম্বালা থেকে আনিয়ে এখানে পোঁতা হয়। বিশাল সরোবরটি ( Royal Tank / Firoz Shah Kotla Baoli ) খনন করান ফিরোজ শাহ। এই সরোবরের পাড়ে লোধী স্থাপত্যশৈলীতে গড়া ফিরোজের মাদ্রাসার কেন্দ্রস্থলে ছিল ফিরোজ শাহের সমাধি এবং সুলতানা রিজিয়ার সমাধি। শহর থেকে এই ঐতিহাসিক স্থানের দূরত্ব মাত্র ৩.৫ কিলোমিটার।

পুরনো কিল্লা ( Purana Qila ) - কনট সার্কাস থেকে ৪ কি. মি. দূরে ইন্ডিয়া গেটের দক্ষিণ-পূর্বে হুমায়ুনের হাতে শুরু হয়ে শের শাহের হাতে এর নির্মাণ সমাপ্ত হয়। তখন এই দূর্গের নাম হয় শের গড়। তখন এর তিনদিকে পরিখা এবং পূর্ব দিকে যমুনা নদী ছিল। উঁচু প্রাচীরে ঘেরা দূর্গটির প্রবেশপথ তিনটি। উত্তরের তালাকি দরওয়াজা দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়ে শের মঞ্জিলের লাল বেলেপাথরের অষ্টভূজাকার চূড়া। লাল ধূসর রঙের ধনুকাকৃতি খিলানের শের শাহ গেটটিও সুন্দর। শের মঞ্জিলের ঠিক পিছনে দক্ষিণের হুমায়ুন দরওয়াজায় পুরাতত্ত্বের অমূল্য সম্ভার নিয়ে গড়ে ওঠা ফিল্ড মিউজিয়ামটিও কম আকর্ষণীয় নয়। এখানে খননকার্যের মাধ্যমে পাওয়া মোগল, সুলতান, রাজপুত, গুপ্ত, কুষাণ, সুঙ্গ, মৌর্য এমনকি খ্রিষ্টপূর্বাব্দের নানান সংগ্রহও স্থান পেয়েছে। ইন্দো-আফগান স্থাপত্যশৈলীতে সাধারণ পাথর ও লাল বেলেপাথরের গড়া শের শাহর কিল্লা-ই-কুহানা মসজিদটিও পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। এর ডাইনে আছে চিড়িয়াখানা, কাছেই হজরত নিজামউদ্দিন রেল স্টেশন। ইংরেজ সেনাপতি লে হাডসন, বাহাদুর শাহের ছেলে ও অন্যান্য পুরুষ বংশধরদের গুলি করে মেরে ঝুলিয়ে দেয় ফিরোজ শাহ কোটলার দিক থেকে পুরনো কেল্লার প্রধান প্রবেশপথের দ্বিতল বড়ো দরজায়। তারপর থেকে এর নাম হয় খুনি দরওয়াজা ( Khooni Darwaza )। আর কিছুটা গিয়ে মথুরা রোডে আছে খৈরুল মঞ্জিল প্রাসাদ।

                এই মথুরা রোডে পুরনো কেল্লার দক্ষিণে অবস্থিত চিড়িয়াখানা ( National Zoological Park, Mathura Road, Pragati Maidan, New Delhi )। ২০০০ রকমের জীবজন্তুর সাথে ভারতের কয়েক প্রজাতির বিরল বন্যপ্রাণীও রয়েছে এই প্রানী উদ্যানে। মণিপুর রাজ্যের স্যাঙ্গাই আছে এখানে। ভারতের প্রথম বাঘদম্পতি রাজা-রানীর বসবাস এখানে। চেনা-অচেনা নানা পাখির দেখা মিলবে এখানে। শুক্রবার চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকে।

             শিল্প বানিজ্য জগতে ভারতের প্রগতির প্রদর্শনশালা হলো প্রগতি ময়দান ( Pragati Maidan )। সারা বছরই এখানে বানিজ্য মেলা বা India International Trade Fair বসে। দেশের প্রতিটি রাজ্যের শিল্পের প্রদর্শনী মন্ডপ বসেছে পাকাপাকিভাবে। ভারতীয় সংস্কৃতির উপর আলোকপাত করতে পারে এরকম মিউজিয়ামও বসেছে অনেকগুলি। যেমন, নেহেরু প্যাভিলিয়ন, ইন্দিরা প্যাভিলিয়ন, সনস অফ ইন্ডিয়া প্যাভিলিয়ন, ডিফেন্স প্যাভিলিয়ন, ভিলেজ কমপ্লেক্স, এনার্জি ইজ লাইফ, বিভিন্ন হস্তশিল্পের ২০০০০ নিদর্শন নিয়ে গড়া ক্রাফট মিউজিয়াম ( Craft Museum ) ছাড়াও আছে আরও অনেক মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা এই প্রগতি ময়দানে। প্রত্যেক দিন খোলা থাকে। এর ঠিক বিপরীত দিকে অবস্থান করছে আমাদের দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্ট ( Supreme Court )।

                            পুরাতন কেল্লার ৩ কি. মি. দক্ষিণে বিখ্যাত লোধি গার্ডেন ( Lodhi Garden, Lodhi Road, Delhi ) অবস্থিত। এই অতি মনোরম বাগিচায় সৈয়দ ও লোধি শাসকদের সমাধি রয়েছে। এই বিশাল ঐতিহাসিক বাগানের মাঝামাঝি আছে বড়া গম্বুজ মসজিদ ( Bada Gumbad Mosque ), কিছুটা উত্তরে কাঁচের শীষ গম্বুজ ( Shish Gumbad ), নীলাভ টালিতে ফুল ও কোরানের আয়াত আঁকা আছে। অল্প দূরে আটকোণা সিকন্দর শাহ লোধির সমাধি ( Sikandar Shah Lodhi Tomb ) আর উত্তর-পূর্বের ১৬ শতকের নির্মিত আঠপুলা সেতু দেখে নিন।

ডলস মিউজিয়াম ( Shankar's International Dolls Museum, ITO, 4, Bahadur Shah Zafar Marg, Beside Central Bank, Nehru House, New Delhi, 110002.
Link - http://www.childrensbooktrust.com ) - সারা বিশ্বের মোট ৮৫ টি দেশ থেকে ৬০০০ - এরও বেশি পুতুলের বিশাল সংগ্রহ জায়গা পেয়েছে এই শঙ্করস ইন্টারন্যাশনাল ডলস মিউজিয়ামে। এই সংগ্রহশালাটি ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানকার জাপানি পুতুলের সম্ভার সত্যিই নজর কাড়ার মতন। সংখ্যার নিরিখে ভারতীয় পুতুলের পরিমাণই বেশি। এগুলো দেখে ভারতীয় সংস্কৃতির ধরন বোঝা যায়। সোমবার বাদে প্রতিদিন ১০ টা থেকে ৫.৩০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে এই জাদুঘর। আর আছে B. C. Roy Children's Library ও শিশুদের প্লে কর্নার।

রাজ ঘাট ( Raj Ghat, Mahatma Gandhi Was Cremated Here, Behind Red Fort, New Delhi - 110006 ) - জনপথ থেকে ৫ কি. মি. দূরে দিল্লি গেটের কাছে যমুনা নদীর তীরে নতুন ভারতের এই চিরস্মরণীয় জাতীয় মন্দিরটি অবস্থিত। জওহরলাল নেহেরু রোড এসে শেষ হয়েছে এই রাজঘাটের উল্টোদিকে। জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর শেষকৃত্য এখানেই সম্পন্ন হয় ১৯৪৮ সালের ৩১শে জানুয়ারি। স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে রয়েছে বর্গাকৃতির কালো পাথরের সমাধিবেদি। এই বেদির গায়ে খোদাই করা আছে ওঁনার শেষ উক্তি "হে রাম"। প্রতিদিন দেশীবিদেশী অগনিত পর্যটক আসেন বাপুজিকে শ্রদ্ধা জানাতে। প্রতি শুক্রবার ওঁনার মৃত্যুদিনে উপাসনা করা হয় এই স্থানে। এইখানেই আছে গান্ধী দর্শন ( Gandhi Darshan ), যেখানে ভাস্কর্য ও গান্ধীর বিভিন্ন সময়ের চিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে। এর ঠিক পাশেই বিরাজ করছে গান্ধী স্মারক সংগ্রহালয় ( Mahatma Gandhi Museum ), যেখানে ব্যক্তি জীবনের ব্যবহার করা অনেক জিনিসের প্রদর্শনী ছাড়াও প্রতি রবিবার বিকেল ৪ ঘটিকায় হিন্দিতে ও ৫ ঘটিকায় ইংরেজিতে সর্বোদয় আন্দোলনের উপর চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। শুধু প্রতি বৃহস্পতিবার এই মিউজিয়াম বন্ধ থাকে। আর এক অবশ্য দ্রষ্টব্য স্থান হ'ল গান্ধী বলিদান স্থল  ( Gandhi Smriti, Infront of National Defence College, 5, Tees January Marg Near Birla House, New Delhi, Delhi 110001 ) - এই জায়গাটি তিস জানুয়ারি রোডে ঠিক জাতীয় প্রতিরক্ষা মহাবিদ্যালয়ের সামনে এবং বিড়লা ভবনের কাছে অবস্থিত। ১৯৪৮ সালের ৩০শে জানুয়ারি বিকেল ৫ টা বেজে ৫ মিনিট নাগাদ বিড়লা ভবনে উপাসনায় যাবার পথে এক সন্ত্রাসী আততায়ীর গুলিতে মহাত্মা গান্ধী ঠিক এখানেই শহীদ হন। তাঁরই স্মৃতিতে বিড়লা ভবনে একটি মিউজিয়াম স্থাপিত হয়েছে। এখানে পুতুল এবং চলচ্চিত্রে গান্ধীচরিত দেখে নিতে পারবেন।

শান্তিবন ( Shantivan Memorial Park ) - রাজঘাটের উত্তরে রয়েছে শান্তিবন। ১৯৬৪ সালের ২৭শে মে স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পন্ডিত জওহরলাল নেহেরুর শেষকৃত্য হয় এই স্থানে। ঠিক সেই স্থানেই নেহেরুজীর সমাধিবেদি গড়ে তোলা হয়েছে। পাশেই রয়েছে ইন্দিরা গান্ধীর ছেলে সঞ্জয় গান্ধীর স্মৃতিবেদি, যিনি ১৯৮০ সালে এক বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান।

বিজয়ঘাট ( Vijay Ghat ) - এটিও রাজঘাটের কাছে অবস্থিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং একটি সুন্দর দর্শনীয় স্থান। ভারতের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রীর সমাধিবেদি রয়েছে এখানে। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাক যুদ্ধ জয়ের পর শান্তি সম্মেলনে গিয়ে রাশিয়ার তাসখন্দে মৃত্যু ঘটে শাস্ত্রীজীর। ১৯৬৬ সালে এখানেই ওঁনার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

শক্তিস্থল ( Shakti Sthal Memorial Park ) - রাজঘাট ও শান্তিবনের মাঝে ইন্দিরা গান্ধীর স্মৃতিতে একটি সুন্দর মন্দির এটি। এই মন্দিরটিকে ভারতের জাতীয় সংহতির প্রতীক রূপে বিবেচনা করা হয়। ১৯৮৪ সালের ৩১শে অক্টোবর তিনি শহীদের মৃত্যুবরণ করেন আর ৩রা নভেম্বর তাঁর মরদেহ দাহ করা হয় এই স্থানে। স্মৃতি চিহ্নস্বরূপ ধূসর-লাল রঙের একটি মনোলিথিক পাথরের সৌধ রয়েছে। কাছেই ইন্দিরা গান্ধীর ছেলে ভারতের আর এক বরেণ্য প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর মরদেহ দাহ করা হয় এই বীরভূমিতে। তাঁর স্মৃতিতেও একটি বেদি ও একটি মন্দির রয়েছে। দিল্লি বেড়াতে আসা যেকোন পর্যটকের কাছে এই অঞ্চলটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়। লাগোয়া পার্কের প্রতিটি গাছই কোন না কোন বিশ্ববিখ্যাত ব্যক্তির রোপণ করা। সান্ধ্যভ্রমণের পক্ষেও এই জায়গার পরিবেশ অতি মনোরম। এর কাছে যমুনা নদীর তীরে ভারতের পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী চরণ সিং-এর স্মৃতিতে কিষাণঘাট ( Kisan Ghat ) নির্মিত হয়েছে। রাজঘাটের বিপরীতে রিং রোডে যমুনা নদীর তীরে আর এক দর্শনীয় স্থান হ'ল জনপ্রিয় দলিত নেতা ভারতের আর এক প্রধানমন্ত্রী বাবু জগজীবন রামের সমাধি মন্দির।

লালকেল্লা ( Red Fort, Netaji Subhash Marg, Lal Qila, Chandni Chowk, New Delhi, Delhi 110006 ) - আগ্রা থেকে দিল্লি আসার পর মোগল সম্রাট শাহজাহান গড়ে তোলেন লাল বেলেপাথরের মোগলি স্থাপত্যশৈলীর এই লালকেল্লা দূর্গটি। ১৬৩৮ সাল থেকে দশ বছর ধরে এর নির্মাণ কাজ চলে। ১৮৫৭ সালে ব্রিটিশরা এর দখল নেন। ৩০০ বছর পরে ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট পন্ডিত জওহরলাল নেহেরু ব্রিটিশের ইউনিয়ন জ্যাক পতাকা নামিয়ে স্বাধীন ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। তারপর জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। দূর্গের গঠনশৈলী চোখে পড়ার মতো। প্রায় আটকোণা ২.৫ কি. মি. এলাকা জুড়ে থাকা এই দূর্গের চারপাশে ছিল ১১ মিটার গভীর পরিখা। যমুনার দিকে ১৮ মি. এবং শহরের দিকে ৩৩ মি. উঁচু পাঁচিল ছিল বিদ্যমান। ১৪ টি প্রবেশপথের মধ্যে ১২ টির সাথে পূর্বের পাঁচিলও বর্তমানে লোপ পেয়েছে। বর্তমানে কেবলমাত্র দুটি মূল গেট বা প্রবেশপথ আছে। একটি হ'ল দক্ষিণে দিল্লি গেট এবং অপরটি হলো পশ্চিমের লাহোর গেট। এই দিল্লি গেটের শোভা ১৯০৩ সালে লর্ড কার্জনের গড়া দুটি বিশাল হস্তিমূর্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। লাহোর গেট দিয়ে ঢুকেই আছে মিনা বাজার (Meena Bazar)। এখানে নানারকম অ্যান্টিক জিনিস কেনাবেচা চলে। লাহোরি গেটে অর্ধগোলাকার খিলান ও মার্বেল পাথরের গম্বুজ আছে। এরপরেই রয়েছে গান বাজনার নহবতখানা। এই চত্বরেই আছে আটকোণা বিশালাকার কিল্লা-ই-মুবারক ( Qila-i-Mubarak )। এর শিল্পকর্ম দেখার মতন। এই চত্বর পেরোলেই আছে দেওয়ান ই আম ( Diwan-i-Aam )। এখানেই প্রজারা সম্রাটের কাছে সমস্ত অভাব-অভিযোগ জানাতো। পরে ভাইসরয় লর্ড কার্জন এর সংস্কার করেন। দেওয়ান ই আমের পেছনে পার্সিয়ান চার বাগের ঢঙের ফোয়ারায় সুশোভিত উদ্যান ও ছয় মহলের ধ্বংসস্তুপ আছে।

                  এই উদ্যানের পিছনে সাদা পাথরের দেওয়ান ই খাস ( Diwan-e-khas ) আর এক বিশেষ আকর্ষণ। এটি হলো বিশেষ অতিথিদের সঙ্গে সম্রাটের মিলনক্ষেত্র। এর কারুকার্য ও স্থাপত্য এককথায় অনবদ্য। রঙবেরঙের রত্নখচিত স্তম্ভ শোভিত দেওয়ান ই খাসের জালির কাজ অতিসুন্দর। সকাল ও সন্ধ্যায় সম্রাট এখানে আসতেন। এখানকার অত্যন্ত দামি সম্পদ ছিল ময়ূর সিংহাসন। এটি নাদির শাহ লুঠ করে নিয়ে যান। এখন এই সিংহাসনটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। কাছে অবস্থিত বেগমদের রংমহলের ( Rang Mahal ) নয়নভুলানো সৌন্দর্য সত্যিই অতুলনীয়। রংমহলের একই স্থাপত্যশৈলীতে গড়া মমতাজ মহলে ( Mumtaz Mahal ) Archaeological Museum স্থাপন করা হয়েছে। প্রতি শুক্রবার বন্ধ থাকে। অন্যান্য দিন সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এই মহলের একদম দক্ষিণে আছে কাঁচে মোড়া মমতাজ বেগমের শিশমহল। রাজস্থানিশৈলীতে রঙীন কাঁচে আঁকা ছবি ও অমূল্য রত্নরাজিতে সজ্জিত এই শিশমহলের তুলনা খুঁজে বের করা মুশকিল। এর স্নানঘর বা হামামটিও অত্যন্ত সুন্দর।

                 রংমহলের উত্তর দিকে শাহজাহান নিজের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য একটি শ্বেত পাথরের ভবন নির্মাণ করেন। এরই নাম খাসমহল ( Khas Mahal )। শোনা যায় ভিতরের প্রতিটি অংশ অনবদ্য। কিন্তু, ১৮৫৭ সালে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির জন্য বর্তমানে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ আছে। দেওয়ানি খাসের উত্তর-পশ্চিমে ঔরঙ্গজেবের নির্মিত শ্বেত পাথরের মক্কামুখী মোতি মসজিদ ( Moti Masjid ) কেল্লার আর এক আকর্ষণীয় দ্রষ্টব্য। এটি সম্রাট নিজের ও পরিবারের মহিলা সদস্যাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পাঠের জন্য তৈরি করান। এই মসজিদটি আকারে ছোট হলেও কারুকার্য দেখার মতো। এরই পিছনে আছে মোগল উদ্যান।

                    লাল কেল্লার আর এক বিশেষ আকর্ষণ সন্ধ্যার শব্দ ও আলোর প্রদর্শনী। একে ইংরেজিতে বলা হয় "Son-et-Lumiere Show"। হিন্দি ও ইংরেজি ধারাভাষ্যে শব্দ ও আলোর প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মোগল যুগ থেকে আরম্ভ করে দেশের স্বাধীনতা প্রাপ্তি পর্যন্ত ৩৩০ বছরের ইতিহাস দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়। এই শো-এর ব্যাপক জনপ্রিয়তা আছে। মাত্র ১ ঘন্টার এই প্রদর্শনী টিকিট কেটে দেখতে হয়। তবে, বর্ষাকালে মাঝেমধ্যে বন্ধ থাকে।

জামা মসজিদ ( Jama Mosque ) - লালকেল্লার বিপরীতে সপ্তদশ শতাব্দীতে ওস্তাদ খলিলের কারিগরী বিদ্যায় মোতি মসজিদের আদলে এই Masjid-i-Jahanuma গঠিত হয়। এর জন্য সম্রাট শাহজাহান ১০ কোটি টাকা খরচ করেন। ভারতীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের নয়নের মণি এই জামা বা জুম্মা মসজিদ। এর প্রবেশদ্বার চারটি। এর মাথায় ৪০ মিটার উঁচু দুটি মিনার রয়েছে। টিকিট কেটে দক্ষিণের মিনারের মাথায় উঠে পুরো লালকেল্লা ও তার চারপাশের এলাকা দেখে নিতে পারেন। এর বিশাল চত্বরে একসাথে ২৫০০০ মানুষ উপাসনা করতে পারেন। ৩৫ ধাপ সিঁড়ি উঠে এর মূল উপাসনা কক্ষ। এই কক্ষটি লাল বেলেপাথর ও সাদা মার্বেল দিয়ে তৈরি। এটি তৈরিতে ৫ হাজার শ্রমিকের ৫ বছর সময় লাগে। এশিয়ার বৃহত্তম এই মসজিদে হজরত মহম্মদের দাড়ির একটি চুল, পায়ের চটি, তাঁর ব্যবহৃত কোরানের একটি অধ্যায়, সমাধি সৌধের চাঁদোয়া, পাথরে পায়ের ছাপ সংরক্ষিত আছে। শাহজাহানের নিয়োজিত ইমাম পরিবার বংশ পরম্পরায় এর ইমাম পদটি অলংকৃত করে রেখেছে। নামাজের সময় অন্য ধর্মের মানুষের প্রবেশ নিষেধ। ভিতরে খালি পায়ে, মাথা ঢেকে, লুঙ্গি পরে ঢুকতে হয়। সবই এখানে ভাড়ায় পাওয়া যায়। ছবি এবং ভিডিও তুলতে গেলে আগে থেকে টিকিট কাটতে হয়।

সফদরজং টুম্ব ( Safdarjung Tomb ) - কুতুব মিনারের পথে অরবিন্দ মার্গে সফদরজং টম্ব বা টুম্ব অবস্থিত। অযোধ্যার নবাব সুজা-উদ-দৌলা এই হুমায়ুন সৌধের আদলের সমাধিসৌধটি নির্মাণ করেন তাঁর পিতা মির্জা মুকিম আবুল মনসুর খানের সমাধির উপর। মোগল আমলের বাগিচা চারবাগের মাঝে মোগলি স্থাপত্যশৈলীর ৪০ ফুট উঁচু শেষ সমাধিসৌধও এটি। চারপাশে পাথরখচিত চার আজান মিনার এবং সাজানো গোলাপ বাগান রয়েছে।

বুদ্ধজয়ন্তী পার্ক ( Buddha Jayanti Park, Vandemataram Marg, Central Ridge Reserve Forest, New Delhi ) - বুদ্ধদেবের নির্বাণ লাভের ২৫০০ বছর পূর্তির স্মৃতিচিহ্নরূপে বন্দেমাতরম মার্গের পাশে সেন্ট্রাল রিজ সংরক্ষিত অরন্যে গড়ে তোলা সাজানো গোছানো অতি মনোরম বাগান হলো এই বুদ্ধজয়ন্তী পার্ক। সুদূর শ্রীলঙ্কা থেকে আসল বোধিবৃক্ষের একটি শাখা এনে এখানে পোঁতা হয়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির সুন্দর সুন্দর ফুল ফুঁটে থাকে এই বাগানে। স্থানীয় মানুষ এবং পর্যটকেরা এখানে এসে ঘুরে, বসে সময় কাটান। চড়ুইভাতি অর্থাৎ পিকনিকের আদর্শ পরিবেশ এটি।

হজরত নিজামউদ্দিন আউলিয়া দরগাহ ( Hazrat Nizammudin Aulia Dargah, Boali Gate Rd, Nizammudin West Slum, New Delhi - 110013 ) - লোধি রোডের বিপরীতে পুলিশ স্টেশনের পাশের সরু গলিপথ দিয়ে কিছুটা গেলেই পৌঁছে যাবেন এই বিশেষ ঐতিহাসিক স্থানে। লোধি স্থাপত্যশৈলীতে সাদা পাথরের নির্মিত মাথায় গম্বুজ নিয়ে শত শত বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে মুসলিমদের পবিত্র তীর্থক্ষেত্র হজরত নিজামউদ্দিন আউলিয়া দরগা। প্রধান সমাধিকক্ষটি জাফরির পর্দা ও ধনুকাকৃতি খিলানে সুশোভিত। চিস্তি সম্প্রদায়ের চতুর্থ গুরু শেখ নিজামউদ্দিনের দেহ সমাধিস্থ আছেন এখানে। প্রথম সৌধটি এখন আর নেই। এখনকার সৌধটি ১৫৬২ সালে গড়া। প্রতি শুক্রবার সন্ধ্যাবেলায় গুরুর সমাধির সামনে কাওয়ালি সঙ্গীতের আসর বসে। এখানে দর্শনীয় অন্যান্য জিনিসের মধ্যে আছে বিশাল একটি জলাশয়, ১৩২৫ সালে আলাউদ্দিন খিলজির গড়া বাইজেন্টাইন শৈলীর জমায়েৎখানা মসজিদ। এছাড়াও রয়েছে উর্দু ভাষার কবি মির্জা গালিব, আমির খসরু, স্থপতি ঈশা খান ও শাহজাহান কন্যা জাহানারার সমাধি। প্রতি বছর উরস পালিত হয় সাড়ম্বরে। মুসলিম সমাজের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী আজমেরে দরগা খাজা সাহেব দর্শনের পরে এই আউলিয়া দরগাহ দর্শন করতে হয়। কাছেই সুফি সম্প্রদায়ের ধর্মগুরু হজরত ইনায়েৎ খানের সমাধি ( Hazrat Inayat Khan Dargah, 129 Basti Hazrat, Lodhi Rd, Nizamuddin ) অবস্থিত। এটিও এরপরে দেখে নিন।

হুমায়ুনের সমাধি ( Humayun's Tomb, Opposite Mathura Road, Nizamuddin, Delhi 110013 ) - পুরানো কেল্লার ২ কি. মি. দক্ষিণে মথুরা রোডে দ্বিতীয় মোগল সম্রাট হুমায়ুনের সমাধিতে তাঁর মৃত্যুর কয়েক বছর পর আকবরের মা হামিদা বেগম ১৫ লক্ষ টাকা খরচ করে ৪৩ মিটার উঁচু এই আটকোণা সুরম্য সৌধ গড়ে তোলেন। এর মাথায় ৩৮ মি. উচ্চতাবিশিষ্ট পেঁয়াজের আকারের গম্বুজ রয়েছে। পরবর্তী কালে তাঁর বিধবা সহধর্মিনী হাজী বেগম বা হামিদা বেগমও সমাধিস্থ হন এইখানেই। ফোয়ারায় সুশোভিত মোগল উদ্যান চারবাগের মধ্যে পারসীয় স্থাপত্যশৈলীতে হালকা হলদেটে লাল বেলেপাথরের সাথে নানা রঙের পাথর দিয়ে নির্মিত এই সুন্দর ঐতিহাসিক সমাধিসৌধটি সত্যিই মনোমুগ্ধকর। খিলানের জাফরির কাজ অবশ্যই তারিফের যোগ্য। তাজমহলেরও অনেক আগে তৈরি এটি। তাজসহ অনেক সুন্দর মোগল স্থাপত্যের অনুপ্রেরণা এই প্রাচীন সৌধটি। এখানেই সমাধিস্থ রয়েছেন দারাশিকো, সুজা, মুরাদ, নাতি ও পুত্রসহ শেষ মোগল সম্রাট বাহাদুর শাহ। পাশেই রয়েছে মদিনার আদলের একটি মসজিদ। UNESCO-এর বিশ্ব হেরিটেজ তালিকাভুক্ত ভারতীয় ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। কাছেই নিজামউদ্দিন রেল স্টেশন। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত অবধি খোলা থাকে। টিকিট কেটে প্রবেশ করতে হয়। তবে শুক্রবার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দর্শন করা যায়। এখান থেকে ৩ থেকে ৩.৫ কিলোমিটার দূরে সম্রাট অশোকের রক এডিক্টও দেখে আসতে পারেন।

দিল্লি সফরের সময় আপনার কেনাকাটা। What are The Things You Should Buy ( Marketing ) While Traveling in Delhi?

                  একটা কথা প্রচলিত আছে যে, সারা ভারতের এখানে ওখানে যা যা জিনিস পাওয়া যায় তার সবটুকুই আপনি কিনতে পারবেন দিল্লির দোকানপাটে। প্রতিটি দ্রব্য ভারতের অন্যান্য শহর থেকে দামেও কিছুটা সস্তা পড়ে। তবে, পর্যটকমহলে আইভরির নানান জিনিস, চাঁদনি মার্কেটের জুতো, উলের পোশাক ও ইলেকট্রনিক্স গুডস -এর যথেষ্ট বেশি পরিমাণে জনপ্রিয়তা ও চাহিদা আছে। ঝলমলে সাজে আপনার প্রতিক্ষায় রয়েছে কনট প্লেসের গভর্নমেন্ট সেলস এম্পোরিয়াম, পাশেই অবস্থিত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পালিকা বাজার। জনপথের সেন্ট্রাল কটেজ ইন্ডাস্ট্রিজে অথবা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন দোকানপাট থেকেও কেনাকাটা করতে পারবেন। বাবা খড়ক সিং মার্গেও এম্পোরিয়াম তৈরি করেছে আমাদের দেশের নানা রাজ্য সরকার। প্রগতি ময়দানে বিভিন্ন রাজ্য সরকার তাঁদের স্থানীয় হস্তশিল্পসামগ্রী বিক্রি ও প্রদর্শনের জন্য স্থায়ী মন্ডপ গড়েছেন। দামে কিছুটা বেশি হলেও সরকারি দোকানের জিনিসের নির্ভরযোগ্যতা অনেক বেশি। দিল্লি ট্যুরিজম খোলা আকাশের নীচে হস্তশিল্প বাজার গড়ে তুলেছে লক্ষ্মীবাঈ নগরে। দিল্লীর লাড্ডুর স্বাদ নিতে চাইলে চলে যান চাঁদনির শিশগঞ্জ গুরুদ্বারার পাশে ঘন্টেবালার দোকানে। মুসলিম সংস্কৃতির বিভিন্ন সামগ্রী কিনতে হলে যেতে হবে জামা মসজিদ এলাকার মিনাবাজারে। দরিয়াগঞ্জ বিখ্যাত নতুন ও পুরাতন বইয়ের বাজারের জন্য। যেকোনো ধরণের জিনিস এক জায়গা থেকে কিনতে হলে চলে যান নিউ দিল্লি রেল স্টেশনের পশ্চিমে কিছুটা হেঁটে পাহাড়গঞ্জ বাজারে। ঐতিহাসিক বা অ্যান্টিক বস্তু কেনা উচিত হবে ডক্টর জাকির হোসেন রোডে অবস্থিত সুন্দরনগর মার্কেট থেকে। নামমাত্র দামে সেকেন্ড হ্যান্ড জিনিস কিনতে হলে যান লালকেল্লার পিছনের Chori Bazar - এ। এটি প্রতি রবিবার সারাদিন খোলা থাকে। এছাড়াও অনেক ছোট বড়ো নানা বাজার রয়েছে শহর জুড়ে। সমগ্র দিল্লীতে চুল কাটার সেলুন বন্ধ থাকে প্রতি মঙ্গলবার।

কিভাবে যাবেন? How to Reach / Go?

                         ট্রেনে কিংবা প্লেনে করে দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে সহজেই দিল্লী যাওয়া যায়। বিদেশ থেকে যদি আসতে চান তাহলে সোজা বিমানে করে চলে আসুন। জাহাজে চড়ে আসলে প্রথমে মুম্বাই অথবা চেন্নাই পৌঁছে তারপর ট্রেনে অথবা প্লেনে চেপে সোজা দিল্লী যান।

কোথায় থাকবেন? Where to Stay? Fooding & Lodging.

                           থাকা ও খাওয়ার জন্য সারা শহর জুড়ে বিভিন্ন মানের আর দামের হোটেল, রেস্টুরেন্ট রয়েছে। তাই আগে থেকে বুকিং না করে আসলেও হবে। আগে থেকে বুকিং করে আসতে চাইলে এই পেজের উপরের দিকে দেওয়া Trusted Website Link-এর মাধ্যমে বুকিং করে আসতে পারেন।

মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৯

[ Uttarakhand Tourism Tourist Attractions ]

PAST HISTORY & SOME VALUABLE INFORMATIONS ABOUT UTTRAKHAND:-

→       অনেকে বলেন যে এই পৃথিবীতে যদি কোথাও প্রকৃত স্বর্গ থেকে থাকে তো সেটা গাড়োয়াল হিমালয়ের কোলে অবস্থিত উত্তরাখন্ড রাজ্যে। এক সময়ে ফুলে ফলে ভরা সবুজে ছাওয়া গাড়োয়াল হিমালয়ে দেবতাদের বাস ছিল। তাই একে দেবভূমিও ( Devabhumi ) বলা হয়। সাধুসন্তের পদধূলি সমৃদ্ধ এবং বাঙালি পর্যটকদের চোখের মণি ঋষিকেশ ও হরিদ্বারের অবস্থান এই রাজ্যেই। হরিদ্বারকে এই স্টেটের প্রবেশদ্বার ( Gateway ) বলা হয়। হিন্দুদের অতি পবিত্র এবং অন্যতম চার মহাতীর্থ কেদারনাথ-বদ্রীনাথ-গঙ্গোত্রী-যমুনোত্রীর অবস্থান এই অঞ্চলকে বিশ্বের দরবারে এক অন্যমাত্রার মর্যাদা পেতে সাহায্য করেছে। তেমনি শিখদের মহাপবিত্র তীর্থক্ষেত্র হেমকুন্ড সাহিবও এই রাজ্যে স্বমহিমায় বিরাজ করছে। হিমালয়ের সৌন্দর্য দেখতে দেশ বিদেশের পর্যটকেরা এখানে আসেন। এক ডজনেরও বেশি অত্যন্ত মনোরম বিশ্ববিখ্যাত শৈল শহর ( Hill Station ) আছে। জিম করবেট অভয়ারণ্য ( Reserve Forest ) সমেত ৬টি জাতীয় উদ্যানের ( National Park ) অবস্থান এই রাজ্যে। এখানে বিশাল পরিমাণে বৈচিত্র্যে ভরা বনজ সম্পদ আছে।

 →     উত্তরাখন্ড সংঘর্ষ সমিতির দীর্ঘ দিনের আন্দোলনের ফলে ২০০০ সালের ৯ই নভেম্বর উত্তরপ্রদেশের পাহাড়ি অঞ্চল নিয়ে প্রথমে গঠিত হয় উত্তরাঞ্চল রাজ্য। পরে ২০০৬ সালের ২৮শে ডিসেম্বর সরকারি আদেশ অনুসারে উত্তরাঞ্চলের নাম বদলে বর্তমানের নামকরণ করা হয়।

            আয়তনে ছোট হলেও এখানকার পর্যটন শিল্পের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে এবং এটি প্রধান অর্থকরী শিল্পও বটে। এর রাজধানী দেরাদুন ( Capital City is Dehradun )। মোট আয়তন ৫৩৪৮৩ বর্গ কি. মি. ( ২০৬৫০ বর্গ মাইল )। মোট জনসংখ্যা ( Total Population ) ১০০৮৬২৯০ জন। এখানকার মানুষদের উত্তরাখন্ডী ( Uttarakhandi ) বলা হয়। জনঘনত্ব ( Population Density ) বা প্রতি বর্গ কিলোমিটারে বাস করেন ১৮৯ জন। প্রতি ১০০০ পুরুষে নারী আছেন ৯৬৩ জন ( Women Men Sex Ratio )। সাক্ষরতার হার ( Percentage of Literacy ) ৭৯.৬৩%। মাথাপিছু বার্ষিক আয় ( Average Yearly Income Per Head / Capita ) ১৯৮৭৪০ টাকা। প্রধান সরকারি ভাষা হল হিন্দি ও সংস্কৃত। প্রধান ফুল ব্রহ্মকমল ( Brahma Kamal )। প্রধান নদী গঙ্গা ( The Ganges )। সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল ( Football )।

            মোট জেলা ( Total Number of Districts is 13 ) আছে ১৩টি। যথাক্রমে, (1) আলমোড়া ( Almora ), (2) বাগেশ্বর ( Bageshwar ), (3) চামোলি ( Chamoli ), (4) চম্পাবত্ ( Champawat ), (5) দেরাদুন ( Dehradun ), (6) হরিদ্বার ( Haridwar ), (7) নৈনিতাল ( Nainital ), (8) পৌরি গাড়োয়াল ( Pauri Garhwal ), (9) পিথোরাগড় ( Pithoragarh ), (10) রুদ্রপ্রয়াগ ( Rudraprayag ), (11) তেহরি গাড়োয়াল ( Tehri Garhwal ), (12) উধম সিং নগর ( Udham Singh Nagar ), (13) উত্তরকাশী ( Uttarkashi )।

Uttrakhand Government Official Site - https://www.uk.gov.in

Tourism Department Official Website - https://www.uttarakhandtourism.gov.in

IMPORTANT OFFICE ADDRESSES, CONTACT TELEPHONE NUMBERS FOR EMERGENCY ENQUIRIES WHEN YOU ARE TRAVELLING DIFFERENT PLACES IN  / ESSENTIAL ADDRESSES OF GOVT. TOURISM OFFICES, TRAVEL AGENCIES FOR ALL TOURISTS:-

                 ভ্রমণ সংক্রান্ত যে কোন খোঁজ খবর নিতে সরাসরি যোগাযোগ করুন -
Director of Tourism, 3/3 Industrial Area, Patel Nagar, Saharanpur Road, Dehradun - 248001, Tel - ( 0135 ) 2721289 অথবা 74 - 1, Rajpur Road, Dehradun, Tel - 2746817.

কলকাতায় যোগাযোগের ঠিকানা -
(ক) GMVN - Marshal House, 33/1, N. S. Road, Kol - 2, 2nd Floor, Room No. 224. Tel - 22315554/9831110999; (খ) KMVN - 7/2, C. Chakraberia Road ( South ), Bhawanipur, Kol - 25, Tel - 24868295/9339878995; (গ) Himalchura Travels & Tours, P-263, C. V. T. Road, Scheme IVM, Beliaghata, Kol- 10, Tel-23708004; (ঘ) Diamond Tours & Travels, 30 Jadunath Dey Road, 2nd Floor, Kol- 12. Tel - 22259639

ALL TOTAL LIST OF 22 VERY BIG, MOST POPULAR OR FAMOUS LOCAL FAIRS & MAJOR FESTIVALS:-

(i) Kumbh Mela, (ii) Basant Panchami, (iii) Bhilauli and Harela, (iv) Uttarakhandi Holi, (v) Makar Sankranti, (vi) Kale Kauwa or Ghughutia, (vii) Phool Dei, (viii) Ganga Dussehra, (ix) Kandali, (x) Bat Savitri, (xi) Purnagiri Mela, (xii) Syalde Bikhauti Fair, (xiii) International Yoga Festival Rishikesh, (xiv) Ghee Sankranti, (xv) Hill Jatra, (xvi) Kanwar Yatra, (xvii) Bissu Mela, (xviii) Nanda Devi Mela & Raj Jat Yatra, (xix) Magh Mela, (xx) Uttarayani Fair, (xxi) Egaas, (xxii) Bagwal Fair.

AVERAGE WEATHER OR CLIMATE. WHEN SHOULD YOU GO THERE? / BEST TIME TO VISIT OR TRAVEL THIS STATE:-

                  গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা থাকে ২৪° সেলসিয়াস। আবহাওয়া থাকে অত্যন্ত মনোরম। তেমনি শীতকালে অসম্ভব ঠান্ডা পড়ে। শীতের সময় উত্তর অংশে বেশিরভাগ সময় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নীচেই থাকে। তুষারপাত হয়। মাঝে মাঝে বৃষ্টিপাতও হয়ে থাকে। আর বর্ষাকালে প্রবল বৃষ্টিপাতের সাথে প্রায়শই পাহাড়ে ধ্বস নেমে জনজীবন বিপর্যস্ত হতে দেখা যায়। সবদিক দিয়ে বিচার করলে যারা নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করতে চান তাঁদের মার্চ মাস থেকে মে মাসের মধ্যেই যাওয়া উচিত। আর যারা তুষারপাত দেখতে চান এবং বরফে ঢাকা উত্তরাখন্ডের মজা নিতে চান, তারা শীতকালে এখানে ঘুরতে আসতে পারেন।


এই রাজ্যের যেকোন জায়গায় যাওয়া আসা, থাকা খাওয়ার ব্যাপারে আগে থাকতে অনলাইন বুকিং-এর জন্য নীচের বিশ্বস্ত ওয়েবসাইটগুলির মধ্যে এক বা একাধিক ব্যবহার করতে পারেন। [ FOR ONLINE BOOKING OF FOODS / FLIGHTS, TRAIN / RAILWAY RESERVATION, HOUSES ON RENT/ FLATS RENTAL / LODGES / RESORTS / HOMESTAYS / TENTS / HOTELS ROOMS IN ANY PLACE WITH DISCOUNT, CHEAP AIR TICKETS, BUS BOOKING, CAR HIRE ]:-
1. https://www.trivago.in
2. https://www.goibibo.com
3. https://www.makemytrip.com
4. https://www.yatra.com
5. https://www.cleartrip.com
6. https://www.tripadvisor.in
7. https://www.ixigo.com
8. https://www.zomato.com

[ TOP PLACES TO VISIT OR MAJOR TOURIST ATTRACTIONS IN UTTARAKHAND, INDIA WITH PROPER TOUR PLAN ON MAIN TRAVEL DESTINATIONS AND OTHER NEAREST BEAUTIFUL SPOTS. ]

দেরাদুন ( Dehradun ) - দেরাদুন শব্দের অর্থ হল ছবির মতো সুন্দর উপত্যকা। শিক্ষা-দীক্ষা-সংস্কৃতিতে যথেষ্ট উন্নত এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম এই উপত্যকা। দক্ষিণ-পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে গঙ্গা নদী আর উত্তর-পশ্চিম পাশে যমুনা নদী। উত্তরে হিমালয় পর্বতমালা আর দক্ষিণে শিবালিক পাহাড়। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এই জায়গা। নিবিড় বনানী ও অগুনতি পাহাড়ি ঝর্ণা এই স্থানের সৌন্দর্যে এক অন্যমাত্রা যোগ করেছে। সারা বছরই এখানকার আবহাওয়া অতি মনোরম। রেল স্টেশনের কাছেই রয়েছে শিখ গুরু রাম রায়ের হাতে গড়া দরবার সাহিব গুরুদ্বারা ( Darbar Sahib Sri Guru Ram Rai Maharaj Gurudwara, Arhat Bazar Rd, Jhanda Bazar, Jhanda Mohalla, Dehradun - 248001 )। প্রতি বছর হোলির ৫ দিন পর অনুষ্ঠিত হয় শিখ উৎসব ঝান্ডা মেলা, যা দেরাদুনের জনপ্রিয় উৎসব। এখানে অবস্থিত অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি, রয়্যাল ইন্ডিয়ান মিলিটারি কলেজ ও ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত শিক্ষাদান করা হয়। বুধবার ও রবিবার এখানকার মিলিটারি মিউজিয়ামটিও দেখে নিতে পারেন। শহর থেকে মাত্র ৫ কি. মি. দূরে ইংরেজদের হাতে গড়া ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটটি অবশ্যই দেখতে যাবেন ( FRI Timber Museum, Brandis Rd, Forest Research Institute, Indian Military Academy, Dehradun, Uttarakhand 248003 )। নানা প্রজাতির বৃক্ষ রয়েছে। এখানে অরণ্য নিয়ে গবেষণা করা হয়। ৬ টি গ্যালারিতে উদ্ভিদ বিজ্ঞানের নানা সংগ্রহ এবং অরণ্যচারী বিভিন্ন প্রানী এই মিউজিয়ামের আকর্ষণ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। রাজপুর রোডে আছে সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার অফিস ( Survey of India Office, Hathibarkala, Rajpur Road )। এই দপ্তরই এভারেস্টের উচ্চতা নির্ণয় করে। আবিষ্কারক ছিলেন রাধানাথ শিকদার, নামকরণ হয় তৎকালীন সার্ভেয়র জেনারেল অফ ইন্ডিয়া স্যার জর্জ এভারেস্টের নামে। শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে একক সংগ্রহে গড়ে তোলা ওয়াদিয়া ইনস্টিটিউট অফ হিমালয়ান জিওলজি মিউজিয়াম ( Wadia Institute of Himalayan Geology Museum, 33, General Mahadev Singh Rd, Vijay Park )। হিমালয় পর্বতের নানারকম পাথর ও ফসিলের প্রদর্শনী আছে। সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৫ টার মধ্যে দেখে নিতে পারেন। এখানে ভূবিজ্ঞান নিয়ে জোরদার গবেষণা চলছে। দুন স্কুল ( The Doon School, Mall Rd, Kishan Nagar Chowk, Krishna Nagar, Dehradun. ) আর এক আকর্ষণীয় জায়গা। ৮ কি. মি. দূরের Central Silk Board Sericulture Centre, Prem Nagar -এ গিয়ে রেশমগুটির চাষও দেখে নিতে পারেন।

সহস্রধারা প্রস্রবণ ( Sahastradhara Natural Spring ) - দেরাদুন শহরের কাছেই রয়েছে বিখ্যাত সহস্রধারা গন্ধক জলের প্রস্রবণ ও ঝরনা। সহস্রটি জলধারামুখ, তাই এর নাম সহস্রধারা। এই স্থানের চারিদিকে সবুজ পাহাড়, লতাগুল্ম ও মরশুমি ফুলের সমারোহ সত্যিই দেখার মতো। শরৎকালে ও বসন্তকালে বাসা বাঁধে নাম না জানা রঙবেরঙের নানা প্রজাতির পাখি। নামার পথে ডাইনে নল দিয়ে পড়ছে গন্ধক জল যা পেটের নানা অসুখের অব্যর্থ ওষুধ। পিকনিকও হয় এখানে। রেস্টুরেন্ট ও দোকানপাট প্রচুর আছে। শোনা যায় যে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু সময় পেলেই এখানে আসতেন। রেল স্টেশনের কাছ থেকে এই জায়গায় আসার অনেক বাস ছাড়ে।

তপকেশ্বর মহাদেব মন্দির ( Tapkeshwar Temple, Dehradun ) - টনস বা বিন্দাল নদীর তীরে মেইন রেল স্টেশন থেকে ৬ কি. মি. উত্তর-পশ্চিমে অত্যন্ত মনোরম পরিবেশে এই তপকেশ্বর মহাদেব মন্দিরটি অবস্থিত। স্কন্দপুরাণে আছে যে দ্বাপর যুগে আচার্য দ্রোণ এই দ্রোণাগুম্ফাতেই বাস করতেন। তাঁর পুত্র অশ্বত্থামার জন্মও এই গুম্ফাতে। অশ্বত্থামা তপস্যা করতেন তপকেশ্বর দেবতার। সেই থেকে জায়গাটির এই নাম। শিবরাত্রিতে দূর-দূরান্ত থেকে যাত্রী আসেন এখানে। ঢোকার মুখেই দূর্গা মন্দির। রয়েছে বাল্মীকি গুহা। সিটি বাস স্ট্যান্ড থেকে বাসে করে এখানে আসতে পারেন। আর একটু গিয়ে দেখে আসুন তিব্বতীয় গুহা ফ্রেস্কো ছবিতে সুশোভিত শাক্য সেন্টার।

রবার্স কেভ ( Robber's Cave, Gucchupani, Malsi ) - দেরাদুন শহর থেকে ৮ কি. মি. দূরে টনস বা বিন্দাল নদীর কাছে রবার্স কেভ বা ডাকাত গুহা অবস্থিত। স্থানীয় লোকেরা একে Guchu Pani-ও বলে থাকেন। এখন আর ডাকাতের দল না থাকলেও এই নিরালা নিভৃত স্থান আপনার দেহমনে এক ধরনের ভয়ের শিরশিরানি ভাব খেলিয়ে দেবে। টনস এখানে ফল্গুধারায় বইছে। অর্থাৎ, হঠাৎ করে নুড়ি পাথরের নীচে অদৃশ্য হয়ে বেশ কিছুটা দূরে আবার দৃশ্যমান হচ্ছে। ১ কি. মি. দূরের আনারওয়ালা গ্রাম পর্যন্ত বাস আসে শহরের বাসস্ট্যান্ড থেকে। বাকি পথ হেঁটে আসতে হবে। তবে গাড়িতে করে আসলে একদম সামনে এসে পৌঁছবেন।

                 আপনার ভ্রমণের তালিকায় ভারত বিখ্যাত কন্যা গুরুকুল ও সামরিক বিদ্যালয়ের নাম যুক্ত করতে পারেন। দেরাদুন শহর থেকে রাজপুর যাওয়ার পথে উঁচু জায়গায় সুন্দর পরিবেশের মাঝে এই বিদ্যালয় দুটি অবস্থান করছে। শীতকালে অসম্ভব শীত আর গ্রীষ্মকালে মনোরম স্নিগ্ধ আবহাওয়া যুক্ত এই স্থান। চারিদিকের বরফে ঢাকা পর্বতের দৃশ্য দেখে চোখ জুড়িয়ে যাবে। কন্যা গুরুকুল ( Kanya Gurukul Mahavidyalaya, Address - 60, Rajpur Rd, Kandholi, Chironwali, Dehradun, Uttarakhand 248001 ) হলো মেয়েদের জন্য। আর সামরিক বিদ্যালয়  হলো ছেলেদের জন্য। ভারতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি পুরোপুরি অনুসরণ করেই শিক্ষাদান করা হয়।

                     ৬ কি. মি. দূরে রয়েছে পৌরাণিক যুগের তপোবন ( Tapoban, Uttarakhand ), যেখানে রামানুজ লক্ষ্মণ ইন্দ্রজিৎ বধের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করেন। মহাভারতের যুগের দ্রোণাচার্যও নাকি এই পবিত্র তপোবনে প্রায়শ্চিত্ত করেন। হৃষিকেশ যাওয়ার পথে শহর থেকে মাত্র ১১ কিলোমিটার দূরে রয়েছে আর এক বিখ্যাত ধর্মস্থান লকসমন সিধ মন্দির ( Laxman Siddh Temple, Lachhiwala Range )। এখানে পূর্বে সাধুসন্তরা সাধনা করতেন। এটি সন্ত লকসমন সিধের স্মৃতি মন্দির। প্রতি রবিবার অনেক দূর-দূরান্ত থেকে পূণ্যার্থীরা আসেন পূজা দিতে।

চক্রাতা ( Chakrata ) - ভ্রমণ উৎসাহী যারা তাঁরা দেরাদুন রেল স্টেশন পার্শ্ববর্তী গান্ধী রোড বাসস্ট্যান্ড থেকে ঘন্টা তিনেকের বাসযাত্রায় কৈলানা পর্বতমালায় অবস্থিত ওক, ফার, রডোডেনড্রন গাছে পরিবৃত চক্রাতা ঘুরে আসতে পারেন। নির্জন গভীর অরণ্যের মাঝে অতি মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের একটি শৈলাবাস হলো এই চক্রাতা। ব্রিটিশ আমলে এই জৌনসারি উপজাতি অধ্যুষিত এলাকাটি ছিল সামরিক গ্রীষ্মাবাস। এখনও জায়গাটি ইন্ডিয়ান মিলিটারী বাহিনীর তত্ত্বাবধানে। বর্তমানে ধীরে ধীরে পর্যটনস্থল হিসেবে এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। প্রচুর হোটেল হয়েছে এবং হচ্ছে। যাত্রী সমাগমও ক্রমশঃ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যাওয়ার পথে Kalsi ও Sahiya -তে চেকিং গেট রয়েছে। কলসিতে ২ থেকে ২.৩০ ঘন্টা পরপর গেট খোলে। সহিয়াতে গেট খোলে ১ ঘন্টা অন্তর। বিদেশিদের এখানে যেতে RAP ( Restricted Area Permit ) লাগে। অনেকগুলি ভিউ পয়েন্ট আছে, মাত্র ৩ কি. মি. দূরে আছে খারাম্বা চূড়া, জিপে বা পায়ে হেঁটে যাওয়া যায় চিরিমিরি লেক, কাছেই রয়েছে দুটি সুন্দর জলপ্রপাত - Kimona ও Tiger Waterfalls, ১ কিমি চড়াই উঠেই থানাডান্ডা, ৬ কিলোমিটার দূরে আছে রামতাল গার্ডেন, প্রায় ২০ কি. মি. দূরত্বে অবস্থিত সুন্দর নৈসর্গিক শোভা সমৃদ্ধ চুরানি। ভাগ্য ভালো থাকলে উঁচু রিজ থেকে বন্যপ্রাণীর দর্শনও পেতে পারেন। এখান থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরের টিউনি হয়ে সিমলাতেও যেতে পারেন বাসে করে। টিউনির পথে পরবে চির, পাইন, ফার, ওক, দেবদারু ও সাইপ্রাসে ছাওয়া এবং অসংখ্য জানা-অজানা পাখির কলকাকলিতে মুখর বনভূমি সমৃদ্ধ কাথিয়ান ( Kathian ) নামের অনন্য সুন্দর একটি জায়গা। এখান থেকে দিগন্তবিস্তৃত হিমালয় পর্বতমালার অনেকগুলো নামকরা তুষারশুভ্র গিরিশিখর দেখতে পাওয়া যায়। ট্রেকিং করতে ইচ্ছুক যারা, তাঁরা ৩ দিন ট্রেক করেও Chakrata থেকে Kathiana -তে পৌঁছে যেতে পারেন।

ডাকপাথার ( Dakpathar ) - দেরাদুন থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে চক্রাতা যাওয়ার পথে শিবালিকের পাদদেশে যমুনা নদীর তীরে চারিদিকে পাহাড়ে ঘেরা এই জায়গাটি বিখ্যাত Dakpathar Yamuna Hydro Electricity Project - এর জন্য। এখানে জলবিদ্যুৎ তৈরি হয়। আর নদীর জল যাচ্ছে আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার চাষের জমিগুলোতে। এই স্থানেই যমুনা নদীর সাথে তমসা নদী মিলিত হয়েছে। ডিয়ার পার্ক, চিড়িয়াঘর, গোলাপ বাগান সমেত একটি Amusement Park এই জায়গাটির সৌন্দর্যে এক অন্যমাত্রা যোগ করেছে। সত্যিই পিকনিকের আদর্শ পরিবেশ।

আসান ব্যারেজ ( Assan Barrage Water Sports Resort ) - ডাকপাথার থেকে ১২ কি. মি. দূরত্বে এই আসান ব্যারেজ তথা ওয়াটার স্পোর্টস রিসর্টটি রয়েছে। আসান হলো যমুনার শাখানদী। কায়াক ও ক্যানোয় চেপে এই খরস্রোতা পাহাড়ি নদীতে জলক্রীড়ার আনন্দে নিজের শরীর-মন ভাসিয়ে দিন। ৭ দিনের মজার ওয়াটার স্কি কোর্সটিও করে নিতে পারেন এই রিসর্ট থেকে। ব্যারেজের জলাধার বা লেকের জলে নভেম্বর থেকে মার্চ মাসের মধ্যেকার সময়ে দেশান্তর থেকে চলে আসা জলচর পরিযায়ী পাখিদের ভেসে বেড়ানো ও হুটোপুটি নিজের চোখে সামনে থেকে দেখার মজাই আলাদা। GMVN এর Official তত্ত্বাবধানে এখানে থাকারও ব্যবস্থা আছে। [Tel. No. - ( 01360 ) 224098 / Mobile No. - 9568006652]

হরিপুর ( Haripur ) - দেরাদুন শহর থেকে ৫৭ কিলোমিটার দূরের হরিপুরের সুখ্যাতি নৈসর্গিক শোভার জন্য। এখান থেকে হিমালয়ের অপূর্ব রূপ দর্শন করতে সারা বছর ধরে দেশ-বিদেশের প্রচুর সংখ্যক পর্যটকের আনাগোনা চলতেই থাকে। যমুনা নদীর রূপ দর্শন আর এক বাড়তি পাওয়া।

এছাড়া, একই যাত্রায় লাখামন্ডল প্রাসাদ ( Lakhamandal Palace ) ও হরিপুরের পাশের কলসিতে ঘুরে আসুন। পুরাতত্ত্বের বিভিন্ন নিদর্শন নিয়ে লাখামন্ডলে একটি মিউজিয়াম তৈরি হয়েছে। কলসিতে ১৮৬০ সালে আবিষ্কৃত প্রাসাদ ( Kalsi Palace ) ও অশোকের শিলালিপি দেখে নিতে পারেন। চক্রাতায় একটা রাত অবস্থান করে এই দুটি জায়গা একসাথে দর্শন করা উচিৎ হবে।

কি কি কেনাকাটা করবেন? What are The Things You Should Buy ( Marketing ) While Traveling Here?

               উত্তরকাশী ও গাড়োয়াল তেহরির উৎপাদিত আপেলজাত নানা দ্রব্যের বাণিজ্যকেন্দ্র দেরাদুনে কেনাকাটা করার সেরা ও বিশ্বস্ত জায়গা হলো Paltan Bazar, Rajpur Road, Ashtley Hall, Connaught Place. বাঙালি মিষ্টির দোকান আছে ভিক্টোরিয়ান ক্লক টাওয়ারের কাছে। শীতকালে আসলে কেশর কা হালুয়ার স্বাদ নিতে ভুলবেন না। ভারত বিখ্যাত বাসমতী চাল, সোয়েটার, বালাপোশ, উলের পোশাকের যথেষ্ট সুনাম আছে, দামেও খানিকটা সস্তা। এখানকার দোকানগুলোতে ব্রাসের অনেক রকমের জিনিস পাবেন। লিচুরও সুখ্যাতি রয়েছে, খেয়ে পরখ করে দেখতে পারেন।

কিভাবে যাবেন? How to Reach / Go?

                    কলকাতা-হাওড়া থেকে ট্রেনে করে সরাসরি এখানে পৌঁছনো যায়। এছাড়া, দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে হয় সরাসরি না হয় ভায়া দিল্লি এখানে আসতে পারবেন রেলপথে। নিউ দিল্লি সমেত নিকটবর্তী সমস্ত বড়ো শহর থেকে বাস সার্ভিস ও রেন্টাল কার সার্ভিস চালু আছে। আর বিমানে আসতে হলে ভায়া দিল্লি বা চন্ডীগড় হয়ে আসতে হবে।

কোথায় থাকবেন? Where to Stay?

                     রেলস্টেশন ও বাসস্ট্যান্ডের আশেপাশে প্রচুর হোটেল, লজ, রেস্টুরেন্ট রয়েছে। একটু দরদাম করে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন। অথবা, আগে থেকে অনলাইন বুকিং করে তারপর যেতে পারেন। এই পেজের উপরের দিকে দেওয়া Trusted Website Link-এর মাধ্যমেও বুকিং করতে পারেন।